📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 শাইখ আব্দুল কাদের জিলানী রহ.-এর একটি ঘটনা

📄 শাইখ আব্দুল কাদের জিলানী রহ.-এর একটি ঘটনা


হযরত শাইখ আব্দুল ওয়াহহাব শা'রানী রহ. অনেক উঁচু স্তরের আল্লাহর ওলী ছিলেন। তিনি হযরত শাইখ আব্দুল কাদের জিলানী রহ. সম্পর্কে একটি ঘটনা লিখেছেন। একবার হযরত শাইখ আব্দুল কাদের জিলানী রহ. তাহাজ্জুদের নামায পড়ছিলেন। এমন সময় তিনি দেখলেন যে, একটি নূর চমকালো। পুরো পরিবেশ আলোকিত হয়ে উঠলো। সেই আলোর মধ্যে থেকে আওয়াজ এলো- হে আব্দুল কাদের! তুমি আমার ইবাদতের হক আদায় করেছো। এ পর্যন্ত তুমি যতো ইবাদত করেছো, তাই যথেষ্ট। আজকের পর থেকে তোমার উপর নামায ফরয নয়, রোযা ফরয নয়, সমস্ত ইবাদতের কষ্ট তোমার থেকে তুলে নেওয়া হলো।
আলোর মধ্যে থেকে এই আওয়াজ এলো। যেন আল্লাহ তা'আলা বলছেন যে, তোমার ইবাদত এ পর্যায়ে কবুল হয়েছে যে, ভবিষ্যতে তোমার আর ইবাদত করতে হবে না। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহ. যখন এ নূর দেখলেন এবং এ আওয়াজ শুনলেন, তখন সাথে সাথে তিনি উত্তরে বললেন, 'হতভাগা! দূর হ, আমাকে ধোঁকা দিচ্ছিস। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালামা থেকে তো ইবাদত মাফ হয়নি, তাঁর উপর থেকে ইবাদতের দায়িত্ব রহিত হয়নি, আর আমার থেকে রহিত হচ্ছে। তুই আমাকে ধোঁকা দিতে চাস।'
দেখুন, শয়তান কতো বড়ো আক্রমণ করেছে! তার অন্তরে যদি ইবাদতের অহংকার চলে আসতো, তাহলে সেখানেই পদস্খলন ঘটতো। যেসব লোক অনেক বেশি কাশফ ও কারামতের পিছনে লেগে থাকে, তাদেরকে ধ্বংস করার জন্যে তো শয়তানের এটা উত্তম আক্রমণ ছিলো। কিন্তু তিনি তো ছিলেন শাইখ আব্দুল কাদের জিলানী রহ.। অবিলম্বে তিনি বুঝে ফেললেন যে, এ কথা আল্লাহর পক্ষ থেকে হতে পারে না। কারণ, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর থেকে ইবাদতের দায়িত্ব লোপ পায়নি। তাহলে আমার উপর থেকে কি করে লোপ পায়?

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 শয়তানের দ্বিতীয় আক্রমণ

📄 শয়তানের দ্বিতীয় আক্রমণ


অল্পক্ষণ পর আরেকটা নূর ভেসে উঠলো। দিগন্ত আলোকিত হয়ে উঠলো। সেই নূরের মধ্যে থেকে আওয়াজ এলো-
হে আব্দুল কাদের! তোমার ইলম আজ তোমাকে রক্ষা করেছে। অন্যথায় কতো আবেদকে যে আমি এই আক্রমণ দ্বারা ধ্বংস করেছি, তার হিসাব নেই।
হযরত শাইখ আব্দুল কাদের জিলানী রহ. পুনরায় বললেন, 'হতভাগা আবারও আমাকে ধোঁকা দিচ্ছিস। আমার ইলম আমাকে রক্ষা করেনি, আল্লাহর অনুগ্রহ আমাকে রক্ষা করেছে।' এই দ্বিতীয় আক্রমণ ছিলো প্রথম আক্রমণের চেয়ে বিপদজনক ও মারাত্মক। কারণ, এর মাধ্যমে তার মধ্যে ইলমের অহমিকা ও গর্ব সৃষ্টি করতে চেয়েছিলো।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 দ্বিতীয় আক্রমণ ছিলো অধিক মারাত্মক

📄 দ্বিতীয় আক্রমণ ছিলো অধিক মারাত্মক


হযরত শাইখ আব্দুল ওয়াহহাব শা'রানী রহ. এ ঘটনা বর্ণনা করার পর বলেন যে, প্রথম আক্রমণ অধিক মারাত্মক ছিলো না। কারণ, যার কাছে সামান্য শরীয়তের ইলম থাকবে, সেও এ কথা বুঝতে পারবে যে, জীবনে যতোক্ষণ হুঁশ-জ্ঞান ঠিক আছে, ততোক্ষণ পর্যন্ত কোনো মানুষের ইবাদত মাফ হতে পারে না। কিন্তু দ্বিতীয় আক্রমণটি ছিলো অতি মারাত্মক। কতো মানুষ যে, এই আক্রমণে বিপথগামী হয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। কারণ, এর মাধ্যমে ইলমের অহংকার সৃষ্টি করা উদ্দেশ্য ছিলো, যা একটি সূক্ষ্ম বিষয়।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 অন্তর থেকে অহংকার বের করে দাও

📄 অন্তর থেকে অহংকার বের করে দাও


এ কারণে হযরত থানভী রহ. বলেন যে, এ অহংকারের চিকিৎসা এই যে, মানুষ চিন্তা করবে যে, বড়ো বড়ো আলেম, বুযুর্গ, ইবাদতগুজার, মুত্তাকী ও পরহেযগারও যখন অহংকারে লিপ্ত হয়েছে, তখন তাদের পরিণতি মারাত্মক হয়েছে, না'উযুবিল্লাহ। তাই অন্তর থেকে অহংকার বের করে দাও। তুমি যদি দ্বীনের পথে লেগে থাকো, তাহলে এর অর্থ এই নয় যে, তুমি মানুষকে হেয় জ্ঞান করতে থাকবে এবং সকলকে জাহান্নামী মনে করতে থাকবে। এক হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
مَنْ قَالَ هَلَكَ النَّاسُ فَهُوَ أَهْلَكُهُمْ 'যে ব্যক্তি বলে যে, সারা দুনিয়ার মানুষ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, সে অধিক ধ্বংসপ্রাপ্ত।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00