📄 হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহ.-এর চোরের পা চুম্বন করা
আমি আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব রহ.- এর নিকট হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহ.-এর ঘটনা শুনেছি যে, হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহ. কোথাও যাচ্ছিলেন। এক জায়গায় দেখলেন যে, এক ব্যক্তিকে শূলীতে ঝুলানো হয়েছে, তার এক হাত ও এক পা কাটা। তিনি লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন- কি হয়েছে? লোকেরা বললো, এ ব্যক্তি অভ্যস্ত চোর। প্রথমবার ধরা পড়লে তার হাত কাটা হয়, দ্বিতীয় বার ধরা পড়লে পা কাটা হয়, এবার তৃতীয় বার ধরা পড়লে তাকে শূলীতে চড়ানো হয়। হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহ. সম্মুখে অগ্রসর হয়ে তার পা চুম্বন করলেন। লোকেরা বললো, হযরত এ ব্যক্তি এতো বড়ো অভ্যস্ত চোর, আর আপনি তার পা চুম্বন করছেন! উত্তরে তিনি বললেন, যদিও এ ব্যক্তি মারাত্মক অপরাধ করেছে, গোনাহের কাজ করেছে, যে কারণে তাকে শান্তি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তার মধ্যে একটি অত্যাধিক উত্তম গুণ রয়েছে, তা হলো ইস্তিকামাত (অবিচলতা)। যদিও সে এ গুণকে ভুল জায়গায় ব্যবহার করেছে। সে যে কাজকে নিজের পেশা বানিয়েছে তার উপর সে অটল ছিলো, তার হাত কেটে দেওয়া হয়েছে, তার পরেও সে ঐ কাজ ছাড়েনি। পা কেটে দেওয়া হয়েছে তবুও তা ছাড়েনি। এমনকি তার মৃত্যুদন্ড হয়েছে, কিন্তু সে তার কাজে অটল ছিলো। এর দ্বারা জানা গেলো যে, তার মধ্যে ইস্তিকামাতের গুণ ছিলো। এই গুণের কারণে আমি তার পা চুম্বন করেছি। আল্লাহ তা'আলা যেন আমাদেরকে তাঁর ইবাদত ও বন্দেগীর কাজে এ গুণ দান করেন।
মোটকথা, আল্লাহর নেক বান্দাগণ মানুষকে ঘৃণা করেন না, তাদের মন্দ চরিত্রকে ঘৃণা করেন। তারা বলেন, কোনো খারাপ মানুষের মধ্যে ভালো গুণ থাকলে তা অর্জন কারার চেষ্টা করো, আর তার মধ্যে যে খারাপ দিক রয়েছে তা দূর করার চেষ্টা করো। তাকে ভালোবাসা ও মমতা দিয়ে বুঝাও। তাকেই গিয়ে বলো। অন্যের কাছে তার দোষ চর্চা করো না।
আমি আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব রহ.- এর নিকট হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহ.-এর ঘটনা শুনেছি যে, হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহ. কোথাও যাচ্ছিলেন। এক জায়গায় দেখলেন যে, এক ব্যক্তিকে শূলীতে ঝুলানো হয়েছে, তার এক হাত ও এক পা কাটা। তিনি লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন- কি হয়েছে? লোকেরা বললো, এ ব্যক্তি অভ্যস্ত চোর। প্রথমবার ধরা পড়লে তার হাত কাটা হয়, দ্বিতীয় বার ধরা পড়লে পা কাটা হয়, এবার তৃতীয় বার ধরা পড়লে তাকে শূলীতে চড়ানো হয়। হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহ. সম্মুখে অগ্রসর হয়ে তার পা চুম্বন করলেন। লোকেরা বললো, হযরত এ ব্যক্তি এতো বড়ো অভ্যস্ত চোর, আর আপনি তার পা চুম্বন করছেন! উত্তরে তিনি বললেন, যদিও এ ব্যক্তি মারাত্মক অপরাধ করেছে, গোনাহের কাজ করেছে, যে কারণে তাকে শান্তি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তার মধ্যে একটি অত্যাধিক উত্তম গুণ রয়েছে, তা হলো ইস্তিকামাত (অবিচলতা)। যদিও সে এ গুণকে ভুল জায়গায় ব্যবহার করেছে। সে যে কাজকে নিজের পেশা বানিয়েছে তার উপর সে অটল ছিলো, তার হাত কেটে দেওয়া হয়েছে, তার পরেও সে ঐ কাজ ছাড়েনি। পা কেটে দেওয়া হয়েছে তবুও তা ছাড়েনি। এমনকি তার মৃত্যুদন্ড হয়েছে, কিন্তু সে তার কাজে অটল ছিলো। এর দ্বারা জানা গেলো যে, তার মধ্যে ইস্তিকামাতের গুণ ছিলো। এই গুণের কারণে আমি তার পা চুম্বন করেছি। আল্লাহ তা'আলা যেন আমাদেরকে তাঁর ইবাদত ও বন্দেগীর কাজে এ গুণ দান করেন।
মোটকথা, আল্লাহর নেক বান্দাগণ মানুষকে ঘৃণা করেন না, তাদের মন্দ চরিত্রকে ঘৃণা করেন। তারা বলেন, কোনো খারাপ মানুষের মধ্যে ভালো গুণ থাকলে তা অর্জন কারার চেষ্টা করো, আর তার মধ্যে যে খারাপ দিক রয়েছে তা দূর করার চেষ্টা করো। তাকে ভালোবাসা ও মমতা দিয়ে বুঝাও। তাকেই গিয়ে বলো। অন্যের কাছে তার দোষ চর্চা করো না。
📄 এক মুমিন অপর মুমিনের জন্য আয়না স্বরূপ
হাদীস শরীফে এসেছে,
الْمُؤْمِنُ مِرْآةُ الْمُؤْمِنِ 'এক মুমিন অন্য মুমিনের আয়না। '
মানুষের চেহারায় কোনো দাগ লাগলে আর সে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালে আয়না তাকে বলে দেয় যে, তোমার চেহারায় এই দাগ লেগে আছে। আয়না যেন মানুষের দোষ বলে দেয়। এমনিভাবে একজন মুমিনও অন্য মুমিনের জন্যে আয়না স্বরূপ। অর্থাৎ, যখন একজন মুমিন অন্য মুমিনের মধ্যে কোনো দোষ দেখবে, তখন তাকে স্নেহ ও ভালোবাসার সাথে বলে দিবে যে, তোমার মধ্যে এই দোষ রয়েছে, তা দূর করো। যেমন কোনো মানুষের শরীরের উপর যদি কোনো পোকা বা পিঁপড়া হাঁটতে থাকে আর আপনি তা দেখেন, তখন ভালোবাসার দাবি হলো, আপনি তাকে বলে দিবেন যে, ভাই দেখো তোমার শরীরের উপর পোকা হাঁটছে তা ফেলে দাও। এমনিভাবে কোনো মুসলমানের মধ্যে দ্বীনের দিক থেকে কোনো খারাপি থাকলে স্নেহ-ভালোবাসার সাথে তাকে বলে দেওয়া উচিত যে, তোমার মধ্যে এই খারাপি রয়েছে। কারণ, এক মুমিন অন্য মুমিনের জন্যে আয়না স্বরূপ。
টিকাঃ
৪. সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪২৭২
হাদীস শরীফে এসেছে,
الْمُؤْمِنُ مِرْآةُ الْمُؤْمِنِ 'এক মুমিন অন্য মুমিনের আয়না। '
মানুষের চেহারায় কোনো দাগ লাগলে আর সে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালে আয়না তাকে বলে দেয় যে, তোমার চেহারায় এই দাগ লেগে আছে। আয়না যেন মানুষের দোষ বলে দেয়। এমনিভাবে একজন মুমিনও অন্য মুমিনের জন্যে আয়না স্বরূপ। অর্থাৎ, যখন একজন মুমিন অন্য মুমিনের মধ্যে কোনো দোষ দেখবে, তখন তাকে স্নেহ ও ভালোবাসার সাথে বলে দিবে যে, তোমার মধ্যে এই দোষ রয়েছে, তা দূর করো। যেমন কোনো মানুষের শরীরের উপর যদি কোনো পোকা বা পিঁপড়া হাঁটতে থাকে আর আপনি তা দেখেন, তখন ভালোবাসার দাবি হলো, আপনি তাকে বলে দিবেন যে, ভাই দেখো তোমার শরীরের উপর পোকা হাঁটছে তা ফেলে দাও। এমনিভাবে কোনো মুসলমানের মধ্যে দ্বীনের দিক থেকে কোনো খারাপি থাকলে স্নেহ-ভালোবাসার সাথে তাকে বলে দেওয়া উচিত যে, তোমার মধ্যে এই খারাপি রয়েছে। কারণ, এক মুমিন অন্য মুমিনের জন্যে আয়না স্বরূপ。
টিকাঃ
৪. সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪২৭২
📄 একজনের দোষ অন্যজনকে বলো না
হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. বলেন যে, এ হাদীস দ্বারা এ কথা জানা গেলো যে, তুমি যখন অন্য কারো মধ্যে কোনো দোষ দেখবে, তখন শুধু তাকেই বলবে যে, তোমার মধ্যে এই দোষ রয়েছে। অন্যকে বলবে না যে, অমুকের মধ্যে এই দোষ রয়েছে। কারণ, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিনকে আয়নার সাথে তুলনা করেছেন। যে ব্যক্তি আয়নার সামনে এসে দাঁড়ায়, আয়না কেবল তাকেই চেহারার দাগের কথা বলে দেয়। আয়না অন্যকে বলে না যে, অমুক ব্যক্তির চেহারায় দাগ রয়েছে। তাই 'একজন মুমিনের কাজ এই যে, যার মধ্যে কোনো দোষ বা খারাপ কিছু দেখবে শুধু তাকেই বলবে। অন্যদের সাথে আলোচনা করবে না যে, অমুকের মধ্যে এই দোষ রয়েছে। একজনের দোষের কথা যদি অন্যকে বলো, তার অর্থ হবে এর মধ্যে তোমার রিপু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তখন তা আর দ্বীনী কাজ থাকবে না। আর যদি শুধু তাকে নির্জনে স্নেহ-মমতার সাথে তার দোষের ব্যাপারে সতর্ক করো, তাহলে এটা হবে ভ্রাতৃত্ব ও ঈমানের দাবি। কিন্তু তাকে হেয় ও তুচ্ছ জ্ঞান করা কোনো অবস্থাতেই জায়েয নেই।
আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে বোঝার এবং আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
وَاخِرُ دَعْوَانَا آنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. বলেন যে, এ হাদীস দ্বারা এ কথা জানা গেলো যে, তুমি যখন অন্য কারো মধ্যে কোনো দোষ দেখবে, তখন শুধু তাকেই বলবে যে, তোমার মধ্যে এই দোষ রয়েছে। অন্যকে বলবে না যে, অমুকের মধ্যে এই দোষ রয়েছে। কারণ, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিনকে আয়নার সাথে তুলনা করেছেন। যে ব্যক্তি আয়নার সামনে এসে দাঁড়ায়, আয়না কেবল তাকেই চেহারার দাগের কথা বলে দেয়। আয়না অন্যকে বলে না যে, অমুক ব্যক্তির চেহারায় দাগ রয়েছে। তাই 'একজন মুমিনের কাজ এই যে, যার মধ্যে কোনো দোষ বা খারাপ কিছু দেখবে শুধু তাকেই বলবে। অন্যদের সাথে আলোচনা করবে না যে, অমুকের মধ্যে এই দোষ রয়েছে। একজনের দোষের কথা যদি অন্যকে বলো, তার অর্থ হবে এর মধ্যে তোমার রিপু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তখন তা আর দ্বীনী কাজ থাকবে না। আর যদি শুধু তাকে নির্জনে স্নেহ-মমতার সাথে তার দোষের ব্যাপারে সতর্ক করো, তাহলে এটা হবে ভ্রাতৃত্ব ও ঈমানের দাবি। কিন্তু তাকে হেয় ও তুচ্ছ জ্ঞান করা কোনো অবস্থাতেই জায়েয নেই।
আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে বোঝার এবং আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
وَاخِرُ دَعْوَانَا آنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ