📄 এ ব্যাধি কাদের মধ্যে পাওয়া যায়
এই তুচ্ছ জ্ঞান করার ব্যাধি সে সব লোকের মধ্যে বিশেষভাবে জন্মায়, যারা বদ-দ্বীনির পথ থেকে দ্বীনের দিকে ফিরে আসে। উদাহরণস্বরূপ, শুরুর দিকে যাদের দ্বীনী অবস্থা ভালো ছিলো না, পরবর্তীতে দ্বীনের দিকে এসেছে, নামায-রোযার অনুগামী হয়েছে, বেশ-ভূষা, পোষাক-আসাক শরীয়তসম্মত বানিয়েছে, মসজিদে আসতে আরম্ভ করেছে, জামাতের সাথে নিয়মিত নামায পড়তে আরম্ভ করেছে, এমন লোকদের অন্তরে শয়তান এ কথা ঢেলে দেয় যে, তুমি তো এখন সঠিক পথে এসেছো। আর যারা গোনাহে লিপ্ত, তার তো ধ্বংসের মধ্যে আছে। এর ফলে এ ব্যক্তি তাদেরকে তুচ্ছ ও হেয় জ্ঞান করতে থাকে, হেকারতের দৃষ্টিতে দেখতে থাকে এবং তাদের উপর এমনভাবে আপত্তি করতে থাকে যে, তাদের অন্তর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়। এর ফলে শয়তান তাকে আত্মশ্লাঘা, অহমিকা, অহংকার ও আত্মম্ভরিতায় লিপ্ত করে। যখন মানুষের মধ্যে অহংকার ও আত্মশ্লাঘা চলে আসে, তখন তা মানুষের সব আমলকে বরবাদ করে দেয়। যখন মানুষের দৃষ্টি এ দিকে যায় যে, আমি বড়ো নেককার, আর অন্যেরা খারাপ, তখনই মানুষ আত্মশ্লাঘায় লিপ্ত হয়ে যায়। আর আত্মশ্লাঘার ফলে তার সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যায়। কারণ, ঐ আমল মাকবুল, যা ইখলাসের সাথে আল্লাহর জন্যে করা হয়। যে আমলের পর মানুষ আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করে যে, তিনি আমাকে এর তাওফীক দান করেছেন। এ কারণে কারো সঙ্গে হেয়তার আচরণ করা উচিত নয়। কোনো কাফের, ফাসেক ও ফাজেরকেও তুচ্ছ জ্ঞান করা উচিত নয়।
এই তুচ্ছ জ্ঞান করার ব্যাধি সে সব লোকের মধ্যে বিশেষভাবে জন্মায়, যারা বদ-দ্বীনির পথ থেকে দ্বীনের দিকে ফিরে আসে। উদাহরণস্বরূপ, শুরুর দিকে যাদের দ্বীনী অবস্থা ভালো ছিলো না, পরবর্তীতে দ্বীনের দিকে এসেছে, নামায-রোযার অনুগামী হয়েছে, বেশ-ভূষা, পোষাক-আসাক শরীয়তসম্মত বানিয়েছে, মসজিদে আসতে আরম্ভ করেছে, জামাতের সাথে নিয়মিত নামায পড়তে আরম্ভ করেছে, এমন লোকদের অন্তরে শয়তান এ কথা ঢেলে দেয় যে, তুমি তো এখন সঠিক পথে এসেছো। আর যারা গোনাহে লিপ্ত, তার তো ধ্বংসের মধ্যে আছে। এর ফলে এ ব্যক্তি তাদেরকে তুচ্ছ ও হেয় জ্ঞান করতে থাকে, হেকারতের দৃষ্টিতে দেখতে থাকে এবং তাদের উপর এমনভাবে আপত্তি করতে থাকে যে, তাদের অন্তর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়। এর ফলে শয়তান তাকে আত্মশ্লাঘা, অহমিকা, অহংকার ও আত্মম্ভরিতায় লিপ্ত করে। যখন মানুষের মধ্যে অহংকার ও আত্মশ্লাঘা চলে আসে, তখন তা মানুষের সব আমলকে বরবাদ করে দেয়। যখন মানুষের দৃষ্টি এ দিকে যায় যে, আমি বড়ো নেককার, আর অন্যেরা খারাপ, তখনই মানুষ আত্মশ্লাঘায় লিপ্ত হয়ে যায়। আর আত্মশ্লাঘার ফলে তার সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যায়। কারণ, ঐ আমল মাকবুল, যা ইখলাসের সাথে আল্লাহর জন্যে করা হয়। যে আমলের পর মানুষ আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করে যে, তিনি আমাকে এর তাওফীক দান করেছেন। এ কারণে কারো সঙ্গে হেয়তার আচরণ করা উচিত নয়। কোনো কাফের, ফাসেক ও ফাজেরকেও তুচ্ছ জ্ঞান করা উচিত নয়。
📄 কাউকে অসুস্থ দেখলে এই দু'আ পাঠ করুন
হাদীস শরীফে এসেছে যে, কোনো মানুষ অন্যকে রোগাক্রান্ত দেখলে এই দু'আ পাঠ করবে,
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلَاكَ بِهِ وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلًا
'ঐ আল্লাহর শোকর, যিনি আমাকে এই রোগ থেকে মুক্তি দিয়েছেন, যাতে তোমাকে আক্রান্ত করেছেন এবং আমাকে তাঁর অনেক সৃষ্টির উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।'
টিকাঃ
৩. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩১৭৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৮৮২
হাদীস শরীফে এসেছে যে, কোনো মানুষ অন্যকে রোগাক্রান্ত দেখলে এই দু'আ পাঠ করবে,
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلَاكَ بِهِ وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلًا
'ঐ আল্লাহর শোকর, যিনি আমাকে এই রোগ থেকে মুক্তি দিয়েছেন, যাতে তোমাকে আক্রান্ত করেছেন এবং আমাকে তাঁর অনেক সৃষ্টির উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।'
টিকাঃ
৩. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩১৭৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৮৮২
📄 কাউকে গোনাহে লিপ্ত দেখলে এ দু'আ-ই পাঠ করবে
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু'আ সম্পর্কে বলেছেন যে, যদি কেউ রোগাক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে দেখে এই দু'আ পাঠ করে, তাহলে যতোদিন সে জীবিত থাকবে, ঐ রোগে আক্রান্ত হবে না। এ দু'আ পাঠ করার পর তার প্রতি তুচ্ছ জ্ঞান ও ঘৃণা থাকবে না, বরং অন্তরে আল্লাহ তা'আলার শোকর জাগ্রত হবে যে, হে আল্লাহ! আপনি আমাকে এই রোগ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। সাথে সাথে ঐ ব্যক্তির জন্যেও দু'আ আসবে যে, আল্লাহ তাদেরকে হেদায়েত দান করুন। তাদেরকে এই রোগ থেকে মুক্তি দান করুন। মোটকথা, কুফরীর প্রতি ঘৃণা থাকবে; গোনাহ, নাফরমানী ও পাপ কাজের প্রতি ঘৃণা থাকবে, কিন্তু মানুষকে ঘৃণা করবে না, তার সঙ্গে ভালোবাসা ও মমতার আচরণ করবে। তাকে কোনো কথা বলতে হলে স্নেহ ও নম্রতার সাথে বলবে। সহমর্মিতা ও ভালোবাসার সাথে বলবে। যাতে তার উপর ভালো প্রভাব পড়ে। আমাদের সকল বুযুর্গের আমল এমনই ছিলো।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু'আ সম্পর্কে বলেছেন যে, যদি কেউ রোগাক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে দেখে এই দু'আ পাঠ করে, তাহলে যতোদিন সে জীবিত থাকবে, ঐ রোগে আক্রান্ত হবে না। এ দু'আ পাঠ করার পর তার প্রতি তুচ্ছ জ্ঞান ও ঘৃণা থাকবে না, বরং অন্তরে আল্লাহ তা'আলার শোকর জাগ্রত হবে যে, হে আল্লাহ! আপনি আমাকে এই রোগ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। সাথে সাথে ঐ ব্যক্তির জন্যেও দু'আ আসবে যে, আল্লাহ তাদেরকে হেদায়েত দান করুন। তাদেরকে এই রোগ থেকে মুক্তি দান করুন। মোটকথা, কুফরীর প্রতি ঘৃণা থাকবে; গোনাহ, নাফরমানী ও পাপ কাজের প্রতি ঘৃণা থাকবে, কিন্তু মানুষকে ঘৃণা করবে না, তার সঙ্গে ভালোবাসা ও মমতার আচরণ করবে। তাকে কোনো কথা বলতে হলে স্নেহ ও নম্রতার সাথে বলবে। সহমর্মিতা ও ভালোবাসার সাথে বলবে। যাতে তার উপর ভালো প্রভাব পড়ে। আমাদের সকল বুযুর্গের আমল এমনই ছিলো।
📄 হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহ.-এর চোরের পা চুম্বন করা
আমি আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব রহ.- এর নিকট হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহ.-এর ঘটনা শুনেছি যে, হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহ. কোথাও যাচ্ছিলেন। এক জায়গায় দেখলেন যে, এক ব্যক্তিকে শূলীতে ঝুলানো হয়েছে, তার এক হাত ও এক পা কাটা। তিনি লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন- কি হয়েছে? লোকেরা বললো, এ ব্যক্তি অভ্যস্ত চোর। প্রথমবার ধরা পড়লে তার হাত কাটা হয়, দ্বিতীয় বার ধরা পড়লে পা কাটা হয়, এবার তৃতীয় বার ধরা পড়লে তাকে শূলীতে চড়ানো হয়। হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহ. সম্মুখে অগ্রসর হয়ে তার পা চুম্বন করলেন। লোকেরা বললো, হযরত এ ব্যক্তি এতো বড়ো অভ্যস্ত চোর, আর আপনি তার পা চুম্বন করছেন! উত্তরে তিনি বললেন, যদিও এ ব্যক্তি মারাত্মক অপরাধ করেছে, গোনাহের কাজ করেছে, যে কারণে তাকে শান্তি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তার মধ্যে একটি অত্যাধিক উত্তম গুণ রয়েছে, তা হলো ইস্তিকামাত (অবিচলতা)। যদিও সে এ গুণকে ভুল জায়গায় ব্যবহার করেছে। সে যে কাজকে নিজের পেশা বানিয়েছে তার উপর সে অটল ছিলো, তার হাত কেটে দেওয়া হয়েছে, তার পরেও সে ঐ কাজ ছাড়েনি। পা কেটে দেওয়া হয়েছে তবুও তা ছাড়েনি। এমনকি তার মৃত্যুদন্ড হয়েছে, কিন্তু সে তার কাজে অটল ছিলো। এর দ্বারা জানা গেলো যে, তার মধ্যে ইস্তিকামাতের গুণ ছিলো। এই গুণের কারণে আমি তার পা চুম্বন করেছি। আল্লাহ তা'আলা যেন আমাদেরকে তাঁর ইবাদত ও বন্দেগীর কাজে এ গুণ দান করেন।
মোটকথা, আল্লাহর নেক বান্দাগণ মানুষকে ঘৃণা করেন না, তাদের মন্দ চরিত্রকে ঘৃণা করেন। তারা বলেন, কোনো খারাপ মানুষের মধ্যে ভালো গুণ থাকলে তা অর্জন কারার চেষ্টা করো, আর তার মধ্যে যে খারাপ দিক রয়েছে তা দূর করার চেষ্টা করো। তাকে ভালোবাসা ও মমতা দিয়ে বুঝাও। তাকেই গিয়ে বলো। অন্যের কাছে তার দোষ চর্চা করো না।
আমি আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব রহ.- এর নিকট হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহ.-এর ঘটনা শুনেছি যে, হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহ. কোথাও যাচ্ছিলেন। এক জায়গায় দেখলেন যে, এক ব্যক্তিকে শূলীতে ঝুলানো হয়েছে, তার এক হাত ও এক পা কাটা। তিনি লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন- কি হয়েছে? লোকেরা বললো, এ ব্যক্তি অভ্যস্ত চোর। প্রথমবার ধরা পড়লে তার হাত কাটা হয়, দ্বিতীয় বার ধরা পড়লে পা কাটা হয়, এবার তৃতীয় বার ধরা পড়লে তাকে শূলীতে চড়ানো হয়। হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহ. সম্মুখে অগ্রসর হয়ে তার পা চুম্বন করলেন। লোকেরা বললো, হযরত এ ব্যক্তি এতো বড়ো অভ্যস্ত চোর, আর আপনি তার পা চুম্বন করছেন! উত্তরে তিনি বললেন, যদিও এ ব্যক্তি মারাত্মক অপরাধ করেছে, গোনাহের কাজ করেছে, যে কারণে তাকে শান্তি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তার মধ্যে একটি অত্যাধিক উত্তম গুণ রয়েছে, তা হলো ইস্তিকামাত (অবিচলতা)। যদিও সে এ গুণকে ভুল জায়গায় ব্যবহার করেছে। সে যে কাজকে নিজের পেশা বানিয়েছে তার উপর সে অটল ছিলো, তার হাত কেটে দেওয়া হয়েছে, তার পরেও সে ঐ কাজ ছাড়েনি। পা কেটে দেওয়া হয়েছে তবুও তা ছাড়েনি। এমনকি তার মৃত্যুদন্ড হয়েছে, কিন্তু সে তার কাজে অটল ছিলো। এর দ্বারা জানা গেলো যে, তার মধ্যে ইস্তিকামাতের গুণ ছিলো। এই গুণের কারণে আমি তার পা চুম্বন করেছি। আল্লাহ তা'আলা যেন আমাদেরকে তাঁর ইবাদত ও বন্দেগীর কাজে এ গুণ দান করেন।
মোটকথা, আল্লাহর নেক বান্দাগণ মানুষকে ঘৃণা করেন না, তাদের মন্দ চরিত্রকে ঘৃণা করেন। তারা বলেন, কোনো খারাপ মানুষের মধ্যে ভালো গুণ থাকলে তা অর্জন কারার চেষ্টা করো, আর তার মধ্যে যে খারাপ দিক রয়েছে তা দূর করার চেষ্টা করো। তাকে ভালোবাসা ও মমতা দিয়ে বুঝাও। তাকেই গিয়ে বলো। অন্যের কাছে তার দোষ চর্চা করো না。