📄 যাঁরা আল্লাহর সীমানায় থেমে যান
এরপর হযরত বললেন, আসলে আমারই ভুল হয়েছে। আমি একপক্ষের কথা শুনেই তাকে শাসন করা আরম্ভ করে দিয়েছি। অথচ শরীয়তের নিদের্শ হলো, একপক্ষের কথা শুনে ফয়সালা করবে না। যতোক্ষণ পর্যন্ত দ্বিতীয় পক্ষের কথা না শুনবে। প্রথমে তাকে জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন ছিলো যে, কী ঘটনা ঘটেছে? সে তার অবস্থান ব্যক্ত করার পর ফয়সালা করা দরকার হিলো। কিন্তু আমি তার বক্তব্য শোনার আগেই তাকে শাসন করতে আরম্ভ করেছি। অতএব ভুল আমার হয়েছে। তাই সে যখন বললো, 'আল্লাহকে ভয় করুন' তখনই আমি আল্লাহমুখী হয়ে বলতে লাগলাম- আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ।
বস্তুত এঁরাই ছিলেন ঐ সকল লোক, যাদের ব্যাপারে বলা হয়েছে,
كَانَ وَقَافًا عِنْدَ حُدُودِ اللَّهِ 'আল্লাহর বিধানের সীমা-রেখায় দাঁড়িয়ে যেতেন।'
ভাই নিজের চাকর, খাদেম ও অধীনস্থ সকলের সঙ্গে সদাচরণ করুন। তাদের সঙ্গে কখনো তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের আচরণ করবেন না। আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। আমীন。
এরপর হযরত বললেন, আসলে আমারই ভুল হয়েছে। আমি একপক্ষের কথা শুনেই তাকে শাসন করা আরম্ভ করে দিয়েছি। অথচ শরীয়তের নিদের্শ হলো, একপক্ষের কথা শুনে ফয়সালা করবে না। যতোক্ষণ পর্যন্ত দ্বিতীয় পক্ষের কথা না শুনবে। প্রথমে তাকে জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন ছিলো যে, কী ঘটনা ঘটেছে? সে তার অবস্থান ব্যক্ত করার পর ফয়সালা করা দরকার হিলো। কিন্তু আমি তার বক্তব্য শোনার আগেই তাকে শাসন করতে আরম্ভ করেছি। অতএব ভুল আমার হয়েছে। তাই সে যখন বললো, 'আল্লাহকে ভয় করুন' তখনই আমি আল্লাহমুখী হয়ে বলতে লাগলাম- আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ।
বস্তুত এঁরাই ছিলেন ঐ সকল লোক, যাদের ব্যাপারে বলা হয়েছে,
كَانَ وَقَافًا عِنْدَ حُدُودِ اللَّهِ 'আল্লাহর বিধানের সীমা-রেখায় দাঁড়িয়ে যেতেন।'
ভাই নিজের চাকর, খাদেম ও অধীনস্থ সকলের সঙ্গে সদাচরণ করুন। তাদের সঙ্গে কখনো তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের আচরণ করবেন না। আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। আমীন।
📄 জান্নাত ও জাহান্নামের অধিবাসী
وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كُنْتُ عَلَى بَابِ الْجَنَّةِ، فَكَانَ عَامَّةُ مَنْ دَخَلَهَا الْمَسَاكِينُ وَ أَصْحَابُ الْجَدِ مَحْبُوسُونَ غَيْرَ أَنَّ أَصْحَابَ النَّارِ قَدْ أُمِرَ بِهِمْ إِلَى النَّارِ، وَقُمْتُ عَلَى بَابِ النَّارِ، فَإِذَا عَامَّةُ مَنْ دَخَلَهَا النِّسَاءُ
হযরত উসামা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক প্রিয় সাহাবী ছিলেন এবং তার পালকপুত্র যায়েদ ইবনে হারেসা রাযি.-এর ছেলে ছিলেন। অতএব উসামা রাযি. ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পালকপৌত্র। তিনি বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে আছি (এটি সম্ভবত মেরাজের সময়কার ঘটনা। কারণ, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জান্নাত ও জাহান্নাম ভ্রমণ করানো হয়েছিলো। অথবা এ ঘটনা অন্য কোনো স্বপ্নজগত বা কাশফ জগতেরও হতে পারে। আল্লাহই ভালো জানেন।) এক পর্যায়ে দেখলাম, জান্নাতে যতো মানুষ আছে তাদের অধিকাংশই গরীব শ্রেণির। পক্ষান্তরে যাদেরকে দুনিয়ায় বেশি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের অধিকারী মনে করা হতো এবং বড়ো বড়ো পদমর্যাদার অধিকারী এবং সহায় সম্পদের অধিকারী ছিলো, তাদেরকে দেখলাম জান্নাতের দরজায় বাধাগ্রস্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ যেন তাদেরকে বাধা দিয়ে রেখেছে, ফলে তারা প্রবেশ করতে পারছে না।
এ কথার দুটি অর্থ হতে পারে, হয়তো তারা জান্নাতের উপযুক্ত, কিন্তু তাদের হিসাব-নিকাশ অনেক দীর্ঘ, যা পরিষ্কার করার আগে তারা জান্নাতে যেতে পারবে না। এ জন্যে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অথবা যারা জাহান্নামী, তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়েছে যে, তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাও। এ জন্যে তারা দাঁড়িয়ে আছে।
আর জাহান্নামের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখলাম, জাহান্নামে প্রবেশকারীদের মধ্যে অধিকাংশ হলো নারী。
টিকাঃ
৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৭৯৭, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৯১৯, মুসনাদে আহমাদ হাদীস নং ২০৮২৪
وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كُنْتُ عَلَى بَابِ الْجَنَّةِ، فَكَانَ عَامَّةُ مَنْ dakhalaهَا الْمَسَاكِينُ وَ أَصْحَابُ الْجَدِ مَحْبُوسُونَ غَيْرَ أَنَّ أَصْحَابَ النَّارِ قَدْ أُمِرَ بِهِمْ إِلَى النَّارِ، وَقُمْتُ عَلَى بَابِ النَّارِ، فَإِذَا عَامَّةُ مَنْ dakhalaهَا النِّسَاءُ
হযরত উসামা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক প্রিয় সাহাবী ছিলেন এবং তার পালকপুত্র যায়েদ ইবনে হারেসা রাযি.-এর ছেলে ছিলেন। অতএব উসামা রাযি. ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পালকপৌত্র। তিনি বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে আছি (এটি সম্ভবত মেরাজের সময়কার ঘটনা। কারণ, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জান্নাত ও জাহান্নাম ভ্রমণ করানো হয়েছিলো। অথবা এ ঘটনা অন্য কোনো স্বপ্নজগত বা কাশফ জগতেরও হতে পারে। আল্লাহই ভালো জানেন।) এক পর্যায়ে দেখলাম, জান্নাতে যতো মানুষ আছে তাদের অধিকাংশই গরীব শ্রেণির। পক্ষান্তরে যাদেরকে দুনিয়ায় বেশি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের অধিকারী মনে করা হতো এবং বড়ো বড়ো পদমর্যাদার অধিকারী এবং সহায় সম্পদের অধিকারী ছিলো, তাদেরকে দেখলাম জান্নাতের দরজায় বাধাগ্রস্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ যেন তাদেরকে বাধা দিয়ে রেখেছে, ফলে তারা প্রবেশ করতে পারছে না।
এ কথার দুটি অর্থ হতে পারে, হয়তো তারা জান্নাতের উপযুক্ত, কিন্তু তাদের হিসাব-নিকাশ অনেক দীর্ঘ, যা পরিষ্কার করার আগে তারা জান্নাতে যেতে পারবে না। এ জন্যে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অথবা যারা জাহান্নামী, তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়েছে যে, তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাও। এ জন্যে তারা দাঁড়িয়ে আছে।
আর জাহান্নামের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখলাম, জাহান্নামে প্রবেশকারীদের মধ্যে অধিকাংশ হলো নারী。
টিকাঃ
৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৭৯৭, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৯১৯, মুসনাদে আহমাদ হাদীস নং ২০৮২৪
📄 মিসকীনরা জান্নাতী হবে
উক্ত হাদীসে দুটি অংশ রয়েছে। প্রথম অংশ হলো, জান্নাতে প্রবেশকারীদের মধ্যে অধিকাংশই হবে ‘মিসকীন’। এ বিষয়টি ইতিপূর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, ‘মিসকীন’ হওয়ার জন্যে ফকীর হওয়া জরুরী নয়। বরং মিসকীন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, স্বভাবগতভাবে বিনয়ী ও বিনম্র হওয়া। এমন স্বভাবের লোকেরাও মিসকীনদের অন্তর্ভুক্ত।
উক্ত হাদীসে দুটি অংশ রয়েছে। প্রথম অংশ হলো, জান্নাতে প্রবেশকারীদের মধ্যে অধিকাংশই হবে ‘মিসকীন’। এ বিষয়টি ইতিপূর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, ‘মিসকীন’ হওয়ার জন্যে ফকীর হওয়া জরুরী নয়। বরং মিসকীন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, স্বভাবগতভাবে বিনয়ী ও বিনম্র হওয়া। এমন স্বভাবের লোকেরাও মিসকীনদের অন্তর্ভুক্ত।
📄 নারীদের সংখ্যা জাহান্নামে বেশি হবে কেন
হাদীসের দ্বিতীয়াংশ হলো জাহান্নামীদের অধিকাংশ দেখেছি নারী। অন্য এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদেরকে সম্বোধন করে বলেছেন,
إِنِّي أُرِيتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ
‘আমাকে দেখানো হয়েছে, অধিকাংশ জাহান্নামী হলে তোমরা।’
উক্ত হাদীসদ্বয় থেকে বোঝা গেলো যে, জাহান্নামীদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি হবে। তবে এটার অর্থ এই নয় যে, নারীরা নারী হওয়ার কারণে জাহান্নামে যাবে। বরং অন্য হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। একবার তিনি নারীদেরকে সম্বোধন করে বললেন, জাহান্নামীদের অধিকাংশ হবে নারী। নারী সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন-
بِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ কেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি তাদের প্রশ্নের উত্তরে বললেন, এর মৌলিক কারণ দুটি,
تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ
নারীদের মধ্যে এমন দুটি গোনাহ বেশি পাওয়া যায়, যেগুলো নারীদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে।' যে নারী এগুলো থেকে বেঁচে থাকবে, সে জাহান্নام থেকেও বেঁচে যাবে, ইনশাআল্লাহ! প্রথম কারণ হলো, তার অভিশাপ করে বেশি। যখন তখন যাকে তাকে অভিশাপ করে। খুব সাধারণ কথায় কাউকে বদ-দু'আ করা, গাল-মন্দ বলা এবং দোষারোপ করার প্রবণতা নারীদের মধ্যে বেশি। অর্থাৎ, এমন কথা বলা, যার কারণে মনে কষ্ট হয়, মন ভেঙ্গে যায়। এ প্রবণতা যে নারীদের মধ্যে বেশি, তা সুস্পষ্ট বিষয়।
হাদীসের দ্বিতীয়াংশ হলো জাহান্নামীদের অধিকাংশ দেখেছি নারী। অন্য এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদেরকে সম্বোধন করে বলেছেন,
إِنِّي أُرِيتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ
‘আমাকে দেখানো হয়েছে, অধিকাংশ জাহান্নামী হলে তোমরা।’
উক্ত হাদীসদ্বয় থেকে বোঝা গেলো যে, জাহান্নামীদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি হবে। তবে এটার অর্থ এই নয় যে, নারীরা নারী হওয়ার কারণে জাহান্নামে যাবে। বরং অন্য হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। একবার তিনি নারীদেরকে সম্বোধন করে বললেন, জাহান্নামীদের অধিকাংশ হবে নারী। নারী সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন-
بِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ কেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি তাদের প্রশ্নের উত্তরে বললেন, এর মৌলিক কারণ দুটি,
تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ
নারীদের মধ্যে এমন দুটি গোনাহ বেশি পাওয়া যায়, যেগুলো নারীদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে।' যে নারী এগুলো থেকে বেঁচে থাকবে, সে জাহান্নাম থেকেও বেঁচে যাবে, ইনশাআল্লাহ! প্রথম কারণ হলো, তার অভিশাপ করে বেশি। যখন তখন যাকে তাকে অভিশাপ করে। খুব সাধারণ কথায় কাউকে বদ-দু'আ করা, গাল-মন্দ বলা এবং দোষারোপ করার প্রবণতা নারীদের মধ্যে বেশি। অর্থাৎ, এমন কথা বলা, যার কারণে মনে কষ্ট হয়, মন ভেঙ্গে যায়। এ প্রবণতা যে নারীদের মধ্যে বেশি, তা সুস্পষ্ট বিষয়।