📄 গোনাহগারকে হেয় জ্ঞান করো না
হযরত বলেন যে, গোনাহগারের প্রতি রাগ করা এবং তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা তো জায়েয আছে, কিন্তু তাকে নিজের চেয়ে হেয় জ্ঞান করো না। কাউকে শাস্তি প্রদানের জন্যে কখনো তোমাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে, সাবধান তখন নিজেকে তার থেকে কখনোই ভালো মনে করবে না। হতে পারে ঐ অপরাধী ব্যক্তি শাহাজাদার মতো, আর তুমি চাকর ও জল্লাদের মতো। বলা বাহুল্য যে, অপরাধী শাহাজাদাকে বাদশাহ জল্লাদের হাতে শাস্তি প্রদান করলে জল্লাদ তার থেকে শ্রেষ্ঠ হতে পারে না।'
অর্থাৎ, একজন মানুষ খারাপ কাজ করছে, কোনো নাজায়েয ও গোনাহের কাজে লিপ্ত রয়েছে, তখন তার প্রতি তুমি রাগ হতে পারো, বিদ্বেষ রাখতে পারো, অর্থাৎ তার এই কাজকে ঘৃণা করতে পারো- কারণ, তার এ কাজ ঘৃণার যোগ্য- কিন্তু তাকে নিজের থেকে তুচ্ছ জ্ঞান করবে না। একদিকে তার খারাপ কাজকে খারাপ মনে করবে, অপরদিকে তাকে নিজের থেকে তুচ্ছ জ্ঞান করবে না- এ উভয় বিষয় কী করে একত্রিত হতে পারে?
টিকাঃ
১. আনফাসে ঈসা পৃঃ ১৫৫
📄 গোনাহের প্রতি ঘৃণা হবে, গোনাহগারের প্রতি নয়
বিষয়টিকে দুই শব্দে এভাবে বোঝো যে, 'ফিসক'কে ঘৃণা করবে, 'ফাসেক'কে নয়। অর্থাৎ, ব্যক্তি ফাসেককে ঘৃণা করবে না, বরং তার কাজকে ঘৃণা করবে। ব্যক্তি কাফেরকে ঘৃণা করবে না, কুফরকে ঘৃণা করবে। ফাসেক ও ফাজেরকে মনে করবে যে, এ ব্যক্তি অসুস্থ। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ার তাকে ঘৃণা করা হয় না, বরং রোগকে ঘৃণা করা হয়। বরং মানুষ রোগীর প্রতি সহমর্মী হয় যে, এ বেচারা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এমনিভাবে কোনো ব্যক্তি যদি গোনাহে লিপ্ত হয়, বা কোনো খারাপ কাজে লিপ্ত হয়, তাহলে তার খারাপ কাজকে ঘৃণা করবে, কিন্তু ঐ ব্যক্তির প্রতি সহমর্মী হবে।
📄 গোনাহগার ব্যক্তি সমবেদনার যোগ্য
আমার শ্বশুর (জনাব ভাই শারাফতুল্লাহ ছাহেব, আল্লাহ তা'আলা তারে শান্তি ও নিরাপদে রাখুন।) যখন গোনাহ বা খারাপ কাজে লিপ্ত কোনো ব্যক্তির কথা আলোচনা করেন, তখন তিনি এভাবে বলেন যে, 'অমুক বেচারা বিদআতের মধ্যে লিপ্ত হয়েছে।' তার জন্যে তিনি 'বেচারা' শব্দ ব্যবহার করেন। উদ্দেশ্য হলো, সে ব্যক্তি সমবেদদনার যোগ্য। কারণ, সে রোগে আক্রান্ত। এ জন্যে তার কাজ ঘৃণার যোগ্য, কিন্তু সে নিজে সমবেদনার যোগ্য। যেহেতু সে সমবেদনার যোগ্য, তাই তাকে হেয় জ্ঞান করা জায়েজ নয়। বিশেষত এই দৃষ্টিকোণ থেকে যে, হয়তো আল্লাহ তা'আলা তারে গোনাহ থেকে বাঁচার তাওফীক দান করবেন, তওবার তাওফীক দান করবেন, ফলে সে অনেক সম্মুখে অগ্রসর হবে। আর আমি এখানেই পড়ে থাকবো।। জন্যে কাউকে নিজের থেকে ছোট জ্ঞান করবে না।
📄 হযরত থানভী রহ.-এর তারবিয়াতের ধরন
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে আমাদের চাওয়া এব যোগ্যতা ছাড়া এমন লোকদের সাথে যুক্ত করে দিয়েছেন, যারা দ্বীনের সাথে সম্পর্ক রাখে। দ্বীনের সাথে সম্পৃক্ত লোকেরা যখন এমন লোকদেরকে দেখে যারা দ্বীনের সাথে সম্পৃক্ত নয়, বরং গোনাহে লিপ্ত, তখন অনেক সময় তাদের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হয় এবং নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতি জাগ্রত হয়। মনে হয় যে, আমরা তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এখান থেকেই শয়তান বিপথগামী করে। জন্যে এ কথা মনে রাখবে যে, কারো ব্যক্তির প্রতি যেন ঘৃণা না থাকে। ঘৃণা থাকলে তার আমলের প্রতি থাকবে। তার মন্দ আমলের কারণে তার প্রতি সমব্যথী হতে হবে। আর সাথে সাথে চিন্তা করবে যে, হয়তো আল্লাহ তা'আলা তাকে তওবার তাওফীক দিবেন, ফলে সে আমার চেয়ে আগে বেড়ে যাবে।
হযরত থানভী রহ.-এর নিকট এমন পীর-মুরীদি ছিলো না যে, ইসলাহের জন্যে আগত ব্যক্তিদের শুধু ওযীফা বলে দিলেন। এবার সে খানকায় বসে বসে ওযীফা জপছে। আর ওযীফা জপার ফলে ভিতরে ভিতরে তার নফস ফুলছে। বরং কোনো ব্যক্তি যখন তাঁর নিকট তারবিয়াত গ্রহণের জন্যে আসে, তখন বাস্তবেই তিনি তার তারবিয়াত করতেন। আর তারবিয়াতের জন্যেই কখনো ধমক দেওয়ার, কখনো রাগ হওয়ার, আর কখনো শান্তি দেওয়ার প্রয়োজন পড়তো। এ কারনেই হযরত কড়া বলে প্রসিদ্ধ ছিলেন। হযরতের নিকট নিজেদের ইসলাহের জন্যে একদিকে যেমন জ্ঞানী-বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা আসতো, অপরদিকে অসভ্য গন্ড-মূর্খ ব্যক্তিরাও আসতো। হযরত প্রত্যেকের আখলাকী তারবিয়াত করতেন। মুআশারা ও মুআমালায় নিয়ম-নীতির পরিপন্থী কোনো কাজ করলে ধর-পাকড় করতেন। সে ক্ষেত্রেও প্রত্যেকের সাথে তার উপযুক্ত আচরণ করতেন।