📄 অন্তর থেকে অহংকার বের করে দাও
এ কারণে হযরত থানভী রহ. বলেন যে, এ অহংকারের চিকিৎসা এই যে, মানুষ চিন্তা করবে যে, বড়ো বড়ো আলেম, বুযুর্গ, ইবাদতগুজার, মুত্তাকী ও পরহেযগারও যখন অহংকারে লিপ্ত হয়েছে, তখন তাদের পরিণতি মারাত্মক হয়েছে, না'উযুবিল্লাহ। তাই অন্তর থেকে অহংকার বের করে দাও। তুমি যদি দ্বীনের পথে লেগে থাকো, তাহলে এর অর্থ এই নয় যে, তুমি মানুষকে হেয় জ্ঞান করতে থাকবে এবং সকলকে জাহান্নামী মনে করতে থাকবে। এক হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
مَنْ قَالَ هَلَكَ النَّاسُ فَهُوَ أَهْلَكُهُمْ 'যে ব্যক্তি বলে যে, সারা দুনিয়ার মানুষ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, সে অধিক ধ্বংসপ্রাপ্ত।'
📄 অহংকারের চিকিৎসা আল্লাহমুখী হওয়া
যে ব্যক্তির নিজের দোষ চোখে পড়ে না, বরং সারা দুনিয়ার মানুষের দোষ তালাশ করে এবং তাদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, সে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ।
যখনই অন্তরে নিজের ইবাদত, ইলম, যুহদ ও দান-খয়রাতের চিন্তা জাগবে, সাথে সাথে আল্লাহর দিকে রুজু হবে এবং বলবে, হে আল্লাহ! এ কাজ আমার সাধ্যভুক্ত ছিলো না। আপনার দেওয়া তাওফীকের ফলে আমি এ কাজ করতে পেরেছি। তাই আমি আপনার শোকর আদায় করছি। একমাত্র আল্লাহর দিকে রুজু হওয়াতেই শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে পারবে। একই সাথে নিজের দোষের কথা চিন্তা করবে। যখন আল্লাহমুখী হওয়া এবং নিজের দোষের কথা চিন্তা করা এই দুই বিষয় একত্রিত হবে, তখন অহংকার সৃষ্টি হবে না।
📄 অতিরঞ্জিত বিনয়
এ মালফুযে হযরত বলেন, যারা দ্বীনের কাজ করে, তাদের মধ্যে একদিকে অহংকার সৃষ্টি হয়, আবার কতক সময় এর সম্পূর্ণ বিপরীত অতিরঞ্জিত বিনয় সৃষ্টি হয়। বিনয় ভালো জিনিস, কিন্তু তাও সীমার মধ্যে থাকা উচিত। সীমা অতিক্রম করে গেলে এটাও ক্ষতিকর।
📄 অতিরঞ্জিত বিনয়ের একটি ঘটনা
এ সম্পর্কে হযরত থানভী রহ. তাঁর ওয়াজের মধ্যে তাঁর দেখা একটি ঘটনা বর্ণনা করেন যে, একবার আমি রেল গাড়িতে সফর করছিলাম। আরো কিছু লোকও আমার নিকট বসা ছিলো। খানা খাওয়ার সময় হলে তারা তাদের খাবার বের করলো। দস্তরখান বিছালো। সাথীদেরকে একত্রিত করে খানা খেতে আরম্ভ করলো। আমরা যেমন বিনয়ের সাথে বলি যে, আসুন আপনিও ডাল-রুটি খান। সেভাবে তারাও পাশে বসা ব্যক্তিকে বিনয়ের সাথে বললো যে, আপনিও কিছু গু-মোত খান। তারা বিনয়ের কারণে নিজেদের খাবারকে গু-মোত বললো। না'উযুবিল্লাহ। আল্লাহ তা'আলার রিযিককে গু-মোত বলা এটা অতিরঞ্জিত বিনয়। বিনয়ের ফলে এমন কাজ করা, যার দ্বারা আল্লাহ তা'আলার নেয়ামতের না-শোকরি, হেয় প্রতিপন্ন ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য হয়, এটা খারাপ জিনিস। সীমাতিরিক্ত বিনয় অকৃতজ্ঞতা। কারণ, এর দ্বারা আল্লাহ তা'আলার তাকদীরের উপর আপত্তি করা হয়। এটা অতি মারাত্মক বিষয়。
টিকাঃ
৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৭৫৫, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৩৩১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৭৩৬০, মুওয়াত্তায়ে ইমাম মালেক, হাদীস নং ১৫৫৯