📄 গরীব-অসহায়দের সঙ্গে আমাদের আচরণ
উক্ত হাদীসগুলোর আলোকে এ কথা প্রতীয়মান হয় যে, বাহ্যত কোনো মানুষকে সাধারণ বা গরীব দেখে মর্যাদাহীন ভাবা যাবে না। আমরা তো মুখে মুখে খুব বলি যে, সব মুসলমান ভাই ভাই। আল্লাহর নিকট আমীর-গরীব সব সমান। বরং আল্লাহর কাছে গরীবের মূল্য অনেক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিভিন্ন আচরণে উচ্চারণে যখন আমরা তাদের মুখোমুখি হই, তখন কি এ বিষয়গুলো আমাদের মনে থাকে। নিজের চাকর, খাদেম, অধীনস্থ কোনো লোক বা অন্যান্য গরীব সাধারণের সঙ্গে যখন কোনো কাজ করি, তখন কি আমরা এ কথাগুলো মনে রাখি? বাস্তবতা হলো, আমি বক্তৃতা দিচ্ছি, আর আপনারা বক্তৃতা শুনছেন, কিন্তু যখন আমলের প্রসঙ্গ আসবে, তখন সব ভুলে যাবো। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমীন。
উক্ত হাদীসগুলোর আলোকে এ কথা প্রতীয়মান হয় যে, বাহ্যত কোনো মানুষকে সাধারণ বা গরীব দেখে মর্যাদাহীন ভাবা যাবে না। আমরা তো মুখে মুখে খুব বলি যে, সব মুসলমান ভাই ভাই। আল্লাহর নিকট আমীর-গরীব সব সমান। বরং আল্লাহর কাছে গরীবের মূল্য অনেক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিভিন্ন আচরণে উচ্চারণে যখন আমরা তাদের মুখোমুখি হই, তখন কি এ বিষয়গুলো আমাদের মনে থাকে। নিজের চাকর, খাদেম, অধীনস্থ কোনো লোক বা অন্যান্য গরীব সাধারণের সঙ্গে যখন কোনো কাজ করি, তখন কি আমরা এ কথাগুলো মনে রাখি? বাস্তবতা হলো, আমি বক্তৃতা দিচ্ছি, আর আপনারা বক্তৃতা শুনছেন, কিন্তু যখন আমলের প্রসঙ্গ আসবে, তখন সব ভুলে যাবো। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমীন।
📄 নিজের খাদেমের সঙ্গে হযরত থানভী রহ.-এর আচরণ
আল্লাহর যেই খাস বান্দাদেরকে তিনি এ বিষয়গুলো যথাযথ বুঝে আমল করার তাওফীক দান করেছেন, এবার তাদের গল্প শুনুন। হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর এক খাদেম ছিলেন। নাম তার ভাই নিয়ায়। খানকায় যাতায়াতকারী সবাই তাকে 'ভাই নিয়ায' বলে ডাকতো। তিনি হযরতের খাস খাদেম ছিলো। যেহেতু হযরতের খেদমত করতেন এবং হযরতের সাহচর্যধন্য ছিলেন, আর এমন লোকদের মধ্যে অনেক সময় কিছু মান-অভিমান কাজ করে- তাই 'ভাই নিয়াযে'র মধ্যেও কিছুটা 'নায' ছিলো। এ জন্যে সে খানকায় আগত লোকদের সঙ্গে কখনো কখনো কিছুটা শক্ত আচরণ করতো। একবার হযরতের কাছে কেউ ভাই নিয়াযের ব্যাপারে অভিযোগ করে বললো, হযরত! সে মানুষের সঙ্গে ঝগড়া করে। আমাকেও সে অন্যায় কথা বলেছে। হযরতের কাছে যেহেতু আগেও বিভিন্ন সময় তার ব্যাপারে অভিযোগ এসেছে। এ জন্যে এবার হযরত একটু কষ্ট পেলেন এবং নারাজ হলেন। হযরত তাকে ডাকলেন এবং বকা দিয়ে বললেন, ভাই নিয়ায! তুমি সবার সঙ্গে কেন ঝগড়া করে বেড়াও? সে হযরতের এ কথা শোনামাত্র বলে উঠলো- 'হযরত মিথ্যা বলবেন না, আল্লাহকে ভয় করুন।' দেখুন, একজন চাকর বা খাদেম তার মনিবকে কেমন কথা বলছে! আর মনিব হলেন হাকীমুল উম্মত হযরত থানভী রহ.। আসলে তার উদ্দেশ্য মূলত এমন ছিলো না যে, হযরত আপনি মিথ্যা বলছেন। আপনি মিথ্যা বলবেন না। বরং তার উদ্দেশ্য ছিলো- যারা আপনার কাছে অভিযোগ করেছে, তারা মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তাদের উচিত ছিলো মিথ্যা না বলা এবং আল্লাহকে ভয় করা। কিন্তু উত্তেজনার মধ্যে অনিচ্ছাতেই মুখ দিয়ে বের হয়ে গিয়েছে- হযরত মিথ্যা বলবেন না, আল্লাহকে ভয় করুন। এখানে লক্ষ করুন, মনিব যখন শাসন করে, তখন যদি ভৃত্য বলে- 'মিথ্যা বলবেন না, আল্লাহকে ভয় করুন' তাহলে মনিবের রাগ আরো বেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তিনি ছিলেন হযরত হাকীমুল উম্মত। সে যখন বললো, মিথ্যা বলবেন না, আল্লাহকে ভয় করুন। হযরত সঙ্গে সঙ্গে মাথা নত করে ফেললেন এবং বললেন, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ。
টিকাঃ
৭. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৭৫৪
আল্লাহর যেই খাস বান্দাদেরকে তিনি এ বিষয়গুলো যথাযথ বুঝে আমল করার তাওফীক দান করেছেন, এবার তাদের গল্প শুনুন। হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর এক খাদেম ছিলেন। নাম তার ভাই নিয়ায়। খানকায় যাতায়াতকারী সবাই তাকে 'ভাই নিয়ায' বলে ডাকতো। তিনি হযরতের খাস খাদেম ছিলো। যেহেতু হযরতের খেদমত করতেন এবং হযরতের সাহচর্যধন্য ছিলেন, আর এমন লোকদের মধ্যে অনেক সময় কিছু মান-অভিমান কাজ করে- তাই 'ভাই নিয়াযে'র মধ্যেও কিছুটা 'নায' ছিলো। এ জন্যে সে খানকায় আগত লোকদের সঙ্গে কখনো কখনো কিছুটা শক্ত আচরণ করতো। একবার হযরতের কাছে কেউ ভাই নিয়াযের ব্যাপারে অভিযোগ করে বললো, হযরত! সে মানুষের সঙ্গে ঝগড়া করে। আমাকেও সে অন্যায় কথা বলেছে। হযরতের কাছে যেহেতু আগেও বিভিন্ন সময় তার ব্যাপারে অভিযোগ এসেছে। এ জন্যে এবার হযরত একটু কষ্ট পেলেন এবং নারাজ হলেন। হযরত তাকে ডাকলেন এবং বকা দিয়ে বললেন, ভাই নিয়ায! তুমি সবার সঙ্গে কেন ঝগড়া করে বেড়াও? সে হযরতের এ কথা শোনামাত্র বলে উঠলো- 'হযরত মিথ্যা বলবেন না, আল্লাহকে ভয় করুন।' দেখুন, একজন চাকর বা খাদেম তার মনিবকে কেমন কথা বলছে! আর মনিব হলেন হাকীমুল উম্মত হযরত থানভী রহ.। আসলে তার উদ্দেশ্য মূলত এমন ছিলো না যে, হযরত আপনি মিথ্যা বলছেন। আপনি মিথ্যা বলবেন না। বরং তার উদ্দেশ্য ছিলো- যারা আপনার কাছে অভিযোগ করেছে, তারা মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তাদের উচিত ছিলো মিথ্যা না বলা এবং আল্লাহকে ভয় করা। কিন্তু উত্তেজনার মধ্যে অনিচ্ছাতেই মুখ দিয়ে বের হয়ে গিয়েছে- হযরত মিথ্যা বলবেন না, আল্লাহকে ভয় করুন। এখানে লক্ষ করুন, মনিব যখন শাসন করে, তখন যদি ভৃত্য বলে- 'মিথ্যা বলবেন না, আল্লাহকে ভয় করুন' তাহলে মনিবের রাগ আরো বেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তিনি ছিলেন হযরত হাকীমুল উম্মত। সে যখন বললো, মিথ্যা বলবেন না, আল্লাহকে ভয় করুন। হযরত সঙ্গে সঙ্গে মাথা নত করে ফেললেন এবং বললেন, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ。
টিকাঃ
৭. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৭৫৪
📄 যাঁরা আল্লাহর সীমানায় থেমে যান
এরপর হযরত বললেন, আসলে আমারই ভুল হয়েছে। আমি একপক্ষের কথা শুনেই তাকে শাসন করা আরম্ভ করে দিয়েছি। অথচ শরীয়তের নিদের্শ হলো, একপক্ষের কথা শুনে ফয়সালা করবে না। যতোক্ষণ পর্যন্ত দ্বিতীয় পক্ষের কথা না শুনবে। প্রথমে তাকে জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন ছিলো যে, কী ঘটনা ঘটেছে? সে তার অবস্থান ব্যক্ত করার পর ফয়সালা করা দরকার হিলো। কিন্তু আমি তার বক্তব্য শোনার আগেই তাকে শাসন করতে আরম্ভ করেছি। অতএব ভুল আমার হয়েছে। তাই সে যখন বললো, 'আল্লাহকে ভয় করুন' তখনই আমি আল্লাহমুখী হয়ে বলতে লাগলাম- আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ।
বস্তুত এঁরাই ছিলেন ঐ সকল লোক, যাদের ব্যাপারে বলা হয়েছে,
كَانَ وَقَافًا عِنْدَ حُدُودِ اللَّهِ 'আল্লাহর বিধানের সীমা-রেখায় দাঁড়িয়ে যেতেন।'
ভাই নিজের চাকর, খাদেম ও অধীনস্থ সকলের সঙ্গে সদাচরণ করুন। তাদের সঙ্গে কখনো তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের আচরণ করবেন না। আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। আমীন。
এরপর হযরত বললেন, আসলে আমারই ভুল হয়েছে। আমি একপক্ষের কথা শুনেই তাকে শাসন করা আরম্ভ করে দিয়েছি। অথচ শরীয়তের নিদের্শ হলো, একপক্ষের কথা শুনে ফয়সালা করবে না। যতোক্ষণ পর্যন্ত দ্বিতীয় পক্ষের কথা না শুনবে। প্রথমে তাকে জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন ছিলো যে, কী ঘটনা ঘটেছে? সে তার অবস্থান ব্যক্ত করার পর ফয়সালা করা দরকার হিলো। কিন্তু আমি তার বক্তব্য শোনার আগেই তাকে শাসন করতে আরম্ভ করেছি। অতএব ভুল আমার হয়েছে। তাই সে যখন বললো, 'আল্লাহকে ভয় করুন' তখনই আমি আল্লাহমুখী হয়ে বলতে লাগলাম- আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ।
বস্তুত এঁরাই ছিলেন ঐ সকল লোক, যাদের ব্যাপারে বলা হয়েছে,
كَانَ وَقَافًا عِنْدَ حُدُودِ اللَّهِ 'আল্লাহর বিধানের সীমা-রেখায় দাঁড়িয়ে যেতেন।'
ভাই নিজের চাকর, খাদেম ও অধীনস্থ সকলের সঙ্গে সদাচরণ করুন। তাদের সঙ্গে কখনো তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের আচরণ করবেন না। আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। আমীন।
📄 জান্নাত ও জাহান্নামের অধিবাসী
وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كُنْتُ عَلَى بَابِ الْجَنَّةِ، فَكَانَ عَامَّةُ مَنْ دَخَلَهَا الْمَسَاكِينُ وَ أَصْحَابُ الْجَدِ مَحْبُوسُونَ غَيْرَ أَنَّ أَصْحَابَ النَّارِ قَدْ أُمِرَ بِهِمْ إِلَى النَّارِ، وَقُمْتُ عَلَى بَابِ النَّارِ، فَإِذَا عَامَّةُ مَنْ دَخَلَهَا النِّسَاءُ
হযরত উসামা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক প্রিয় সাহাবী ছিলেন এবং তার পালকপুত্র যায়েদ ইবনে হারেসা রাযি.-এর ছেলে ছিলেন। অতএব উসামা রাযি. ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পালকপৌত্র। তিনি বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে আছি (এটি সম্ভবত মেরাজের সময়কার ঘটনা। কারণ, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জান্নাত ও জাহান্নাম ভ্রমণ করানো হয়েছিলো। অথবা এ ঘটনা অন্য কোনো স্বপ্নজগত বা কাশফ জগতেরও হতে পারে। আল্লাহই ভালো জানেন।) এক পর্যায়ে দেখলাম, জান্নাতে যতো মানুষ আছে তাদের অধিকাংশই গরীব শ্রেণির। পক্ষান্তরে যাদেরকে দুনিয়ায় বেশি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের অধিকারী মনে করা হতো এবং বড়ো বড়ো পদমর্যাদার অধিকারী এবং সহায় সম্পদের অধিকারী ছিলো, তাদেরকে দেখলাম জান্নাতের দরজায় বাধাগ্রস্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ যেন তাদেরকে বাধা দিয়ে রেখেছে, ফলে তারা প্রবেশ করতে পারছে না।
এ কথার দুটি অর্থ হতে পারে, হয়তো তারা জান্নাতের উপযুক্ত, কিন্তু তাদের হিসাব-নিকাশ অনেক দীর্ঘ, যা পরিষ্কার করার আগে তারা জান্নাতে যেতে পারবে না। এ জন্যে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অথবা যারা জাহান্নামী, তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়েছে যে, তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাও। এ জন্যে তারা দাঁড়িয়ে আছে।
আর জাহান্নামের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখলাম, জাহান্নামে প্রবেশকারীদের মধ্যে অধিকাংশ হলো নারী。
টিকাঃ
৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৭৯৭, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৯১৯, মুসনাদে আহমাদ হাদীস নং ২০৮২৪
وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كُنْتُ عَلَى بَابِ الْجَنَّةِ، فَكَانَ عَامَّةُ مَنْ dakhalaهَا الْمَسَاكِينُ وَ أَصْحَابُ الْجَدِ مَحْبُوسُونَ غَيْرَ أَنَّ أَصْحَابَ النَّارِ قَدْ أُمِرَ بِهِمْ إِلَى النَّارِ، وَقُمْتُ عَلَى بَابِ النَّارِ، فَإِذَا عَامَّةُ مَنْ dakhalaهَا النِّسَاءُ
হযরত উসামা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক প্রিয় সাহাবী ছিলেন এবং তার পালকপুত্র যায়েদ ইবনে হারেসা রাযি.-এর ছেলে ছিলেন। অতএব উসামা রাযি. ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পালকপৌত্র। তিনি বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে আছি (এটি সম্ভবত মেরাজের সময়কার ঘটনা। কারণ, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জান্নাত ও জাহান্নাম ভ্রমণ করানো হয়েছিলো। অথবা এ ঘটনা অন্য কোনো স্বপ্নজগত বা কাশফ জগতেরও হতে পারে। আল্লাহই ভালো জানেন।) এক পর্যায়ে দেখলাম, জান্নাতে যতো মানুষ আছে তাদের অধিকাংশই গরীব শ্রেণির। পক্ষান্তরে যাদেরকে দুনিয়ায় বেশি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের অধিকারী মনে করা হতো এবং বড়ো বড়ো পদমর্যাদার অধিকারী এবং সহায় সম্পদের অধিকারী ছিলো, তাদেরকে দেখলাম জান্নাতের দরজায় বাধাগ্রস্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ যেন তাদেরকে বাধা দিয়ে রেখেছে, ফলে তারা প্রবেশ করতে পারছে না।
এ কথার দুটি অর্থ হতে পারে, হয়তো তারা জান্নাতের উপযুক্ত, কিন্তু তাদের হিসাব-নিকাশ অনেক দীর্ঘ, যা পরিষ্কার করার আগে তারা জান্নাতে যেতে পারবে না। এ জন্যে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অথবা যারা জাহান্নামী, তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়েছে যে, তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাও। এ জন্যে তারা দাঁড়িয়ে আছে।
আর জাহান্নামের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখলাম, জাহান্নামে প্রবেশকারীদের মধ্যে অধিকাংশ হলো নারী。
টিকাঃ
৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৭৯৭, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৯১৯, মুসনাদে আহমাদ হাদীস নং ২০৮২৪