📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 গোনাহের কারণে কাউকে লজ্জা দেওয়ার আপদ

📄 গোনাহের কারণে কাউকে লজ্জা দেওয়ার আপদ


হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইকে এমন কোনো গোনাহের কারণে লজ্জা দেয়, যা থেকে সে তওবা করেছে, সে ব্যক্তি ততোক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যু বরণ করবে না, যতোক্ষণ পর্যন্ত সে নিজে ঐ গোনাহে লিপ্ত না হবে। উদাহরণস্বরূপ, এক ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার জানা আছে যে, এ ব্যক্তি অমুক গোনাহে লিপ্ত ছিলো বা লিপ্ত হয়েছে এবং আপনার এ কথাও জানা আছে যে, সে তা থেকে তওবাও করেছে, তাহলে এমন গোনাহের কারণে তাকে হেয় জ্ঞান করা, লজ্জা দেওয়া বা তিরস্কার করা যে, তুমি তো সেই ব্যক্তি, যে অমুক কাজ করতে- এভাবে তিরস্কার করা একটা পৃথক গোনাহ। সে ব্যক্তি তওবার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে নিজের সম্পর্ক পরিষ্কার করে নিয়েছে। তওবা করার দ্বারা গোনাহ শুধু মাফই হয় না, বরং আমলনামা থেকে তা মুছে ফেলা হয়। এখন আল্লাহ তা'আলা তো তার গোনাহ আমলনামা থেকে মুছে দিয়েছেন, কিন্তু আপনি তাকে ঐ গোনাহের কারণে হেয় ও লাঞ্ছিত মনে করছেন, তিরস্কার করছেন এবং ভালো-মন্দ বলছেন, এ কাজটি আল্লাহ তা'আলার নিকট খুবই অপছন্দনীয়।

টিকাঃ
১. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৪২৯

হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইকে এমন কোনো গোনাহের কারণে লজ্জা দেয়, যা থেকে সে তওবা করেছে, সে ব্যক্তি ততোক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যু বরণ করবে না, যতোক্ষণ পর্যন্ত সে নিজে ঐ গোনাহে লিপ্ত না হবে। উদাহরণস্বরূপ, এক ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার জানা আছে যে, এ ব্যক্তি অমুক গোনাহে লিপ্ত ছিলো বা লিপ্ত হয়েছে এবং আপনার এ কথাও জানা আছে যে, সে তা থেকে তওবাও করেছে, তাহলে এমন গোনাহের কারণে তাকে হেয় জ্ঞান করা, লজ্জা দেওয়া বা তিরস্কার করা যে, তুমি তো সেই ব্যক্তি, যে অমুক কাজ করতে- এভাবে তিরস্কার করা একটা পৃথক গোনাহ। সে ব্যক্তি তওবার মাধ্যমে আল্লাহ তা'লার সঙ্গে নিজের সম্পর্ক পরিষ্কার করে নিয়েছে। তওবা করার দ্বারা গোনাহ শুধু মাফই হয় না, বরং আমলনামা থেকে তা মুছে ফেলা হয়। এখন আল্লাহ তা'আলা তো তার গোনাহ আমলনামা থেকে মুছে দিয়েছেন, কিন্তু আপনি তাকে ঐ গোনাহের কারণে হেয় ও লাঞ্ছিত মনে করছেন, তিরস্কার করছেন এবং ভালো-মন্দ বলছেন, এ কাজটি আল্লাহ তা'আলার নিকট খুবই অপছন্দনীয়।

টিকাঃ
১. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৪২৯

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 গোনাহগার ব্যক্তি রোগীর ন্যায়

📄 গোনাহগার ব্যক্তি রোগীর ন্যায়


এটা তো ঐ ব্যক্তির বিষয়, যার সম্পর্কে আপনার জানা আছে যে, সে গোনাহ থেকে তওবা করেছে। আর যদি সে তওবা করেছে কি না, তা জানা না থাকে, তাহলে একজন মুমিনের বিষয়ে এ সম্ভাবনা তো আছে যে, সে তওবা করেছে, বা আগামীতে তওবা করবে। এ জন্যে যদি কেউ গোনাহ করে আর তার তওবা করার বিষয় আপনার জানা না থাকে, তাহলেও তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করার কোনো অধিকার আপনার নেই। জানা তো নেই, হয়তো সে তওবা করেছে। মনে রাখবেন! গোনাহের প্রতি ঘৃণা থাকা উচিত, গোনাহগারের প্রতি নয়। পাপ ও নাফরমানীর প্রতি ঘৃণা থাকতে হবে, কিন্তু পাপী ও নাফরমান ব্যক্তিকে ঘৃণা করা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেখাননি। গোনাহগার ব্যক্তি বরং দয়া-মায়ার যোগ্য। যেমন, কোনো ব্যক্তি দৈহিক কোনো ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে তার ব্যাধির সাথে তো ঘৃণা থাকবে, কিন্তু ঐ ব্যাধিগ্রস্থকে কি ঘৃণা করবেন? বলা বাহুল্য যে, অসুস্থ ব্যক্তি ঘৃণার যোগ্য নয়। তার অসুস্থতাকে ঘৃণা করুন, তা দূর করার চেষ্টা করুন, তার জন্যে দু'আ করুন। অসুস্থ ব্যক্তি ঘৃণার যোগ্য নয়। সে তো দয়া-মায়ার উপযুক্ত যে, আল্লাহর এ বান্দা কি বিপদেই না আক্রান্ত হয়েছে!

এটা তো ঐ ব্যক্তির বিষয়, যার সম্পর্কে আপনার জানা আছে যে, সে গোনাহ থেকে তওবা করেছে। আর যদি সে তওবা করেছে কি না, তা জানা না থাকে, তাহলে একজন মুমিনের বিষয়ে এ সম্ভাবনা তো আছে যে, সে তওবা করেছে, বা আগামীতে তওবা করবে। এ জন্যে যদি কেউ গোনাহ করে আর তার তওবা করার বিষয় আপনার জানা না থাকে, তাহলেও তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করার কোনো অধিকার আপনার নেই। জানা তো নেই, হয়তো সে তওবা করেছে। মনে রাখবেন! গোনাহের প্রতি ঘৃণা থাকা উচিত, গোনাহগারের প্রতি নয়। পাপ ও নাফরমানীর প্রতি ঘৃণা থাকতে হবে, কিন্তু পাপী ও নাফরমান ব্যক্তিকে ঘৃণা করা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেখাননি। গোনাহগার ব্যক্তি বরং দয়া-মায়ার যোগ্য। যেমন, কোনো ব্যক্তি দৈহিক কোনো ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে তার ব্যাধির সাথে তো ঘৃণা থাকবে, কিন্তু ঐ ব্যাধিগ্রস্থকে কি ঘৃণা করবেন? বলা বাহুল্য যে, অসুস্থ ব্যক্তি ঘৃণার যোগ্য নয়। তার অসুস্থতাকে ঘৃণা করুন, তা দূর করার চেষ্টা করুন, তার জন্যে দু'আ করুন। অসুস্থ ব্যক্তি ঘৃণার যোগ্য নয়। সে তো দয়া-মায়ার উপযুক্ত যে, আল্লাহর এ বান্দা কি বিপদেই না আক্রান্ত হয়েছে!

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 কুফর ঘৃণার যোগ্য, কাফের নয়

📄 কুফর ঘৃণার যোগ্য, কাফের নয়


এমনকি কেউ যদি কাফের হয়, তাহলে তার কুফরীকে ঘৃণা করবেন, কিন্তু ব্যক্তি কাফেরকে ঘৃণা করবেন না, বরং তার জন্যে দু'আ করবেন, যেন আল্লাহ তা'আলা তাকে হেদায়েত দান করেন। দেখুন! হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাফেররা কতো কষ্ট দিতো। তাঁর উপর যখন তীর নিক্ষেপ করা হচ্ছে, পাথর বর্ষণ করা হচ্ছে, তাঁর দেহ রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে, এমন সময়ও তাঁর মুখে যে কথা উচ্চারিত হয়েছে, তা ছিলো এই,
رَبِّ اغْفِرْ لِقَوْمِي فَإِنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
'হে আল্লাহ! আমার কওমকে ক্ষমা করুন। তারা তো হাকীকত সম্পর্কে জানে না।'
লক্ষ করুন! তাদের নাফরমানি, কুফর, শিরক, জুলুম ও বাড়াবাড়ি সত্ত্বেও তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেননি, বরং স্নেহ প্রকাশ করে বলেছেন, হে আল্লাহ এরা অজ্ঞ, এরা প্রকৃত অবস্থা জানে না, এ জন্যে এরা আমার সঙ্গে এমন আচরণ করছে। হে আল্লাহ এদেরকে হেদায়েত দান করুন। এ জন্যে যখন কাউকে গোনাহে লিপ্ত দেখবেন, তখন তার প্রতি সহমর্মী হবেন। তার জন্য দু'আ করবেন। চেষ্টা করবেন যেন সে গোনাহ থেকে বেঁচে যায়। তার কাছে তাবলীগ করবেন। তাকে দাওয়াত দিবেন। কিন্তু তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করবেন না। হতে পারে আল্লাহ তা'আলা তাকে তওবার তাওফীক দিবেন, তার পর সে আপনার থেকেও সম্মুখে অগ্রসর হবে।

টিকাঃ
২. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৪১৭, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৩৪৭, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪০১৫, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৩৪২৯

এমনকি কেউ যদি কাফের হয়, তাহলে তার কুফরীকে ঘৃণা করবেন, কিন্তু ব্যক্তি কাফেরকে ঘৃণা করবেন না, বরং তার জন্যে দু'আ করবেন, যেন আল্লাহ তা'আলা তাকে হেদায়েত দান করেন। দেখুন! হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাফেররা কতো কষ্ট দিতো। তাঁর উপর যখন তীর নিক্ষেপ করা হচ্ছে, পাথর বর্ষণ করা হচ্ছে, তাঁর দেহ রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে, এমন সময়ও তাঁর মুখে যে কথা উচ্চারিত হয়েছে, তা ছিলো এই,
رَبِّ اغْفِرْ لِقَوْمِي فَإِنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
'হে আল্লাহ! আমার কওমকে ক্ষমা করুন। তারা তো হাকীকত সম্পর্কে জানে না।'
লক্ষ করুন! তাদের নাফরমানি, কুফর, শিরক, জুলুম ও বাড়াবাড়ি সত্ত্বেও তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেননি, বরং স্নেহ প্রকাশ করে বলেছেন, হে আল্লাহ এরা অজ্ঞ, এরা প্রকৃত অবস্থা জানে না, এ জন্যে এরা আমার সঙ্গে এমন আচরণ করছে। হে আল্লাহ এদেরকে হেদায়েত দান করুন। এ জন্যে যখন কাউকে গোনাহে লিপ্ত দেখবেন, তখন তার প্রতি সহমর্মী হবেন। তার জন্য দু'আ করবেন। চেষ্টা করবেন যেন সে গোনাহ থেকে বেঁচে যায়। তার কাছে তাবলীগ করবেন। তাকে দাওয়াত দিবেন। কিন্তু তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করবেন না। হতে পারে আল্লাহ তা'আলা তাকে তওবার তাওফীক দিবেন, তার পর সে আপনার থেকেও সম্মুখে অগ্রসর হবে。

টিকাঃ
২. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৪১৭, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৩৪৭, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪০১৫, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৩৪২৯

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হযরত থানভী রহ.-এর অন্যদেরকে শ্রেষ্ঠ মনে করা

📄 হযরত থানভী রহ.-এর অন্যদেরকে শ্রেষ্ঠ মনে করা


আমি আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব রহ. থেকে এবং হযরত ডা. আব্দুল হাই ছাহেব রহ. থেকে হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর এ উক্তি শুনেছি যে, আমি প্রত্যেক মুসলমানকে বর্তমান অবস্থায় এবং প্রত্যেক কাফেরকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অবস্থায় নিজের থেকে শ্রেষ্ঠ মনে করি। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অবস্থার অর্থ এই যে, যদিও এখন সে কুফরীর মধ্যে লিপ্ত, কিন্তু জানা তো নেই হয় তো আল্লাহ তা'আলা তাকে তওবার তাওফীক দান করবেন, ফলে সে কুফরীর গোনাহ থেকে রক্ষা পাবে। অতপর আল্লাহ তা'আলা তাকে এতো উঁচু মর্যাদা দান করবেন যে, সে আমার থেকেও সম্মুখে অগ্রসর হবে। আর যে ব্যক্তি মুসলমান, যার ঈমান আছে, আল্লাহ তা'আলা তাকে ঈমানের দৌলত দান করেছেন। আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে তার অবস্থা কী, তা তো জানা নেই। কারণ, আল্লাহর সঙ্গে প্রত্যেক মানুষের অবস্থা ভিন্ন হয়ে থাকে। কারো সম্পর্কে আমরা কী করে মন্তব্য করতে পারি যে, সে এমন। এ জন্যে আমি প্রত্যেক মুসলমানকে আমার থেকে শ্রেষ্ঠ মনে করি। বলা বাহুল্য যে, এখানে মিথ্যা ও বানিয়ে বলার কোনো সম্ভাবনা নেই যে, এমনিতেই সৌজন্যেমূলকভাবে বলেছেন যে, আমি প্রত্যেক মুসলমানকে নিজের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করি। নিশ্চিতভাবেই তিনি এমন মনে করতেন বলেই তা বলেছেন। মোটকথা, কাউকে গোনাহ ও নাফরমানীর কারণেও তুচ্ছ জ্ঞান করা জায়েয নেই।

আমি আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব রহ. থেকে এবং হযরত ডা. আব্দুল হাই ছাহেব রহ. থেকে হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর এ উক্তি শুনেছি যে, আমি প্রত্যেক মুসলমানকে বর্তমান অবস্থায় এবং প্রত্যেক কাফেরকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অবস্থায় নিজের থেকে শ্রেষ্ঠ মনে করি। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অবস্থার অর্থ এই যে, যদিও এখন সে কুফরীর মধ্যে লিপ্ত, কিন্তু জানা তো নেই হয় তো আল্লাহ তা'আলা তাকে তওবার তাওফীক দান করবেন, ফলে সে কুফরীর গোনাহ থেকে রক্ষা পাবে। অতপর আল্লাহ তা'আলা তাকে এতো উঁচু মর্যাদা দান করবেন যে, সে আমার থেকেও সম্মুখে অগ্রসর হবে। আর যে ব্যক্তি মুসলমান, যার ঈমান আছে, আল্লাহ তা'আলা তাকে ঈমানের দৌলত দান করেছেন। আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে তার অবস্থা কী, তা তো জানা নেই। কারণ, আল্লাহর সঙ্গে প্রত্যেক মানুষের অবস্থা ভিন্ন হয়ে থাকে। কারো সম্পর্কে আমরা কী করে মন্তব্য করতে পারি যে, সে এমন। এ জন্যে আমি প্রত্যেক মুসলমানকে আমার থেকে শ্রেষ্ঠ মনে করি। বলা বাহুল্য যে, এখানে মিথ্যা ও বানিয়ে বলার কোনো সম্ভাবনা নেই যে, এমনিতেই সৌজন্যেমূলকভাবে বলেছেন যে, আমি প্রত্যেক মুসলমানকে নিজের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করি। নিশ্চিতভাবেই তিনি এমন মনে করতেন বলেই তা বলেছেন। মোটকথা, কাউকে গোনাহ ও নাফরমানীর কারণেও তুচ্ছ জ্ঞান করা জায়েয নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00