📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 একটি চুটকি

📄 একটি চুটকি


একবার হযরত হাউজে ওযু করছিলেন। এমন সময় এক গ্রাম্য লোক বড়ো একটি তরমুজ এনে বলে- 'নে মৌলবী তোর জন্যে এনেছি। এটা কোথায় রাখবো?' হযরত ওযু করতে করতে বললেন, 'আমার মাথার উপর রাখো।' গ্রাম্য লোকটি তরমুজ তুলে হযরতের মাথার উপর রাখলো। লোকজন দৌড়ে এলো- এ কি আচরণ করছে! হযরত বললেন, 'ভুল আমার হয়েছে। আমিই বলেছি যে, মাথার উপর রাখো।' এমন সব লোক আসতো! তাদের তারবিয়াতের জন্যে কখনো তিনি রাগও হতেন। তিনি বলতেন যে, রাগ হওয়া আমার জন্যে ফরয। দিয়ানতের দাবি এটাই। এটা না করলে বদদিয়ানত হবে। আমানতের মধ্যে খেয়ানত হবে।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 আমার দৃষ্টান্ত

📄 আমার দৃষ্টান্ত


হযরত বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমি যখনই কারো উপর রাগ হই, তখন আমি এ কথা ভুলি না যে, আমার দৃষ্টান্ত এমন, যেমন কোনো বাদশাহ জল্লাদকে হুকুম দেয় যে, শাহজাদাকে বেত্রাঘাত করো। জল্লাদ হুকুম মাফিক শাহজাদাকে বেত্রাঘাত করে। কিন্তু ঠিক বেত্রাঘাত করার সময়ও সে নিজের শাহজাদার চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে না। সে জানে যে, এ শাহজাদা, আর আমি জল্লাদ। বাদশাহর হুকুম তামিলে বেত্রাঘাত করছি। আলহামদুলিল্লাহ! আমি যখন কাউকে ধমক দেই এবং কোনো বিষয়ে কাউকে ধরি, তখন এ কথা মনে থাকে যে, এ ব্যক্তি শাহজাদা, আর আমি জল্লাদ। আমি এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ নই。

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 সালেকীনের অহংকার ও অতিরঞ্জিত বিনয়ের চিকিৎসা

📄 সালেকীনের অহংকার ও অতিরঞ্জিত বিনয়ের চিকিৎসা


হযরত বলেন, দ্বীনের কাজ করার ফলে দুই ধরনের ব্যাধির সৃষ্টি হয়। এক অহংকার, আরেক অতিরঞ্জিত বিনয়। অহংকার তো এই যে, ওযীফা পড়ে করে নিজেকে বড়ো মনে করতে থাকে। নামায পড়ে বেনামাযীদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করতে থাকে। এর চিকিৎসা এ কথা চিন্তা করা যে, অহংকারের কারণে বড়ো বড়ো ইবাদতকারীর পা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। অভিষ্ট লক্ষ্যে তারা পৌঁছতে পারেনি। শয়তান ও বাল'আম বাউরের ঘটনা তার দৃষ্টান্ত। অতিরঞ্জিত বিনয় এই যে, নিজের নেক আমলের অবমূল্যায়ন করতে আরম্ভ করা। উদাহরণস্বরূপ মনে করে যে, যদিও আমি নামায পড়ছি, কিন্তু এর মধ্যে তো খুশু নেই। যিকির করছি, কিন্তু মোটেও নূর নেই। যেন পরোক্ষভাবে আল্লাহর উপর অভিযোগ আরোপ করছে। এর চিকিৎসা এ কথা বলা যে, হে আল্লাহ! আপনার শোকর যে, আপনি আমাকে যিকির ও নামাযের তাওফীক দান করেছেন। অন্যথায় আপনার বন্দেগী করার তো কোনো ক্ষমতা আমার ছিলো না।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 দ্বীনের পথ থেকে বিচ্যুত করা

📄 দ্বীনের পথ থেকে বিচ্যুত করা


এ মালফুযে হযরত বিপরীতমুখী দুই ব্যাধির কথা উল্লেখ করেছেন। যারা দ্বীনের কাজে মগ্ন হয়, শয়তান তাদেরকে দ্বীনের মাধ্যমে বিচ্যুত করে। শয়তানের প্রথম চেষ্টা তো হয় এই যে, আল্লাহর কোনো বান্দা যেন দ্বীনের কাজে না লাগে। বরং তাকে প্রবৃত্তির ভোগ ও গোনাহের কাজে এমনভাবে ফাঁসানো যায়, যেন দ্বীনের কোনো কাজের প্রতি তার মনোযোগই না থাকে। নামাযের দিকেও যেন মনোযোগ না থাকে, রোযার দিকেও যেন মনোযোগ না থাকে, যাকাত ও হজ্বের দিকেও যেন তার মনোযোগ না থাকে। বরং প্রবৃত্তির চাহিদার মধ্যে আটকা থাকে। আর যদি কোনো ব্যক্তি দ্বীনের কাজে লেগেই যায়, তখন সে এই চেষ্টা করে যে, যা কিছু দ্বীনের কাজ সে করছে, তা নষ্ট করে দেই। সুতরাং তা নষ্ট করার জন্যে শয়তান বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে। এ মালফুযে হযরত সেগুলোর মধ্যে থেকে দুটি পন্থার কথা উল্লেখ করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00