📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 জান্নাত ও জাহান্নামের অধিবাসী

📄 জান্নাত ও জাহান্নামের অধিবাসী


وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كُنْتُ عَلَى بَابِ الْجَنَّةِ، فَكَانَ عَامَّةُ مَنْ دَخَلَهَا الْمَسَاكِينُ وَ أَصْحَابُ الْجَدِ مَحْبُوسُونَ غَيْرَ أَنَّ أَصْحَابَ النَّارِ قَدْ أُمِرَ بِهِمْ إِلَى النَّارِ، وَقُمْتُ عَلَى بَابِ النَّارِ، فَإِذَا عَامَّةُ مَنْ دَخَلَهَا النِّسَاءُ
হযরত উসামা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক প্রিয় সাহাবী ছিলেন এবং তার পালকপুত্র যায়েদ ইবনে হারেসা রাযি.-এর ছেলে ছিলেন। অতএব উসামা রাযি. ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পালকপৌত্র। তিনি বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে আছি (এটি সম্ভবত মেরাজের সময়কার ঘটনা। কারণ, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জান্নাত ও জাহান্নাম ভ্রমণ করানো হয়েছিলো। অথবা এ ঘটনা অন্য কোনো স্বপ্নজগত বা কাশফ জগতেরও হতে পারে। আল্লাহই ভালো জানেন।) এক পর্যায়ে দেখলাম, জান্নাতে যতো মানুষ আছে তাদের অধিকাংশই গরীব শ্রেণির। পক্ষান্তরে যাদেরকে দুনিয়ায় বেশি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের অধিকারী মনে করা হতো এবং বড়ো বড়ো পদমর্যাদার অধিকারী এবং সহায় সম্পদের অধিকারী ছিলো, তাদেরকে দেখলাম জান্নাতের দরজায় বাধাগ্রস্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ যেন তাদেরকে বাধা দিয়ে রেখেছে, ফলে তারা প্রবেশ করতে পারছে না।
এ কথার দুটি অর্থ হতে পারে, হয়তো তারা জান্নাতের উপযুক্ত, কিন্তু তাদের হিসাব-নিকাশ অনেক দীর্ঘ, যা পরিষ্কার করার আগে তারা জান্নাতে যেতে পারবে না। এ জন্যে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অথবা যারা জাহান্নামী, তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়েছে যে, তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাও। এ জন্যে তারা দাঁড়িয়ে আছে।
আর জাহান্নামের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখলাম, জাহান্নামে প্রবেশকারীদের মধ্যে অধিকাংশ হলো নারী。

টিকাঃ
৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৭৯৭, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৯১৯, মুসনাদে আহমাদ হাদীস নং ২০৮২৪

وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كُنْتُ عَلَى بَابِ الْجَنَّةِ، فَكَانَ عَامَّةُ مَنْ dakhalaهَا الْمَسَاكِينُ وَ أَصْحَابُ الْجَدِ مَحْبُوسُونَ غَيْرَ أَنَّ أَصْحَابَ النَّارِ قَدْ أُمِرَ بِهِمْ إِلَى النَّارِ، وَقُمْتُ عَلَى بَابِ النَّارِ، فَإِذَا عَامَّةُ مَنْ dakhalaهَا النِّسَاءُ
হযরত উসামা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক প্রিয় সাহাবী ছিলেন এবং তার পালকপুত্র যায়েদ ইবনে হারেসা রাযি.-এর ছেলে ছিলেন। অতএব উসামা রাযি. ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পালকপৌত্র। তিনি বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে আছি (এটি সম্ভবত মেরাজের সময়কার ঘটনা। কারণ, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জান্নাত ও জাহান্নাম ভ্রমণ করানো হয়েছিলো। অথবা এ ঘটনা অন্য কোনো স্বপ্নজগত বা কাশফ জগতেরও হতে পারে। আল্লাহই ভালো জানেন।) এক পর্যায়ে দেখলাম, জান্নাতে যতো মানুষ আছে তাদের অধিকাংশই গরীব শ্রেণির। পক্ষান্তরে যাদেরকে দুনিয়ায় বেশি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের অধিকারী মনে করা হতো এবং বড়ো বড়ো পদমর্যাদার অধিকারী এবং সহায় সম্পদের অধিকারী ছিলো, তাদেরকে দেখলাম জান্নাতের দরজায় বাধাগ্রস্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ যেন তাদেরকে বাধা দিয়ে রেখেছে, ফলে তারা প্রবেশ করতে পারছে না।
এ কথার দুটি অর্থ হতে পারে, হয়তো তারা জান্নাতের উপযুক্ত, কিন্তু তাদের হিসাব-নিকাশ অনেক দীর্ঘ, যা পরিষ্কার করার আগে তারা জান্নাতে যেতে পারবে না। এ জন্যে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অথবা যারা জাহান্নামী, তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়েছে যে, তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাও। এ জন্যে তারা দাঁড়িয়ে আছে।
আর জাহান্নামের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখলাম, জাহান্নামে প্রবেশকারীদের মধ্যে অধিকাংশ হলো নারী。

টিকাঃ
৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৭৯৭, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৯১৯, মুসনাদে আহমাদ হাদীস নং ২০৮২৪

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 মিসকীনরা জান্নাতী হবে

📄 মিসকীনরা জান্নাতী হবে


উক্ত হাদীসে দুটি অংশ রয়েছে। প্রথম অংশ হলো, জান্নাতে প্রবেশকারীদের মধ্যে অধিকাংশই হবে ‘মিসকীন’। এ বিষয়টি ইতিপূর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, ‘মিসকীন’ হওয়ার জন্যে ফকীর হওয়া জরুরী নয়। বরং মিসকীন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, স্বভাবগতভাবে বিনয়ী ও বিনম্র হওয়া। এমন স্বভাবের লোকেরাও মিসকীনদের অন্তর্ভুক্ত।

উক্ত হাদীসে দুটি অংশ রয়েছে। প্রথম অংশ হলো, জান্নাতে প্রবেশকারীদের মধ্যে অধিকাংশই হবে ‘মিসকীন’। এ বিষয়টি ইতিপূর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, ‘মিসকীন’ হওয়ার জন্যে ফকীর হওয়া জরুরী নয়। বরং মিসকীন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, স্বভাবগতভাবে বিনয়ী ও বিনম্র হওয়া। এমন স্বভাবের লোকেরাও মিসকীনদের অন্তর্ভুক্ত।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 নারীদের সংখ্যা জাহান্নামে বেশি হবে কেন

📄 নারীদের সংখ্যা জাহান্নামে বেশি হবে কেন


হাদীসের দ্বিতীয়াংশ হলো জাহান্নামীদের অধিকাংশ দেখেছি নারী। অন্য এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদেরকে সম্বোধন করে বলেছেন,
إِنِّي أُرِيتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ
‘আমাকে দেখানো হয়েছে, অধিকাংশ জাহান্নামী হলে তোমরা।’
উক্ত হাদীসদ্বয় থেকে বোঝা গেলো যে, জাহান্নামীদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি হবে। তবে এটার অর্থ এই নয় যে, নারীরা নারী হওয়ার কারণে জাহান্নামে যাবে। বরং অন্য হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। একবার তিনি নারীদেরকে সম্বোধন করে বললেন, জাহান্নামীদের অধিকাংশ হবে নারী। নারী সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন-
بِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ কেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি তাদের প্রশ্নের উত্তরে বললেন, এর মৌলিক কারণ দুটি,
تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ
নারীদের মধ্যে এমন দুটি গোনাহ বেশি পাওয়া যায়, যেগুলো নারীদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে।' যে নারী এগুলো থেকে বেঁচে থাকবে, সে জাহান্নام থেকেও বেঁচে যাবে, ইনশাআল্লাহ! প্রথম কারণ হলো, তার অভিশাপ করে বেশি। যখন তখন যাকে তাকে অভিশাপ করে। খুব সাধারণ কথায় কাউকে বদ-দু'আ করা, গাল-মন্দ বলা এবং দোষারোপ করার প্রবণতা নারীদের মধ্যে বেশি। অর্থাৎ, এমন কথা বলা, যার কারণে মনে কষ্ট হয়, মন ভেঙ্গে যায়। এ প্রবণতা যে নারীদের মধ্যে বেশি, তা সুস্পষ্ট বিষয়।

হাদীসের দ্বিতীয়াংশ হলো জাহান্নামীদের অধিকাংশ দেখেছি নারী। অন্য এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদেরকে সম্বোধন করে বলেছেন,
إِنِّي أُرِيتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ
‘আমাকে দেখানো হয়েছে, অধিকাংশ জাহান্নামী হলে তোমরা।’
উক্ত হাদীসদ্বয় থেকে বোঝা গেলো যে, জাহান্নামীদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি হবে। তবে এটার অর্থ এই নয় যে, নারীরা নারী হওয়ার কারণে জাহান্নামে যাবে। বরং অন্য হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। একবার তিনি নারীদেরকে সম্বোধন করে বললেন, জাহান্নামীদের অধিকাংশ হবে নারী। নারী সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন-
بِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ কেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি তাদের প্রশ্নের উত্তরে বললেন, এর মৌলিক কারণ দুটি,
تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ
নারীদের মধ্যে এমন দুটি গোনাহ বেশি পাওয়া যায়, যেগুলো নারীদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে।' যে নারী এগুলো থেকে বেঁচে থাকবে, সে জাহান্নাম থেকেও বেঁচে যাবে, ইনশাআল্লাহ! প্রথম কারণ হলো, তার অভিশাপ করে বেশি। যখন তখন যাকে তাকে অভিশাপ করে। খুব সাধারণ কথায় কাউকে বদ-দু'আ করা, গাল-মন্দ বলা এবং দোষারোপ করার প্রবণতা নারীদের মধ্যে বেশি। অর্থাৎ, এমন কথা বলা, যার কারণে মনে কষ্ট হয়, মন ভেঙ্গে যায়। এ প্রবণতা যে নারীদের মধ্যে বেশি, তা সুস্পষ্ট বিষয়।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 স্বামীর অকৃতজ্ঞতা একটি বড়ো গোনাহ

📄 স্বামীর অকৃতজ্ঞতা একটি বড়ো গোনাহ


উক্ত হাদীসে নারীদের অধিকহারে জাহান্নামে যাওয়ার দ্বিতীয় কারণ বলা হয়েছে, তারা স্বামীর খুব বেশি অকৃতজ্ঞ হয়। সাধা-সিধা সম্ভ্রান্ত স্বামী জান মাল খরচ করে তোমাদের খুশি করার জন্যে অনেক পরিশ্রম করে, কিন্তু তোমাদের মুখে কখনো শুকরিয়া আসে না, বরং উল্টো না-শোকরি প্রকাশ পায়। এ দুটি কারণেই নারীরা অধিক পরিমাণে জাহান্নামে যাবে। অকৃতজ্ঞতা এমনিতেই খারাপ এবং আল্লাহর নিকট অনেক অপছন্দনীয়। না-শোকরি যে আল্লাহর কতো অপছন্দ তা এ শব্দ থেকেই অনুমিত হয় যে, না-শোকরির আরবী প্রতিশব্দ হলো 'কুফর'। 'কাফের' শব্দের মূল ধাতু 'কুফর' অর্থও হলো 'না-শোকরি'। কাফেরকে এ জন্যে 'কাফের' বলে যে, সে আল্লাহর না-শোকরি করে। আল্লাহ তাকে এতো নেয়ামত দান করলেন, তাকে সৃষ্টি করলেন, তাকে লালন-পালন করছেন, তার উপর নেয়ামতের বারি বর্ষণ করছেন, আর সে এসব নেয়ামতের না-শোকরি করে আল্লাহর সঙ্গে অন্যকে শরীক করে, বা তাঁর অস্তিত্বই অস্বীকার করে। এ জন্যেই না-শোকরি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর গোনাহ।

উক্ত হাদীসে নারীদের অধিকহারে জাহান্নামে যাওয়ার দ্বিতীয় কারণ বলা হয়েছে, তারা স্বামীর খুব বেশি অকৃতজ্ঞ হয়। সাধা-সিধা সম্ভ্রান্ত স্বামী জান মাল খরচ করে তোমাদের খুশি করার জন্যে অনেক পরিশ্রম করে, কিন্তু তোমাদের মুখে কখনো শুকরিয়া আসে না, বরং উল্টো না-শোকরি প্রকাশ পায়। এ দুটি কারণেই নারীরা অধিক পরিমাণে জাহান্নামে যাবে। অকৃতজ্ঞতা এমনিতেই খারাপ এবং আল্লাহর নিকট অনেক অপছন্দনীয়। না-শোকরি যে আল্লাহর কতো অপছন্দ তা এ শব্দ থেকেই অনুমিত হয় যে, না-শোকরির আরবী প্রতিশব্দ হলো 'কুফর'। 'কাফের' শব্দের মূল ধাতু 'কুফর' অর্থও হলো 'না-শোকরি'। কাফেরকে এ জন্যে 'কাফের' বলে যে, সে আল্লাহর না-শোকরি করে। আল্লাহ তাকে এতো নেয়ামত দান করলেন, তাকে সৃষ্টি করলেন, তাকে লালন-পালন করছেন, তার উপর নেয়ামতের বারি বর্ষণ করছেন, আর সে এসব নেয়ামতের না-शোকরি করে আল্লাহর সঙ্গে অন্যকে শরীক করে, বা তাঁর অস্তিত্বই অস্বীকার করে। এ জন্যেই না-শোকরি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর গোনাহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00