📄 সালেকীনের অহংকার ও অতিরঞ্জিত বিনয়ের চিকিৎসা
হযরত বলেন, দ্বীনের কাজ করার ফলে দুই ধরনের ব্যাধির সৃষ্টি হয়। এক অহংকার, আরেক অতিরঞ্জিত বিনয়। অহংকার তো এই যে, ওযীফা পড়ে করে নিজেকে বড়ো মনে করতে থাকে। নামায পড়ে বেনামাযীদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করতে থাকে। এর চিকিৎসা এ কথা চিন্তা করা যে, অহংকারের কারণে বড়ো বড়ো ইবাদতকারীর পা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। অভিষ্ট লক্ষ্যে তারা পৌঁছতে পারেনি। শয়তান ও বাল'আম বাউরের ঘটনা তার দৃষ্টান্ত। অতিরঞ্জিত বিনয় এই যে, নিজের নেক আমলের অবমূল্যায়ন করতে আরম্ভ করা। উদাহরণস্বরূপ মনে করে যে, যদিও আমি নামায পড়ছি, কিন্তু এর মধ্যে তো খুশু নেই। যিকির করছি, কিন্তু মোটেও নূর নেই। যেন পরোক্ষভাবে আল্লাহর উপর অভিযোগ আরোপ করছে। এর চিকিৎসা এ কথা বলা যে, হে আল্লাহ! আপনার শোকর যে, আপনি আমাকে যিকির ও নামাযের তাওফীক দান করেছেন। অন্যথায় আপনার বন্দেগী করার তো কোনো ক্ষমতা আমার ছিলো না।
📄 দ্বীনের পথ থেকে বিচ্যুত করা
এ মালফুযে হযরত বিপরীতমুখী দুই ব্যাধির কথা উল্লেখ করেছেন। যারা দ্বীনের কাজে মগ্ন হয়, শয়তান তাদেরকে দ্বীনের মাধ্যমে বিচ্যুত করে। শয়তানের প্রথম চেষ্টা তো হয় এই যে, আল্লাহর কোনো বান্দা যেন দ্বীনের কাজে না লাগে। বরং তাকে প্রবৃত্তির ভোগ ও গোনাহের কাজে এমনভাবে ফাঁসানো যায়, যেন দ্বীনের কোনো কাজের প্রতি তার মনোযোগই না থাকে। নামাযের দিকেও যেন মনোযোগ না থাকে, রোযার দিকেও যেন মনোযোগ না থাকে, যাকাত ও হজ্বের দিকেও যেন তার মনোযোগ না থাকে। বরং প্রবৃত্তির চাহিদার মধ্যে আটকা থাকে। আর যদি কোনো ব্যক্তি দ্বীনের কাজে লেগেই যায়, তখন সে এই চেষ্টা করে যে, যা কিছু দ্বীনের কাজ সে করছে, তা নষ্ট করে দেই। সুতরাং তা নষ্ট করার জন্যে শয়তান বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে। এ মালফুযে হযরত সেগুলোর মধ্যে থেকে দুটি পন্থার কথা উল্লেখ করেছেন।
📄 ধমক দেওয়ার সময়ও দু'আ করা
দ্বিতীয়ত যখন ধমক দিচ্ছি বা ধর-পাকড় করছি, তখনই আবার মনে মনে আল্লাহ তা'আলার কাছে এ দু'আও করি যে, হে আল্লাহ! আমাকে এভাবে ধরবেন না, আখেরাতে আমাকে এভাবে পাকড়াও করবেন না।
দেখুন! যে ব্যক্তি এই নিয়তে ধমক দেয় যে, নিষিদ্ধ কাজে বাধা দিতে হবে এবং এর ইসলাহ করা জরুরী। আমাদেরকে এর হুকুম দেওয়া হয়েছে। আবার প্রত্যেক ধমক ও ক্রোধের সময় এ দুই বিষয়ও লক্ষ রাখে, যে ক্রোধও ইবাদত নয় তো আর কি? মোটকথা, এভাবে এই দুই জিনিস একত্রিত হয় যে, ক্রোধও হচ্ছে এবং খারাপ কাজের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ হচ্ছে, কিন্তু নিজের থেকে তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করছে না। নিজেকে তার থেকে শ্রেষ্ঠও মনে করছে না। তবে এ যোগ্যতা মেহনত-মুজাহাদা এবং কারোর সামনে নিজেকে মিটিয়ে দেওয়ার পর আল্লাহ তা'আলার বিশেষ অনুগ্রহে লাভ হয়。
📄 অহংকারের মাধ্যমে বিচ্যুত করা
প্রথম পন্থা এই যে, যে দ্বীনের কাজ করে, তার অন্তরে শয়তান অহংকার, আত্মশ্লাঘা ও অহমিকা সৃষ্টি করে। যেমন সে তাকে বলে- তুমি অনেক উঁচু স্তরের মানুষ হয়েছো। অত্যন্ত খুশু খুযুর সাথে নামায পড়ো। নামায ও জামাতের পাবন্দি করো। অনেক মানুষ নামায পড়ে না, বরং গোনাহের কাজে লিপ্ত। এর ফলে নিজের বড়ত্ব ও বেনামাযীদের হেয়তা অন্তরে আসে। যারা ছোট মনের মানুষ, তারা যখন নিয়মিত নামায পড়তে আরম্ভ করে এবং আল্লাহর দিকে কিছুটা ঝুঁকতে আরম্ভ করে, তখন নিজেকে নিজে অনেক কিছু মনে করতে আরম্ভ করে。