📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হযরত থানভী রহ.-এর তারবিয়াতের ধরন

📄 হযরত থানভী রহ.-এর তারবিয়াতের ধরন


আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে আমাদের চাওয়া এব যোগ্যতা ছাড়া এমন লোকদের সাথে যুক্ত করে দিয়েছেন, যারা দ্বীনের সাথে সম্পর্ক রাখে। দ্বীনের সাথে সম্পৃক্ত লোকেরা যখন এমন লোকদেরকে দেখে যারা দ্বীনের সাথে সম্পৃক্ত নয়, বরং গোনাহে লিপ্ত, তখন অনেক সময় তাদের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হয় এবং নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতি জাগ্রত হয়। মনে হয় যে, আমরা তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এখান থেকেই শয়তান বিপথগামী করে। জন্যে এ কথা মনে রাখবে যে, কারো ব্যক্তির প্রতি যেন ঘৃণা না থাকে। ঘৃণা থাকলে তার আমলের প্রতি থাকবে। তার মন্দ আমলের কারণে তার প্রতি সমব্যথী হতে হবে। আর সাথে সাথে চিন্তা করবে যে, হয়তো আল্লাহ তা'আলা তাকে তওবার তাওফীক দিবেন, ফলে সে আমার চেয়ে আগে বেড়ে যাবে।
হযরত থানভী রহ.-এর নিকট এমন পীর-মুরীদি ছিলো না যে, ইসলাহের জন্যে আগত ব্যক্তিদের শুধু ওযীফা বলে দিলেন। এবার সে খানকায় বসে বসে ওযীফা জপছে। আর ওযীফা জপার ফলে ভিতরে ভিতরে তার নফস ফুলছে। বরং কোনো ব্যক্তি যখন তাঁর নিকট তারবিয়াত গ্রহণের জন্যে আসে, তখন বাস্তবেই তিনি তার তারবিয়াত করতেন। আর তারবিয়াতের জন্যেই কখনো ধমক দেওয়ার, কখনো রাগ হওয়ার, আর কখনো শান্তি দেওয়ার প্রয়োজন পড়তো। এ কারনেই হযরত কড়া বলে প্রসিদ্ধ ছিলেন। হযরতের নিকট নিজেদের ইসলাহের জন্যে একদিকে যেমন জ্ঞানী-বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা আসতো, অপরদিকে অসভ্য গন্ড-মূর্খ ব্যক্তিরাও আসতো। হযরত প্রত্যেকের আখলাকী তারবিয়াত করতেন। মুআশারা ও মুআমালায় নিয়ম-নীতির পরিপন্থী কোনো কাজ করলে ধর-পাকড় করতেন। সে ক্ষেত্রেও প্রত্যেকের সাথে তার উপযুক্ত আচরণ করতেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 তুমি 'বলদ' হলে আমি 'কসাই'

📄 তুমি 'বলদ' হলে আমি 'কসাই'


একবার এক গ্রাম্য লোক আসে। সে নীতি পরিপন্থী কাজ করে। হযরত তাকে বুঝান। ধমক দেন। তখন ঐ গ্রাম্য লোকটি বলে- হযরত আমি তো বলদ। উত্তরে হযরত বলেন, আমিও তো কসাই। এভাবেই প্রত্যেকের সাথে তার উপযুক্ত আচরণ হতো。

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 একটি চুটকি

📄 একটি চুটকি


একবার হযরত হাউজে ওযু করছিলেন। এমন সময় এক গ্রাম্য লোক বড়ো একটি তরমুজ এনে বলে- 'নে মৌলবী তোর জন্যে এনেছি। এটা কোথায় রাখবো?' হযরত ওযু করতে করতে বললেন, 'আমার মাথার উপর রাখো।' গ্রাম্য লোকটি তরমুজ তুলে হযরতের মাথার উপর রাখলো। লোকজন দৌড়ে এলো- এ কি আচরণ করছে! হযরত বললেন, 'ভুল আমার হয়েছে। আমিই বলেছি যে, মাথার উপর রাখো।' এমন সব লোক আসতো! তাদের তারবিয়াতের জন্যে কখনো তিনি রাগও হতেন। তিনি বলতেন যে, রাগ হওয়া আমার জন্যে ফরয। দিয়ানতের দাবি এটাই। এটা না করলে বদদিয়ানত হবে। আমানতের মধ্যে খেয়ানত হবে।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 আমার দৃষ্টান্ত

📄 আমার দৃষ্টান্ত


হযরত বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমি যখনই কারো উপর রাগ হই, তখন আমি এ কথা ভুলি না যে, আমার দৃষ্টান্ত এমন, যেমন কোনো বাদশাহ জল্লাদকে হুকুম দেয় যে, শাহজাদাকে বেত্রাঘাত করো। জল্লাদ হুকুম মাফিক শাহজাদাকে বেত্রাঘাত করে। কিন্তু ঠিক বেত্রাঘাত করার সময়ও সে নিজের শাহজাদার চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে না। সে জানে যে, এ শাহজাদা, আর আমি জল্লাদ। বাদশাহর হুকুম তামিলে বেত্রাঘাত করছি। আলহামদুলিল্লাহ! আমি যখন কাউকে ধমক দেই এবং কোনো বিষয়ে কাউকে ধরি, তখন এ কথা মনে থাকে যে, এ ব্যক্তি শাহজাদা, আর আমি জল্লাদ। আমি এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ নই。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00