📄 তাসাওউফের উদ্দেশ্য
পীর-মুরীদির যে প্রথা চালু আছে, সে সম্পর্কে অনেকে মনে করে যে, পীর ছাহেবের হাতে হাত দিলেই বরকত হয়ে গেলো, বা পীর কিছু ওযীফা বলে দিলেন আর মুরিদ সেগুলো আদায় করে নিলো, ব্যস এখানেই শেষ। খুব ভালোভাবে মনে রাখবেন যে, এটা আদৌ পীর-মুরীদির আসল উদ্দেশ্য নয়। কোনো পীর বা শাইখের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার আসল উদ্দেশ্যই হলো, অন্তরে যে সব আধ্যাত্মিক ব্যাধি আছে, যেগুলোর শীর্ষ তালিকায় হলো অহংকার, সে সব ব্যাধির চিকিৎসা করানো। যেমনিভাবে রোগীর অনেক সময় জানা থাকে না যে, তার রোগ কী? ডাক্তার বলে দেন, তোমার এই রোগ আছে এবং এই রোগের চিকিৎসা করতে হবে, তদ্রূপ আধ্যাত্মিক রোগের চিকিৎসার জন্যেও শাইখের কাছে যেতে হয়। তিনি রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা দেন। সুতরাং শাইখের শরণাপন্ন হয়ে তার হাতে হাত রাখার উদ্দেশ্য হলো, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা।
পীর-মুরীদির যে প্রথা চালু আছে, সে সম্পর্কে অনেকে মনে করে যে, পীর ছাহেবের হাতে হাত দিলেই বরকত হয়ে গেলো, বা পীর কিছু ওযীফা বলে দিলেন আর মুরিদ সেগুলো আদায় করে নিলো, ব্যস এখানেই শেষ। খুব ভালোভাবে মনে রাখবেন যে, এটা আদৌ পীর-মুরীদির আসল উদ্দেশ্য নয়। কোনো পীর বা শাইখের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার আসল উদ্দেশ্যই হলো, অন্তরে যে সব আধ্যাত্মিক ব্যাধি আছে, যেগুলোর শীর্ষ তালিকায় হলো অহংকার, সে সব ব্যাধির চিকিৎসা করানো। যেমনিভাবে রোগীর অনেক সময় জানা থাকে না যে, তার রোগ কী? ডাক্তার বলে দেন, তোমার এই রোগ আছে এবং এই রোগের চিকিৎসা করতে হবে, তদ্রূপ আধ্যাত্মিক রোগের চিকিৎসার জন্যেও শাইখের কাছে যেতে হয়। তিনি রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা দেন। সুতরাং শাইখের শরণাপন্ন হয়ে তার হাতে হাত রাখার উদ্দেশ্য হলো, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা।
📄 প্রকৃত আধ্যাত্মিক চিকিৎসা
একটা সমস্যা হলো, আজকাল তাবিজ-তুমারের নাম হয়ে গিয়েছে রূহানী এলাজ বা আধ্যাত্মিক চিকিৎসা। খুব ভালো করে বুঝে নিন- এই তাবিজ- তুমার বা ঝাড়-ফুঁকের নাম আধ্যাত্মিক চিকিৎসা নয়। প্রকৃত আধ্যাত্মিক চিকিৎসা হলো, অন্তরে যে সব রোগ আছে- যেমন অহংকার, হিংসা, বিদ্বেষ, দুশমনি ইত্যাদি- এগুলোর চিকিৎসার জন্যে শাইখের শরাণাপন্ন হওয়ার পর শাইখ দেখবেন যে, তার অন্তরে আসলে কী রোগ আছে? রোগ নির্ণয়ের পর তার জন্যে সহজ চিকিৎসা কী হতে পারে, সে চিকিৎসা তিনি মুরীদকে দিবেন, আর তার দেওয়া চিকিৎসা অনুযায়ী মুরীদ আমল করবে। এটাই হলো প্রকৃত পীর-মুরীদি।
একটা সমস্যা হলো, আজকাল তাবিজ-তুমারের নাম হয়ে গিয়েছে রূহানী এলাজ বা আধ্যাত্মিক চিকিৎসা। খুব ভালো করে বুঝে নিন- এই তাবিজ- তুমার বা ঝাড়-ফুঁকের নাম আধ্যাত্মিক চিকিৎসা নয়। প্রকৃত আধ্যাত্মিক চিকিৎসা হলো, অন্তরে যে সব রোগ আছে- যেমন অহংকার, হিংসা, বিদ্বেষ, দুশমনি ইত্যাদি- এগুলোর চিকিৎসার জন্যে শাইখের শরাণাপন্ন হওয়ার পর শাইখ দেখবেন যে, তার অন্তরে আসলে কী রোগ আছে? রোগ নির্ণয়ের পর তার জন্যে সহজ চিকিৎসা কী হতে পারে, সে চিকিৎসা তিনি মুরীদকে দিবেন, আর তার দেওয়া চিকিৎসা অনুযায়ী মুরীদ আমল করবে। এটাই হলো প্রকৃত পীর-মুরীদি।
📄 হযরত থানভী রহ.-এর চিকিৎসা-পদ্ধতি
হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর ওখানে এ জাতীয় রোগীরা আসতেন এবং তিনি তাদের চিকিৎসা দিতেন। এ বিষয়ের উপর তার ওখানে বেশি গুরুত্বারোপ করা হতো। কোনো ঔষধ সেবন, কিংবা কোনো ওযীফা পাঠ করিয়ে এর চিকিৎসা হতো না, বরং তা হতো আমলের মাধ্যমে। অহংকারে আক্রান্ত এক লোক এসেছে তো তার চিকিৎসা ঠিক করলেন যে, মসজিদে যারা নামায পড়তে আসে, তুমি তাদের জুতা সোজা করবে। কোনো ওযীফা, কোনো তাসবীহ বা যিকির কিছুই দিলেন না। তাকে দেখেই বুঝতে পেরেছেন যে, তার মধ্যে অহংকার আছে এবং এটাই তার উপযুক্ত চিকিৎসা।
হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর ওখানে এ জাতীয় রোগীরা আসতেন এবং তিনি তাদের চিকিৎসা দিতেন। এ বিষয়ের উপর তার ওখানে বেশি গুরুত্বারোপ করা হতো। কোনো ঔষধ সেবন, কিংবা কোনো ওযীফা পাঠ করিয়ে এর চিকিৎসা হতো না, বরং তা হতো আমলের মাধ্যমে। অহংকারে আক্রান্ত এক লোক এসেছে তো তার চিকিৎসা ঠিক করলেন যে, মসজিদে যারা নামায পড়তে আসে, তুমি তাদের জুতা সোজা করবে। কোনো ওযীফা, কোনো তাসবীহ বা যিকির কিছুই দিলেন না। তাকে দেখেই বুঝতে পেরেছেন যে, তার মধ্যে অহংকার আছে এবং এটাই তার উপযুক্ত চিকিৎসা।
📄 অহংকারের গন্তব্য জাহান্নাম
আল্লাহ আমাদেরকে এ ব্যাধি থেকে রক্ষা করুন। এ রোগ মানুষের অন্তরে এমনভাবে প্রবেশ করে যে, অনেক সময় সে নিজেও তা অনুভব করতে পারে না। সে মনে করে, আমার তো সবই ঠিক আছে, কিন্তু বস্তুত সে অহংকারের রোগে আক্রান্ত। আর এ পথে সে সোজা জাহান্নামের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। কারণ, প্রকৃত অহংকারের সঙ্গে ঈমান একত্র হতে পারে না। এ জন্যে এ রোগের চিকিৎসা খুবই জরুরী। আলোচ্য হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়েই আমাদেরকে সর্তক করছেন।
আল্লাহ আমাদেরকে এ ব্যাধি থেকে রক্ষা করুন। এ রোগ মানুষের অন্তরে এমনভাবে প্রবেশ করে যে, অনেক সময় সে নিজেও তা অনুভব করতে পারে না। সে মনে করে, আমার তো সবই ঠিক আছে, কিন্তু বস্তুত সে অহংকারের রোগে আক্রান্ত। আর এ পথে সে সোজা জাহান্নামের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। কারণ, প্রকৃত অহংকারের সঙ্গে ঈমান একত্র হতে পারে না। এ জন্যে এ রোগের চিকিৎসা খুবই জরুরী। আলোচ্য হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়েই আমাদেরকে সর্তক করছেন।