📄 বিনম্রতা ও ধনাঢ্যতার সহাবস্থান
সুতরাং এমন সংশয়ের কোনো কারণ নেই যে, কেউ যদি সম্পদশালী ও সচ্ছল হয়, তাহলে সে অবশ্যই জাহান্নামে যাবে। তা নয়। বরং আল্লাহ যদি কাউকে ধন-সম্পদ দেন তাহলে এটা অবশ্যই নেয়ামত। এর কারণে যদি তার অন্তরে অহংকার না আসে। বিনয়-নম্রতা এবং আল্লাহর সামনে নিজের অসহায়ত্ব ও মুখাপেক্ষিতার স্বীকারোক্তি থাকে। মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করে। আল্লাহ ও তাঁর মাখলুকের হক যথাযথভাবে আদায় করে। এমন ব্যক্তি ইনশাআল্লাহ মিসকীন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হবে। যাদের ব্যাপারে হাদীসে জান্নাতের সুসংবাদ এসেছে।
সুতরাং এমন সংশয়ের কোনো কারণ নেই যে, কেউ যদি সম্পদশালী ও সচ্ছল হয়, তাহলে সে অবশ্যই জাহান্নামে যাবে। তা নয়। বরং আল্লাহ যদি কাউকে ধন-সম্পদ দেন তাহলে এটা অবশ্যই নেয়ামত। এর কারণে যদি তার অন্তরে অহংকার না আসে। বিনয়-নম্রতা এবং আল্লাহর সামনে নিজের অসহায়ত্ব ও মুখাপেক্ষিতার স্বীকারোক্তি থাকে। মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করে। আল্লাহ ও তাঁর মাখলুকের হক যথাযথভাবে আদায় করে। এমন ব্যক্তি ইনশাআল্লাহ মিসকীন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হবে। যাদের ব্যাপারে হাদীসে জান্নাতের সুসংবাদ এসেছে।
📄 দারিদ্র্য ও বিনম্রতা ভিন্ন বিষয়
এক হাদীসে এসেছে- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'আ করেছেন,
اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مِسْكِينًا وَأَمِتْنِي مِسْكِينًا وَاحْشُرْنِي فِي زُمْرَةِ الْمَسَاكِينِ 'হে আল্লাহ! আমাকে মিসকীন অবস্থায় জীবিত রাখুন, মিসকীন অবস্থায় মৃত্যু দিন এবং মিসকীনদের সঙ্গে আমার হাশর করুন।'
অন্য এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'আ করেছেন,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْفَقْرِ 'হে আল্লাহ! আমি দারিদ্র্য ও অন্যের মুখাপেক্ষিতা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।'
এখানে দেখা যাচ্ছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দারিদ্র্য থেকে আশ্রয় চাচ্ছেন, আর উপরের হাদীসে দেখা গেলো, তিনি মিসকীন হিসেবে জীবন, মৃত্যু এবং মিসকীনদের সাথে হাশর প্রার্থনা করছেন। অতএব বোঝা গেলো, দারিদ্র্য আর মিসকীনী এক কথা নয়। দারিদ্র্য হলো, অভাব-অনটন। পক্ষান্তরে মিসকীনী অর্থ হলো, স্বভাবগত বিনয়, আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতা, আল্লাহর সামনে নিজের দীনতা-হীনতা ও অসহায়ত্বের প্রকাশ এবং অসহায়- অনাথের সঙ্গে সদাচরণ ইত্যাদি। উক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ যদি কারো অন্তরে থাকে, তবে সে আলোচ্য হাদীসের সুসংবাদের অধিকারী হবে।
টিকাঃ
৩. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২২৭৫, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪১১৬
৪. সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৫৩৬৫, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩২০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৭৭০৮
এক হাদীসে এসেছে- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'আ করেছেন,
اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مِسْكِينًا وَأَمِتْنِي مِسْكِينًا وَاحْشُرْنِي فِي زُمْرَةِ الْمَسَاكِينِ 'হে আল্লাহ! আমাকে মিসকীন অবস্থায় জীবিত রাখুন, মিসকীন অবস্থায় মৃত্যু দিন এবং মিসকীনদের সঙ্গে আমার হাশর করুন।'
অন্য এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'আ করেছেন,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْفَقْرِ 'হে আল্লাহ! আমি দারিদ্র্য ও অন্যের মুখাপেক্ষিতা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।'
এখানে দেখা যাচ্ছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দারিদ্র্য থেকে আশ্রয় চাচ্ছেন, আর উপরের হাদীসে দেখা গেলো, তিনি মিসকীন হিসেবে জীবন, মৃত্যু এবং মিসকীনদের সাথে হাশর প্রার্থনা করছেন। অতএব বোঝা গেলো, দারিদ্র্য আর মিসকীনী এক কথা নয়। দারিদ্র্য হলো, অভাব-অনটন। পক্ষান্তরে মিসকীনী অর্থ হলো, স্বভাবগত বিনয়, আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতা, আল্লাহর সামনে নিজের দীনতা-হীনতা ও অসহায়ত্বের প্রকাশ এবং অসহায়- অনাথের সঙ্গে সদাচরণ ইত্যাদি। উক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ যদি কারো অন্তরে থাকে, তবে সে আলোচ্য হাদীসের সুসংবাদের অধিকারী হবে。
টিকাঃ
৩. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২২৭৫, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪১১৮
৪. সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৫৩৬৫, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩২০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৭৭০৮
📄 জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে আল্লাহর ফায়সালা
আলোচ্য হাদীসের শেষাংশে এসেছে যে, আল্লাহ উভয়ের মাঝে ফয়সালা করলেন এভাবে- জান্নাতকে বললেন, তুমি হলে আমার রহমতের নিদর্শন। যাকে রহমত ও দয়া করতে চাই, তোমার দ্বারা তার প্রতি দয়া করবো। আর জাহান্নামকে বললেন, তুমি আমার আযাবের নিদর্শন। যাকে আযাব দিতে চাই, তোমার দ্বারা আযাব দেবো। জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়কেই মানুষ দ্বারা পূর্ণ করবো। এ কারণে দুনিয়ায় দুই ধরনের লোকই পাওয়া যাবে। জান্নাতের অধিকারী লোকও পাওয়া যাবে, তারা জান্নাতের কাজ করে। আবার জাহান্নামের উপযুক্ত লোকও পাওয়া যাবে, তারা জাহান্নামের কাজ করে। আমরা কেবল দু'আ করবো, আল্লাহ যেন আমাদেরকে ঐ সকল লোকের অন্তর্ভুক্ত করেন, যাদেরকে তিনি জান্নাতের জন্যে তৈরী করেছেন। আমীন। ছুম্মা আমীন।
আলোচ্য হাদীসের শেষাংশে এসেছে যে, আল্লাহ উভয়ের মাঝে ফয়সালা করলেন এভাবে- জান্নাতকে বললেন, তুমি হলে আমার রহমতের নিদর্শন। যাকে রহমত ও দয়া করতে চাই, তোমার দ্বারা তার প্রতি দয়া করবো। আর জাহান্নামকে বললেন, তুমি আমার আযাবের নিদর্শন। যাকে আযাব দিতে চাই, তোমার দ্বারা আযাব দেবো। জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়কেই মানুষ দ্বারা পূর্ণ করবো। এ কারণে দুনিয়ায় দুই ধরনের লোকই পাওয়া যাবে। জান্নাতের অধিকারী লোকও পাওয়া যাবে, তারা জান্নাতের কাজ করে। আবার জাহান্নামের উপযুক্ত লোকও পাওয়া যাবে, তারা জাহান্নামের কাজ করে। আমরা কেবল দু'আ করবো, আল্লাহ যেন আমাদেরকে ঐ সকল লোকের অন্তর্ভুক্ত করেন, যাদেরকে তিনি জান্নাতের জন্যে তৈরী করেছেন। আমীন। ছুম্মা আমীন।
📄 জনৈক বুযুর্গের পরকাল ভীতি
এক বুযুর্গ সম্পর্কে প্রসিদ্ধ ছিলো যে, তিনি জীবনে কখনো হাসেননি। এমনকি তার মুখে কখনো মুচকি হাসিও দেখা যায়নি। সর্বদাই তিনি চিন্তাগ্রস্থ থাকতেন। কেউ প্রশ্ন করলো, হযরত আপনার চেহারায় কখনো একটু মুচকি হাসিও দেখা যায় না, আপনি সবসময় শুধু চিন্তাগ্রস্থ থাকেন, এর কারণ কী? তিনি উত্তরে বললেন, ভাই! আসল ঘটনা হলো, আমি হাদীসে শুনেছি যে, আল্লাহ কিছু মানুষ তৈরী করেছেন জান্নাতের জন্যে, আর কিছু মানুষ তৈরী করেছেন জাহান্নামের জন্যে। কিন্তু আমি জানি না যে, আমি কোন দলের অন্তর্ভুক্ত। যতোক্ষণ পর্যন্ত আমি নিশ্চিত হতে পারবো না যে, আমি জান্নাতী দলের অন্তর্ভুক্ত, ততোক্ষণ পর্যন্ত কীভাবে হাসি আসবে, বলো? এ জন্যেই আমি সর্বদা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ থাকি।
এক বুযুর্গ সম্পর্কে প্রসিদ্ধ ছিলো যে, তিনি জীবনে কখনো হাসেননি। এমনকি তার মুখে কখনো মুচকি হাসিও দেখা যায়নি। সর্বদাই তিনি চিন্তাগ্রস্থ থাকতেন। কেউ প্রশ্ন করলো, হযরত আপনার চেহারায় কখনো একটু মুচকি হাসিও দেখা যায় না, আপনি সবসময় শুধু চিন্তাগ্রস্থ থাকেন, এর কারণ কী? তিনি উত্তরে বললেন, ভাই! আসল ঘটনা হলো, আমি হাদীসে শুনেছি যে, আল্লাহ কিছু মানুষ তৈরী করেছেন জান্নাতের জন্যে, আর কিছু মানুষ তৈরী করেছেন জাহান্নামের জন্যে। কিন্তু আমি জানি না যে, আমি কোন দলের অন্তর্ভুক্ত। যতোক্ষণ পর্যন্ত আমি নিশ্চিত হতে পারবো না যে, আমি জান্নাতী দলের অন্তর্ভুক্ত, ততোক্ষণ পর্যন্ত কীভাবে হাসি আসবে, বলো? এ জন্যেই আমি সর্বদা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ থাকি।