📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হযরত থানভী রহ.-এর অন্যদেরকে শ্রেষ্ঠ মনে করা

📄 হযরত থানভী রহ.-এর অন্যদেরকে শ্রেষ্ঠ মনে করা


আমি আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব রহ. থেকে এবং হযরত ডা. আব্দুল হাই ছাহেব রহ. থেকে হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর এ উক্তি শুনেছি যে, আমি প্রত্যেক মুসলমানকে বর্তমান অবস্থায় এবং প্রত্যেক কাফেরকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অবস্থায় নিজের থেকে শ্রেষ্ঠ মনে করি। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অবস্থার অর্থ এই যে, যদিও এখন সে কুফরীর মধ্যে লিপ্ত, কিন্তু জানা তো নেই হয় তো আল্লাহ তা'আলা তাকে তওবার তাওফীক দান করবেন, ফলে সে কুফরীর গোনাহ থেকে রক্ষা পাবে। অতপর আল্লাহ তা'আলা তাকে এতো উঁচু মর্যাদা দান করবেন যে, সে আমার থেকেও সম্মুখে অগ্রসর হবে। আর যে ব্যক্তি মুসলমান, যার ঈমান আছে, আল্লাহ তা'আলা তাকে ঈমানের দৌলত দান করেছেন। আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে তার অবস্থা কী, তা তো জানা নেই। কারণ, আল্লাহর সঙ্গে প্রত্যেক মানুষের অবস্থা ভিন্ন হয়ে থাকে। কারো সম্পর্কে আমরা কী করে মন্তব্য করতে পারি যে, সে এমন। এ জন্যে আমি প্রত্যেক মুসলমানকে আমার থেকে শ্রেষ্ঠ মনে করি। বলা বাহুল্য যে, এখানে মিথ্যা ও বানিয়ে বলার কোনো সম্ভাবনা নেই যে, এমনিতেই সৌজন্যেমূলকভাবে বলেছেন যে, আমি প্রত্যেক মুসলমানকে নিজের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করি। নিশ্চিতভাবেই তিনি এমন মনে করতেন বলেই তা বলেছেন। মোটকথা, কাউকে গোনাহ ও নাফরমানীর কারণেও তুচ্ছ জ্ঞান করা জায়েয নেই।

আমি আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব রহ. থেকে এবং হযরত ডা. আব্দুল হাই ছাহেব রহ. থেকে হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর এ উক্তি শুনেছি যে, আমি প্রত্যেক মুসলমানকে বর্তমান অবস্থায় এবং প্রত্যেক কাফেরকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অবস্থায় নিজের থেকে শ্রেষ্ঠ মনে করি। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অবস্থার অর্থ এই যে, যদিও এখন সে কুফরীর মধ্যে লিপ্ত, কিন্তু জানা তো নেই হয় তো আল্লাহ তা'আলা তাকে তওবার তাওফীক দান করবেন, ফলে সে কুফরীর গোনাহ থেকে রক্ষা পাবে। অতপর আল্লাহ তা'আলা তাকে এতো উঁচু মর্যাদা দান করবেন যে, সে আমার থেকেও সম্মুখে অগ্রসর হবে। আর যে ব্যক্তি মুসলমান, যার ঈমান আছে, আল্লাহ তা'আলা তাকে ঈমানের দৌলত দান করেছেন। আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে তার অবস্থা কী, তা তো জানা নেই। কারণ, আল্লাহর সঙ্গে প্রত্যেক মানুষের অবস্থা ভিন্ন হয়ে থাকে। কারো সম্পর্কে আমরা কী করে মন্তব্য করতে পারি যে, সে এমন। এ জন্যে আমি প্রত্যেক মুসলমানকে আমার থেকে শ্রেষ্ঠ মনে করি। বলা বাহুল্য যে, এখানে মিথ্যা ও বানিয়ে বলার কোনো সম্ভাবনা নেই যে, এমনিতেই সৌজন্যেমূলকভাবে বলেছেন যে, আমি প্রত্যেক মুসলমানকে নিজের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করি। নিশ্চিতভাবেই তিনি এমন মনে করতেন বলেই তা বলেছেন। মোটকথা, কাউকে গোনাহ ও নাফরমানীর কারণেও তুচ্ছ জ্ঞান করা জায়েয নেই।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 এ ব্যাধি কাদের মধ্যে পাওয়া যায়

📄 এ ব্যাধি কাদের মধ্যে পাওয়া যায়


এই তুচ্ছ জ্ঞান করার ব্যাধি সে সব লোকের মধ্যে বিশেষভাবে জন্মায়, যারা বদ-দ্বীনির পথ থেকে দ্বীনের দিকে ফিরে আসে। উদাহরণস্বরূপ, শুরুর দিকে যাদের দ্বীনী অবস্থা ভালো ছিলো না, পরবর্তীতে দ্বীনের দিকে এসেছে, নামায-রোযার অনুগামী হয়েছে, বেশ-ভূষা, পোষাক-আসাক শরীয়তসম্মত বানিয়েছে, মসজিদে আসতে আরম্ভ করেছে, জামাতের সাথে নিয়মিত নামায পড়তে আরম্ভ করেছে, এমন লোকদের অন্তরে শয়তান এ কথা ঢেলে দেয় যে, তুমি তো এখন সঠিক পথে এসেছো। আর যারা গোনাহে লিপ্ত, তার তো ধ্বংসের মধ্যে আছে। এর ফলে এ ব্যক্তি তাদেরকে তুচ্ছ ও হেয় জ্ঞান করতে থাকে, হেকারতের দৃষ্টিতে দেখতে থাকে এবং তাদের উপর এমনভাবে আপত্তি করতে থাকে যে, তাদের অন্তর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়। এর ফলে শয়তান তাকে আত্মশ্লাঘা, অহমিকা, অহংকার ও আত্মম্ভরিতায় লিপ্ত করে। যখন মানুষের মধ্যে অহংকার ও আত্মশ্লাঘা চলে আসে, তখন তা মানুষের সব আমলকে বরবাদ করে দেয়। যখন মানুষের দৃষ্টি এ দিকে যায় যে, আমি বড়ো নেককার, আর অন্যেরা খারাপ, তখনই মানুষ আত্মশ্লাঘায় লিপ্ত হয়ে যায়। আর আত্মশ্লাঘার ফলে তার সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যায়। কারণ, ঐ আমল মাকবুল, যা ইখলাসের সাথে আল্লাহর জন্যে করা হয়। যে আমলের পর মানুষ আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করে যে, তিনি আমাকে এর তাওফীক দান করেছেন। এ কারণে কারো সঙ্গে হেয়তার আচরণ করা উচিত নয়। কোনো কাফের, ফাসেক ও ফাজেরকেও তুচ্ছ জ্ঞান করা উচিত নয়।

এই তুচ্ছ জ্ঞান করার ব্যাধি সে সব লোকের মধ্যে বিশেষভাবে জন্মায়, যারা বদ-দ্বীনির পথ থেকে দ্বীনের দিকে ফিরে আসে। উদাহরণস্বরূপ, শুরুর দিকে যাদের দ্বীনী অবস্থা ভালো ছিলো না, পরবর্তীতে দ্বীনের দিকে এসেছে, নামায-রোযার অনুগামী হয়েছে, বেশ-ভূষা, পোষাক-আসাক শরীয়তসম্মত বানিয়েছে, মসজিদে আসতে আরম্ভ করেছে, জামাতের সাথে নিয়মিত নামায পড়তে আরম্ভ করেছে, এমন লোকদের অন্তরে শয়তান এ কথা ঢেলে দেয় যে, তুমি তো এখন সঠিক পথে এসেছো। আর যারা গোনাহে লিপ্ত, তার তো ধ্বংসের মধ্যে আছে। এর ফলে এ ব্যক্তি তাদেরকে তুচ্ছ ও হেয় জ্ঞান করতে থাকে, হেকারতের দৃষ্টিতে দেখতে থাকে এবং তাদের উপর এমনভাবে আপত্তি করতে থাকে যে, তাদের অন্তর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়। এর ফলে শয়তান তাকে আত্মশ্লাঘা, অহমিকা, অহংকার ও আত্মম্ভরিতায় লিপ্ত করে। যখন মানুষের মধ্যে অহংকার ও আত্মশ্লাঘা চলে আসে, তখন তা মানুষের সব আমলকে বরবাদ করে দেয়। যখন মানুষের দৃষ্টি এ দিকে যায় যে, আমি বড়ো নেককার, আর অন্যেরা খারাপ, তখনই মানুষ আত্মশ্লাঘায় লিপ্ত হয়ে যায়। আর আত্মশ্লাঘার ফলে তার সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যায়। কারণ, ঐ আমল মাকবুল, যা ইখলাসের সাথে আল্লাহর জন্যে করা হয়। যে আমলের পর মানুষ আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করে যে, তিনি আমাকে এর তাওফীক দান করেছেন। এ কারণে কারো সঙ্গে হেয়তার আচরণ করা উচিত নয়। কোনো কাফের, ফাসেক ও ফাজেরকেও তুচ্ছ জ্ঞান করা উচিত নয়。

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 কাউকে অসুস্থ দেখলে এই দু'আ পাঠ করুন

📄 কাউকে অসুস্থ দেখলে এই দু'আ পাঠ করুন


হাদীস শরীফে এসেছে যে, কোনো মানুষ অন্যকে রোগাক্রান্ত দেখলে এই দু'আ পাঠ করবে,
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلَاكَ بِهِ وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلًا
'ঐ আল্লাহর শোকর, যিনি আমাকে এই রোগ থেকে মুক্তি দিয়েছেন, যাতে তোমাকে আক্রান্ত করেছেন এবং আমাকে তাঁর অনেক সৃষ্টির উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।'

টিকাঃ
৩. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩১৭৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৮৮২

হাদীস শরীফে এসেছে যে, কোনো মানুষ অন্যকে রোগাক্রান্ত দেখলে এই দু'আ পাঠ করবে,
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلَاكَ بِهِ وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلًا
'ঐ আল্লাহর শোকর, যিনি আমাকে এই রোগ থেকে মুক্তি দিয়েছেন, যাতে তোমাকে আক্রান্ত করেছেন এবং আমাকে তাঁর অনেক সৃষ্টির উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।'

টিকাঃ
৩. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩১৭৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৮৮২

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 কাউকে গোনাহে লিপ্ত দেখলে এ দু'আ-ই পাঠ করবে

📄 কাউকে গোনাহে লিপ্ত দেখলে এ দু'আ-ই পাঠ করবে


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু'আ সম্পর্কে বলেছেন যে, যদি কেউ রোগাক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে দেখে এই দু'আ পাঠ করে, তাহলে যতোদিন সে জীবিত থাকবে, ঐ রোগে আক্রান্ত হবে না। এ দু'আ পাঠ করার পর তার প্রতি তুচ্ছ জ্ঞান ও ঘৃণা থাকবে না, বরং অন্তরে আল্লাহ তা'আলার শোকর জাগ্রত হবে যে, হে আল্লাহ! আপনি আমাকে এই রোগ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। সাথে সাথে ঐ ব্যক্তির জন্যেও দু'আ আসবে যে, আল্লাহ তাদেরকে হেদায়েত দান করুন। তাদেরকে এই রোগ থেকে মুক্তি দান করুন। মোটকথা, কুফরীর প্রতি ঘৃণা থাকবে; গোনাহ, নাফরমানী ও পাপ কাজের প্রতি ঘৃণা থাকবে, কিন্তু মানুষকে ঘৃণা করবে না, তার সঙ্গে ভালোবাসা ও মমতার আচরণ করবে। তাকে কোনো কথা বলতে হলে স্নেহ ও নম্রতার সাথে বলবে। সহমর্মিতা ও ভালোবাসার সাথে বলবে। যাতে তার উপর ভালো প্রভাব পড়ে। আমাদের সকল বুযুর্গের আমল এমনই ছিলো।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু'আ সম্পর্কে বলেছেন যে, যদি কেউ রোগাক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে দেখে এই দু'আ পাঠ করে, তাহলে যতোদিন সে জীবিত থাকবে, ঐ রোগে আক্রান্ত হবে না। এ দু'আ পাঠ করার পর তার প্রতি তুচ্ছ জ্ঞান ও ঘৃণা থাকবে না, বরং অন্তরে আল্লাহ তা'আলার শোকর জাগ্রত হবে যে, হে আল্লাহ! আপনি আমাকে এই রোগ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। সাথে সাথে ঐ ব্যক্তির জন্যেও দু'আ আসবে যে, আল্লাহ তাদেরকে হেদায়েত দান করুন। তাদেরকে এই রোগ থেকে মুক্তি দান করুন। মোটকথা, কুফরীর প্রতি ঘৃণা থাকবে; গোনাহ, নাফরমানী ও পাপ কাজের প্রতি ঘৃণা থাকবে, কিন্তু মানুষকে ঘৃণা করবে না, তার সঙ্গে ভালোবাসা ও মমতার আচরণ করবে। তাকে কোনো কথা বলতে হলে স্নেহ ও নম্রতার সাথে বলবে। সহমর্মিতা ও ভালোবাসার সাথে বলবে। যাতে তার উপর ভালো প্রভাব পড়ে। আমাদের সকল বুযুর্গের আমল এমনই ছিলো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00