📄 অহংকারের গন্তব্য জাহান্নাম
আল্লাহ আমাদেরকে এ ব্যাধি থেকে রক্ষা করুন। এ রোগ মানুষের অন্তরে এমনভাবে প্রবেশ করে যে, অনেক সময় সে নিজেও তা অনুভব করতে পারে না। সে মনে করে, আমার তো সবই ঠিক আছে, কিন্তু বস্তুত সে অহংকারের রোগে আক্রান্ত। আর এ পথে সে সোজা জাহান্নামের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। কারণ, প্রকৃত অহংকারের সঙ্গে ঈমান একত্র হতে পারে না। এ জন্যে এ রোগের চিকিৎসা খুবই জরুরী। আলোচ্য হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়েই আমাদেরকে সর্তক করছেন।
আল্লাহ আমাদেরকে এ ব্যাধি থেকে রক্ষা করুন। এ রোগ মানুষের অন্তরে এমনভাবে প্রবেশ করে যে, অনেক সময় সে নিজেও তা অনুভব করতে পারে না। সে মনে করে, আমার তো সবই ঠিক আছে, কিন্তু বস্তুত সে অহংকারের রোগে আক্রান্ত। আর এ পথে সে সোজা জাহান্নামের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। কারণ, প্রকৃত অহংকারের সঙ্গে ঈমান একত্র হতে পারে না। এ জন্যে এ রোগের চিকিৎসা খুবই জরুরী। আলোচ্য হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়েই আমাদেরকে সর্তক করছেন।
📄 জান্নাতে দুর্বল ও গরীব লোকের আধিক্য
আলোচ্য হাদীসের দ্বিতীয়াংশে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাত দুর্বল ও গরীব শ্রেণির লোক দ্বারা পূর্ণ করা হবে। অর্থাৎ, যাদেরকে তোমরা দুনিয়াতে গুরুত্বহীন মনে করো, গরীব-মিসকীন, ফকির-ফুকারা, খুব সাধারণ মানুষ, সাধারণ কাপড় পরিধানকারী, যাদেরকে মানুষ কোনো গুরুত্ব দেয় না এ শ্রেণির অধিকাংশ মানুষ আল্লাহর নৈকট্যভাজন হয়। তাদের অন্তরে আল্লাহর আযমত ও মহব্বত থাকে। তাদের উপর আল্লাহর রহমত নাযিল হয়। এ জন্যে অধিকাংশ জান্নাতীই এই শ্রেণির লোক হবে।
কুরআনে কারীমে দেখুন! যতো নবী-রাসূল দুনিয়ায় এসেছেন তাদের অধিকাংশ অনুসারী এ রকম গরীব শ্রেণির সাধারণ মানুষ ছিলেন। এ জন্যে মুশরিকরা বলতো- আমরা এ সব গরীব-মিসকীনদের সঙ্গে এক মজলিসে কীভাবে বসবো? এরা কেউ জেলে, কেউ জোলা, আবার কেউ কাঠমিস্ত্রি, আরো এ জাতীয় নগণ্য পেশাজীবী। আমরা হলাম বড়ো বড়ো নেতা। আমরা তাদের সঙ্গে আপনার কাছে কী করে বসতে পারি? কিন্তু সৌভাগ্যের বিষয় হলো, দুনিয়ার মানুষ যাই ভাবুক না কেন, আল্লাহ এই দুর্বল শ্রেণির লোকদেরকে প্রকৃত মর্যাদা ও ভালোবাসা দান করেছেন। তাই কখনো এই শ্রেণির লোকদেরকে ছোট বা তুচ্ছ ভাববেন না। ভুলেও যেন তাদের প্রতি কোনো তাচ্ছিল্যের ভাব অন্তরে জায়গা না পায় এবং আচরণে-উচ্চারণে তাদের প্রতি কোনো অবমূল্যায়ন না হয়।
আলোচ্য হাদীসের দ্বিতীয়াংশে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাত দুর্বল ও গরীব শ্রেণির লোক দ্বারা পূর্ণ করা হবে। অর্থাৎ, যাদেরকে তোমরা দুনিয়াতে গুরুত্বহীন মনে করো, গরীব-মিসকীন, ফকির-ফুকারা, খুব সাধারণ মানুষ, সাধারণ কাপড় পরিধানকারী, যাদেরকে মানুষ কোনো গুরুত্ব দেয় না এ শ্রেণির অধিকাংশ মানুষ আল্লাহর নৈকট্যভাজন হয়। তাদের অন্তরে আল্লাহর আযমত ও মহব্বত থাকে। তাদের উপর আল্লাহর রহমত নাযিল হয়। এ জন্যে অধিকাংশ জান্নাতীই এই শ্রেণির লোক হবে।
কুরআনে কারীমে দেখুন! যতো নবী-রাসূল দুনিয়ায় এসেছেন তাদের অধিকাংশ অনুসারী এ রকম গরীব শ্রেণির সাধারণ মানুষ ছিলেন। এ জন্যে মুশরিকরা বলতো- আমরা এ সব গরীব-মিসকীনদের সঙ্গে এক মজলিসে কীভাবে বসবো? এরা কেউ জেলে, কেউ জোলা, আবার কেউ কাঠমিস্ত্রি, আরো এ জাতীয় নগণ্য পেশাজীবী। আমরা হলাম বড়ো বড়ো নেতা। আমরা তাদের সঙ্গে আপনার কাছে কী করে বসতে পারি? কিন্তু সৌভাগ্যের বিষয় হলো, দুনিয়ার মানুষ যাই ভাবুক না কেন, আল্লাহ এই দুর্বল শ্রেণির লোকদেরকে প্রকৃত মর্যাদা ও ভালোবাসা দান করেছেন। তাই কখনো এই শ্রেণির লোকদেরকে ছোট বা তুচ্ছ ভাববেন না। ভুলেও যেন তাদের প্রতি কোনো তাচ্ছিল্যের ভাব অন্তরে জায়গা না পায় এবং আচরণে-উচ্চারণে তাদের প্রতি কোনো অবমূল্যায়ন না হয়।
📄 দুর্বল ও মিসকীন কারা
উক্ত হাদীসের বিশেষভাবে লক্ষণীয় আরেকটি বিষয় হলো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ব্যাপারে দুটি শব্দ ব্যবহার করেছেন। এক ضُعَفَاءُ, দুই مَسَاكِينٍ। ضُعَفَاءُ বা দুর্বল শ্রেণি বলতে বোঝানো হয়েছে, যারা শারীরিক দিক থেকে, সম্পদের দিক থেকে এবং পদমর্যাদার দিক থেকে দুর্বল। আর مَسَاكِينِ তথা মিসকীন শব্দের দুই অর্থ। একটি হলো, এমন লোক, যার কাছে অর্থ-বিত্ত নেই, গরীব। দ্বিতীয় অর্থ হলো, এমন ব্যক্তি, যার কাছে অর্থ থাক বা না থাক, কিন্তু তার স্বভাবের মধ্যে বিনয় ও নম্রতা আছে। এমন ব্যক্তি সম্পদশালী হলেও তার মধ্যে অহংকার আসে না। নম্র ও বিনয়ী হয়। মিসকীনদের সঙ্গে উঠাবসা করে। তাদেরকে ভালোবাসে। তাদেরকে কাছে রাখে। এমন ব্যক্তিও মিসকীন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
উক্ত হাদীসের বিশেষভাবে লক্ষণীয় আরেকটি বিষয় হলো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ব্যাপারে দুটি শব্দ ব্যবহার করেছেন। এক ضُعَفَاءُ, দুই مَسَاكِينٍ। ضُعَفَاءُ বা দুর্বল শ্রেণি বলতে বোঝানো হয়েছে, যারা শারীরিক দিক থেকে, সম্পদের দিক থেকে এবং পদমর্যাদার দিক থেকে দুর্বল। আর مَسَاكِينِ তথা মিসকীন শব্দের দুই অর্থ। একটি হলো, এমন লোক, যার কাছে অর্থ-বিত্ত নেই, গরীব। দ্বিতীয় অর্থ হলো, এমন ব্যক্তি, যার কাছে অর্থ থাক বা না থাক, কিন্তু তার স্বভাবের মধ্যে বিনয় ও নম্রতা আছে। এমন ব্যক্তি সম্পদশালী হলেও তার মধ্যে অহংকার আসে না। নম্র ও বিনয়ী হয়। মিসকীনদের সঙ্গে উঠাবসা করে। তাদেরকে ভালোবাসে। তাদেরকে কাছে রাখে। এমন ব্যক্তিও মিসকীন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
📄 বিনম্রতা ও ধনাঢ্যতার সহাবস্থান
সুতরাং এমন সংশয়ের কোনো কারণ নেই যে, কেউ যদি সম্পদশালী ও সচ্ছল হয়, তাহলে সে অবশ্যই জাহান্নামে যাবে। তা নয়। বরং আল্লাহ যদি কাউকে ধন-সম্পদ দেন তাহলে এটা অবশ্যই নেয়ামত। এর কারণে যদি তার অন্তরে অহংকার না আসে। বিনয়-নম্রতা এবং আল্লাহর সামনে নিজের অসহায়ত্ব ও মুখাপেক্ষিতার স্বীকারোক্তি থাকে। মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করে। আল্লাহ ও তাঁর মাখলুকের হক যথাযথভাবে আদায় করে। এমন ব্যক্তি ইনশাআল্লাহ মিসকীন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হবে। যাদের ব্যাপারে হাদীসে জান্নাতের সুসংবাদ এসেছে।
সুতরাং এমন সংশয়ের কোনো কারণ নেই যে, কেউ যদি সম্পদশালী ও সচ্ছল হয়, তাহলে সে অবশ্যই জাহান্নামে যাবে। তা নয়। বরং আল্লাহ যদি কাউকে ধন-সম্পদ দেন তাহলে এটা অবশ্যই নেয়ামত। এর কারণে যদি তার অন্তরে অহংকার না আসে। বিনয়-নম্রতা এবং আল্লাহর সামনে নিজের অসহায়ত্ব ও মুখাপেক্ষিতার স্বীকারোক্তি থাকে। মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করে। আল্লাহ ও তাঁর মাখলুকের হক যথাযথভাবে আদায় করে। এমন ব্যক্তি ইনশাআল্লাহ মিসকীন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হবে। যাদের ব্যাপারে হাদীসে জান্নাতের সুসংবাদ এসেছে।