📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 প্রাণ যাওয়া মাত্র মুচকি হাসি

📄 প্রাণ যাওয়া মাত্র মুচকি হাসি


যেই বুযুর্গকে সারা জীবন হাসতে দেখা যায়নি, মৃতু্যুকালে যারা তাকে দেখেছে, তাদের বিবরণ হলো, তার প্রাণ বের হওয়ামাত্র চেহারা উজ্জ্বল হয়ে মুচকি হাসি ফুটে উঠেছে। কারণ, এখন সে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে যে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের জন্যে সৃষ্টি করেছেন।

যেই বুযুর্গকে সারা জীবন হাসতে দেখা যায়নি, মৃত্যুকালে যারা তাকে দেখেছে, তাদের বিবরণ হলো, তার প্রাণ বের হওয়ামাত্র চেহারা উজ্জ্বল হয়ে মুচকি হাসি ফুটে উঠেছে। কারণ, এখন সে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে যে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের জন্যে সৃষ্টি করেছেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 গাফেলতের জীবন খুব খারাপ

📄 গাফেলতের জীবন খুব খারাপ


আল্লাহ যাদেরকে এই চিন্তা দান করেছেন যে, এখন আল্লাহ আমার উপর সন্তুষ্ট না অসন্তুষ্ট, তার মুখে কী করে হাসি ফুটতে পারে? কিন্তু আল্লাহরই একটা মেহেরবানী যে, তিনি আমাদেরকে এ অবস্থায় রাখেন না। যদি দুনিয়ার সব মানুষের অবস্থা এমন হয়ে যায়, তাহলে দুনিয়া অচল হয়ে পড়বে। দুনিয়ার কোনো কাজ-কারবার চলবে না। এ জন্যে ব্যাপকভাবে মানুষের মধ্যে এ অবস্থা সৃষ্টি করেন না। তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বার বার হাদীসে সতর্ক করেছেন যে, এর অর্থ এই নয় যে, সবসময় গাফলতে ডুবে থাকবে। কখনো এ কথা চিন্তা করবে না যে, জান্নাতের দিকে যাচ্ছি, না জাহান্নামের দিকে। তুমি বরং চোখ খুলে একটু দেখো, কোন পথে যাচ্ছো, জান্নাতের পথে না জাহান্নামের পথে? নিজের আমলের দিকে একটু দৃষ্টি বুলিয়ে দেখো, কি আমল করছো? আল্লাহ মেহেরবানী করে আমাদের সকলকে ঐ দলের অন্তর্ভুক্ত করুন, যাদেরকে তিনি জান্নাতের জন্যে সৃষ্টি করেছেন。

আল্লাহ যাদেরকে এই চিন্তা দান করেছেন যে, এখন আল্লাহ আমার উপর সন্তুষ্ট না অসন্তুষ্ট, তার মুখে কী করে হাসি ফুটতে পারে? কিন্তু আল্লাহরই একটা মেহেরবানী যে, তিনি আমাদেরকে এ অবস্থায় রাখেন না। যদি দুনিয়ার সব মানুষের অবস্থা এমন হয়ে যায়, তাহলে দুনিয়া অচল হয়ে পড়বে। দুনিয়ার কোনো কাজ-কারবার চলবে না। এ জন্যে ব্যাপকভাবে মানুষের মধ্যে এ অবস্থা সৃষ্টি করেন না। তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বার বার হাদীসে সতর্ক করেছেন যে, এর অর্থ এই নয় যে, সবসময় গাফলতে ডুবে থাকবে। কখনো এ কথা চিন্তা করবে না যে, জান্নাতের দিকে যাচ্ছি, না জাহান্নামের দিকে। তুমি বরং চোখ খুলে একটু দেখো, কোন পথে যাচ্ছো, জান্নাতের পথে না জাহান্নামের পথে? নিজের আমলের দিকে একটু দৃষ্টি বুলিয়ে দেখো, কি আমল করছো? আল্লাহ মেহেরবানী করে আমাদের সকলকে ঐ দলের অন্তর্ভুক্ত করুন, যাদেরকে তিনি জান্নাতের জন্যে সৃষ্টি করেছেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 বাহ্যিক শক্তি-সামর্থ্য ও রূপ-সৌন্দর্যের উপর দম্ভ করো না

📄 বাহ্যিক শক্তি-সামর্থ্য ও রূপ-সৌন্দর্যের উপর দম্ভ করো না


পরবর্তী হাদীস হলো,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّهُ لَيَأْتِي الرَّجُلُ الْعَظِيمُ السَّمِينُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يَزِنُ عِنْدَ اللَّهِ جَنَاحَ بَعُوضَةٍ
হযরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন এমন এক লোককে আনা হবে, যে শারীরিক দিক থেকে তো অনেক মোটা-তাজা এবং দুনিয়ার মর্যাদায় অনেক বড়ো হবে, কিন্তু আল্লাহর কাছে তার মূল্য একটা মশার ডানার বরাবরও হবে না। দুনিয়ার এই শক্তি-সামর্থ ও রূপ-সৌন্দর্য সেদিন কোনো কাজে আসবে না। কারণ, এসব সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও সে আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজ করেনি। এ জন্যে আল্লাহর কাছে একটা মশার ডানার বরাবর মূল্যও তার নেই।
উক্ত হাদীসের উদ্দেশ্য হলো, নিজের বাহ্যিক শক্তি-সামর্থ ও রূপ-সৌন্দর্যের এবং পদমর্যাদা ও সহায়-সম্পদের উপর কখনো দম্ভ করো না।

টিকাঃ
৫. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৩৬০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৯৯১

পরবর্তী হাদীস হলো,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّهُ لَيَأْتِي الرَّجُلُ الْعَظِيمُ السَّمِينُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يَزِنُ عِنْدَ اللَّهِ جَنَاحَ بَعُوضَةٍ
হযরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন এমন এক লোককে আনা হবে, যে শারীরিক দিক থেকে তো অনেক মোটা-তাজা এবং দুনিয়ার মর্যাদায় অনেক বড়ো হবে, কিন্তু আল্লাহর কাছে তার মূল্য একটা মশার ডানার বরাবরও হবে না। দুনিয়ার এই শক্তি-সামর্থ ও রূপ-সৌন্দর্য সেদিন কোনো কাজে আসবে না। কারণ, এসব সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও সে আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজ করেনি। এ জন্যে আল্লাহর কাছে একটা মশার ডানার বরাবর মূল্যও তার নেই।
উক্ত হাদীসের উদ্দেশ্য হলো, নিজের বাহ্যিক শক্তি-সামর্থ ও রূপ-সৌন্দর্যের এবং পদমর্যাদা ও সহায়-সম্পদের উপর কখনো দম্ভ করো না。

টিকাঃ
৫. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৩৬০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৯৯১

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 মসজিদে নববীর ঝাড়ুদার নারী

📄 মসজিদে নববীর ঝাড়ুদার নারী


কারণ, এসব কিছু আল্লাহর নিকট একটি মশার ডানার সমান মূল্যও রাখে না। আসল দেখার বিষয় হলো, আমল কেমন করেছে এবং আল্লাহর রাস্তায় চলছে কি না।
وَعَنْهُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ امْرَأَةً سَوْدَاءَ كَانَتْ تَقُمُّ الْمَسْجِدَ أَوْ شَابًا فَفَقَدَهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَ عَنْهَا أَوْ عَنْهُ فَقَالُوا مَاتَ قَالَ أَفَلَا كُنْتُمْ آذَنْتُمُونِي قَالَ فَكَأَنَّهُمْ صَغَرُوا أَمْرَهَا أَوْ أَمْرَهُ فَقَالَ دُلُّونِي عَلَى قَبْرِهِ فَدَلُّوهُ فَصَلَّى عَلَيْهَا ثُمَّ قَالَ إِنَّ هَذِهِ الْقُبُورَ مَمْلُؤَةٌ ظُلْمَةٌ عَلَى أَهْلِهَا وَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُنَوِرُهَا لَهُمْ بِصَلَاتِي عَلَيْهِمْ
উক্ত হাদীসে হযরত আবু হোরায়রা রাযি. ঘটনা বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জামানায় এক মহিলা ছিলেন। যিনি মাঝে মধ্যে এসে মসজিদে নববী ঝাড়ু দিতেন। তার চেহারা ছিলো কালো। হঠাৎ কিছুদিন থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখলেন না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে জিজ্ঞাসা করলেন, কি ব্যাপার, অনেক দিন থেকে ঐ মহিলাকে দেখছি না কেন, যে মহিলা মসজিদ ঝাড়ু দিতো। সে এখন ঝাড়ু দিতে আসে না কেন? দেখুন! একেকজন সাহাবীর সঙ্গে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কেমন সম্পর্ক ছিলো। এই মহিলা সাহাবী মসজিদে এসে ঝাড়ু দিয়ে চলে যেতেন। তার কথাও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মনে রাখতেন। যার কারণে এখন না দেখে জিজ্ঞাসা করছেন যে, সে কোথায়?
সাহাবায়ে কেরام বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে তো ইন্তিকাল করেছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার মৃত্যু-সংবাদ আমাকে দাওনি কেন? সাহাবায়ে কেরাম চুপ হয়ে গেলেন। কিছু বললেন না। কিন্তু তাদের অবস্থা থেকে বোঝা যাচ্ছিলো যে, সে তো একজন সাধারণ মানুষ। তার মৃত্যু-সংবাদ এমন কি গুরুত্ব রাখে যে, আপনার মতো ব্যক্তিত্বকে খবর দিতে হবে। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আচ্ছা তার কবর কোথায় আমাকে দেখিয়ে দাও। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে সঙ্গে করে তার কবরে গিয়ে তার জানাযার নামায আদায় করলেন。

টিকাঃ
৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২৫১, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৫৮৮, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৭৮৮, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৫১৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮২৮০.

কারণ, এসব কিছু আল্লাহর নিকট একটি মশার ডানার সমান মূল্যও রাখে না। আসল দেখার বিষয় হলো, আমল কেমন করেছে এবং আল্লাহর রাস্তায় চলছে কি না।
وَعَنْهُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ امْرَأَةً سَوْدَاءَ كَانَتْ تَقُمُّ الْمَسْجِدَ أَوْ شَابًا فَفَقَدَهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَ عَنْهَا أَوْ عَنْهُ فَقَالُوا مَاتَ قَالَ أَفَلَا كُنْتُمْ آذَنْتُمُونِي قَالَ فَكَأَنَّهُمْ صَغَرُوا أَمْرَهَا أَوْ أَمْرَهُ فَقَالَ دُلُّونِي عَلَى قَبْرِهِ فَدَلُّوهُ فَصَلَّى عَلَيْهَا ثُمَّ قَالَ إِنَّ هَذِهِ الْقُبُورَ مَمْلُؤَةٌ ظُلْمَةٌ عَلَى أَهْلِهَا وَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُنَوِرُهَا لَهُمْ بِصَلَاتِي عَلَيْهِمْ
উক্ত হাদীসে হযরত আবু হোরায়রা রাযি. ঘটনা বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জামানায় এক মহিলা ছিলেন। যিনি মাঝে মধ্যে এসে মসজিদে নববী ঝাড়ু দিতেন। তার চেহারা ছিলো কালো। হঠাৎ কিছুদিন থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখলেন না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে জিজ্ঞাসা করলেন, কি ব্যাপার, অনেক দিন থেকে ঐ মহিলাকে দেখছি না কেন, যে মহিলা মসজিদ ঝাড়ু দিতো। সে এখন ঝাড়ু দিতে আসে না কেন? দেখুন! একেকজন সাহাবীর সঙ্গে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কেমন সম্পর্ক ছিলো। এই মহিলা সাহাবী মসজিদে এসে ঝাড়ু দিয়ে চলে যেতেন। তার কথাও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মনে রাখতেন। যার কারণে এখন না দেখে জিজ্ঞাসা করছেন যে, সে কোথায়?
সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে তো ইন্তিকাল করেছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার মৃত্যু-সংবাদ আমাকে দাওনি কেন? সাহাবায়ে কেরাম চুপ হয়ে গেলেন। কিছু বললেন না। কিন্তু তাদের অবস্থা থেকে বোঝা যাচ্ছিলো যে, সে তো একজন সাধারণ মানুষ। তার মৃত্যু-সংবাদ এমন কি গুরুত্ব রাখে যে, আপনার মতো ব্যক্তিত্বকে খবর দিতে হবে। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আচ্ছা তার কবর কোথায় আমাকে দেখিয়ে দাও। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে সঙ্গে করে তার কবরে গিয়ে তার জানাযার নামায আদায় করলেন。

টিকাঃ
৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২৫১, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৫৮৮, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৭৮৮, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৫১৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮২৮০.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00