📄 শয়তানের দ্বিতীয় আক্রমণ
অল্পক্ষণ পর আরেকটা নূর ভেসে উঠলো। দিগন্ত আলোকিত হয়ে উঠলো। সেই নূরের মধ্যে থেকে আওয়াজ এলো-
হে আব্দুল কাদের! তোমার ইলম আজ তোমাকে রক্ষা করেছে। অন্যথায় কতো আবেদকে যে আমি এই আক্রমণ দ্বারা ধ্বংস করেছি, তার হিসাব নেই।
হযরত শাইখ আব্দুল কাদের জিলানী রহ. পুনরায় বললেন, 'হতভাগা আবারও আমাকে ধোঁকা দিচ্ছিস। আমার ইলম আমাকে রক্ষা করেনি, আল্লাহর অনুগ্রহ আমাকে রক্ষা করেছে।' এই দ্বিতীয় আক্রমণ ছিলো প্রথম আক্রমণের চেয়ে বিপদজনক ও মারাত্মক। কারণ, এর মাধ্যমে তার মধ্যে ইলমের অহমিকা ও গর্ব সৃষ্টি করতে চেয়েছিলো।
📄 দ্বিতীয় আক্রমণ ছিলো অধিক মারাত্মক
হযরত শাইখ আব্দুল ওয়াহহাব শা'রানী রহ. এ ঘটনা বর্ণনা করার পর বলেন যে, প্রথম আক্রমণ অধিক মারাত্মক ছিলো না। কারণ, যার কাছে সামান্য শরীয়তের ইলম থাকবে, সেও এ কথা বুঝতে পারবে যে, জীবনে যতোক্ষণ হুঁশ-জ্ঞান ঠিক আছে, ততোক্ষণ পর্যন্ত কোনো মানুষের ইবাদত মাফ হতে পারে না। কিন্তু দ্বিতীয় আক্রমণটি ছিলো অতি মারাত্মক। কতো মানুষ যে, এই আক্রমণে বিপথগামী হয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। কারণ, এর মাধ্যমে ইলমের অহংকার সৃষ্টি করা উদ্দেশ্য ছিলো, যা একটি সূক্ষ্ম বিষয়।
📄 অন্তর থেকে অহংকার বের করে দাও
এ কারণে হযরত থানভী রহ. বলেন যে, এ অহংকারের চিকিৎসা এই যে, মানুষ চিন্তা করবে যে, বড়ো বড়ো আলেম, বুযুর্গ, ইবাদতগুজার, মুত্তাকী ও পরহেযগারও যখন অহংকারে লিপ্ত হয়েছে, তখন তাদের পরিণতি মারাত্মক হয়েছে, না'উযুবিল্লাহ। তাই অন্তর থেকে অহংকার বের করে দাও। তুমি যদি দ্বীনের পথে লেগে থাকো, তাহলে এর অর্থ এই নয় যে, তুমি মানুষকে হেয় জ্ঞান করতে থাকবে এবং সকলকে জাহান্নামী মনে করতে থাকবে। এক হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
مَنْ قَالَ هَلَكَ النَّاسُ فَهُوَ أَهْلَكُهُمْ 'যে ব্যক্তি বলে যে, সারা দুনিয়ার মানুষ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, সে অধিক ধ্বংসপ্রাপ্ত।'
📄 অহংকারের চিকিৎসা আল্লাহমুখী হওয়া
যে ব্যক্তির নিজের দোষ চোখে পড়ে না, বরং সারা দুনিয়ার মানুষের দোষ তালাশ করে এবং তাদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, সে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ।
যখনই অন্তরে নিজের ইবাদত, ইলম, যুহদ ও দান-খয়রাতের চিন্তা জাগবে, সাথে সাথে আল্লাহর দিকে রুজু হবে এবং বলবে, হে আল্লাহ! এ কাজ আমার সাধ্যভুক্ত ছিলো না। আপনার দেওয়া তাওফীকের ফলে আমি এ কাজ করতে পেরেছি। তাই আমি আপনার শোকর আদায় করছি। একমাত্র আল্লাহর দিকে রুজু হওয়াতেই শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে পারবে। একই সাথে নিজের দোষের কথা চিন্তা করবে। যখন আল্লাহমুখী হওয়া এবং নিজের দোষের কথা চিন্তা করা এই দুই বিষয় একত্রিত হবে, তখন অহংকার সৃষ্টি হবে না।