📄 অন্তর কখন ঘুরে যায়
হযরত থানভী রহ. এ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে বলছেন যে, বাল'আম বাউরের ঘটনা এর একটি দৃষ্টান্ত। সে এতো বড়ো আলেম, আবেদ ও মুস্তাজাবুদ দা'ওয়াত ছিলো, মানুষ তার কাছে গিয়ে নিজেদের জন্যে দু'আ করাতো, কিন্তু তার পরিণতি হলো এই। মন ঘুরে যেতে সময় লাগে না। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা কারো অন্তরকে এমনিতেই অন্ধকারের দিকে ঘুরিয়ে দেন না যে, অকস্মাৎ একজন মুসলমান কাফের হয়ে যাবে। বরং তার আচরণ এমন হতে থাকে, যার ভিত্তিতে মন ঘুরে যায়। সেই আচরণ হলো, নিজের ইবাদতের কারণে অহমিকা চলে আসে, অহংকার সৃষ্টি হয়। অহংকারের ফলে বড়ো বড়োদের পা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে。
টিকাঃ
২. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩২৩৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪১০৮, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৯৮৫, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২০৭৫৬
৩. আ'রাফ: ১৭৫-১৭৬
📄 শাইখ আব্দুল কাদের জিলানী রহ.-এর একটি ঘটনা
হযরত শাইখ আব্দুল ওয়াহহাব শা'রানী রহ. অনেক উঁচু স্তরের আল্লাহর ওলী ছিলেন। তিনি হযরত শাইখ আব্দুল কাদের জিলানী রহ. সম্পর্কে একটি ঘটনা লিখেছেন। একবার হযরত শাইখ আব্দুল কাদের জিলানী রহ. তাহাজ্জুদের নামায পড়ছিলেন। এমন সময় তিনি দেখলেন যে, একটি নূর চমকালো। পুরো পরিবেশ আলোকিত হয়ে উঠলো। সেই আলোর মধ্যে থেকে আওয়াজ এলো- হে আব্দুল কাদের! তুমি আমার ইবাদতের হক আদায় করেছো। এ পর্যন্ত তুমি যতো ইবাদত করেছো, তাই যথেষ্ট। আজকের পর থেকে তোমার উপর নামায ফরয নয়, রোযা ফরয নয়, সমস্ত ইবাদতের কষ্ট তোমার থেকে তুলে নেওয়া হলো।
আলোর মধ্যে থেকে এই আওয়াজ এলো। যেন আল্লাহ তা'আলা বলছেন যে, তোমার ইবাদত এ পর্যায়ে কবুল হয়েছে যে, ভবিষ্যতে তোমার আর ইবাদত করতে হবে না। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহ. যখন এ নূর দেখলেন এবং এ আওয়াজ শুনলেন, তখন সাথে সাথে তিনি উত্তরে বললেন, 'হতভাগা! দূর হ, আমাকে ধোঁকা দিচ্ছিস। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালামা থেকে তো ইবাদত মাফ হয়নি, তাঁর উপর থেকে ইবাদতের দায়িত্ব রহিত হয়নি, আর আমার থেকে রহিত হচ্ছে। তুই আমাকে ধোঁকা দিতে চাস।'
দেখুন, শয়তান কতো বড়ো আক্রমণ করেছে! তার অন্তরে যদি ইবাদতের অহংকার চলে আসতো, তাহলে সেখানেই পদস্খলন ঘটতো। যেসব লোক অনেক বেশি কাশফ ও কারামতের পিছনে লেগে থাকে, তাদেরকে ধ্বংস করার জন্যে তো শয়তানের এটা উত্তম আক্রমণ ছিলো। কিন্তু তিনি তো ছিলেন শাইখ আব্দুল কাদের জিলানী রহ.। অবিলম্বে তিনি বুঝে ফেললেন যে, এ কথা আল্লাহর পক্ষ থেকে হতে পারে না। কারণ, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর থেকে ইবাদতের দায়িত্ব লোপ পায়নি। তাহলে আমার উপর থেকে কি করে লোপ পায়?
📄 শয়তানের দ্বিতীয় আক্রমণ
অল্পক্ষণ পর আরেকটা নূর ভেসে উঠলো। দিগন্ত আলোকিত হয়ে উঠলো। সেই নূরের মধ্যে থেকে আওয়াজ এলো-
হে আব্দুল কাদের! তোমার ইলম আজ তোমাকে রক্ষা করেছে। অন্যথায় কতো আবেদকে যে আমি এই আক্রমণ দ্বারা ধ্বংস করেছি, তার হিসাব নেই।
হযরত শাইখ আব্দুল কাদের জিলানী রহ. পুনরায় বললেন, 'হতভাগা আবারও আমাকে ধোঁকা দিচ্ছিস। আমার ইলম আমাকে রক্ষা করেনি, আল্লাহর অনুগ্রহ আমাকে রক্ষা করেছে।' এই দ্বিতীয় আক্রমণ ছিলো প্রথম আক্রমণের চেয়ে বিপদজনক ও মারাত্মক। কারণ, এর মাধ্যমে তার মধ্যে ইলমের অহমিকা ও গর্ব সৃষ্টি করতে চেয়েছিলো।
📄 দ্বিতীয় আক্রমণ ছিলো অধিক মারাত্মক
হযরত শাইখ আব্দুল ওয়াহহাব শা'রানী রহ. এ ঘটনা বর্ণনা করার পর বলেন যে, প্রথম আক্রমণ অধিক মারাত্মক ছিলো না। কারণ, যার কাছে সামান্য শরীয়তের ইলম থাকবে, সেও এ কথা বুঝতে পারবে যে, জীবনে যতোক্ষণ হুঁশ-জ্ঞান ঠিক আছে, ততোক্ষণ পর্যন্ত কোনো মানুষের ইবাদত মাফ হতে পারে না। কিন্তু দ্বিতীয় আক্রমণটি ছিলো অতি মারাত্মক। কতো মানুষ যে, এই আক্রমণে বিপথগামী হয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। কারণ, এর মাধ্যমে ইলমের অহংকার সৃষ্টি করা উদ্দেশ্য ছিলো, যা একটি সূক্ষ্ম বিষয়।