📄 কিয়ামতের দিন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কীভাবে কথা বলবে?
হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. একবার কোথাও সফরে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় আধুনিক শিক্ষার অতি ভক্ত জনৈক ব্যক্তি সঙ্গে সাক্ষাত। তিনি কুরআনের একটি আয়াতের উপর এই সংশয় পেশ করলেন যে, হযরত কুরআনে এসেছে, কিয়ামতের দিন মানুষের অঙ্গপ্রতঙ্গ কথা বলবে। হাত সাক্ষ্য দিবে, আমার মাধ্যমে সে এই গোনাহ করেছে। পা সাক্ষ্য দিবে, আমার দ্বারা সে এই গোনাহ করেছে। তো হযরত হাত-পা কথা বলবে এটা তো একটা অদ্ভুত কথা হলো। এটা কী করে সম্ভব? হযরত বললেন, এটা আল্লাহর কুদরত, তিনি যাকে বাকশক্তি দান করবেন, সে কথা বলবে। সে বললো, হযরত এমন ঘটনা কখনো ঘটেছে কি? হযরত বললেন, তুমি কি দলিল জানতে চাচ্ছো, না কোনো দৃষ্টান্ত দেখতে চাচ্ছো? দলিল তো এতোটুকুই যথেষ্ট যে, আল্লাহ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। অতএব তিনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। আর সম্ভব হওয়ার জন্যে সব কিছুর দৃষ্টান্ত থাকতে হয় না। তখন ঐ লোক বললো, হযরত মনের প্রশান্তির জন্যে একটা দৃষ্টান্ত দেখান না। হযরত বললেন, আচ্ছা বলো তো, জিব কীভাবে কথা বলে? সে যেহেতু বলেছিলো জিব ছাড়া হাত কীভাবে কথা বলবে, এজন্যে হযরত বললেন, জিবের তো কোনো জিব নেই। তাহলে জিব কীভাবে কথা বলে? এটাও তো একটা গোশতের টুকরা। এখানে বাকশক্তি এলো কোথেকে? এটা তো আল্লাহই দান করেছেন। সুতরাং যে আল্লাহ জিবকে বাকশক্তি দান করেছেন, তিনি 'তো হাতকেও বাকশক্তি দান করতে পারেন। এতে আশ্চর্যের কী আছে?
যাই হোক, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বলেছেন, জান্নাত জাহান্নام পরস্পরে বির্তক করেছে। এটা প্রকৃত অর্থেও হতে পারে। আল্লাহ তাদেরকে বাকশক্তি দিয়েছেন, ফলে তারা কথা বলেছে। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। আবার এও হতে পারে যে, জান্নাত জাহান্নামের অবস্থা বোঝাবার জন্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা একটা উপমা দিয়েছেন।
হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. একবার কোথাও সফরে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় আধুনিক শিক্ষার অতি ভক্ত জনৈক ব্যক্তি সঙ্গে সাক্ষাত। তিনি কুরআনের একটি আয়াতের উপর এই সংশয় পেশ করলেন যে, হযরত কুরআনে এসেছে, কিয়ামতের দিন মানুষের অঙ্গপ্রতঙ্গ কথা বলবে। হাত সাক্ষ্য দিবে, আমার মাধ্যমে সে এই গোনাহ করেছে। পা সাক্ষ্য দিবে, আমার দ্বারা সে এই গোনাহ করেছে। তো হযরত হাত-পা কথা বলবে এটা তো একটা অদ্ভুত কথা হলো। এটা কী করে সম্ভব? হযরত বললেন, এটা আল্লাহর কুদরত, তিনি যাকে বাকশক্তি দান করবেন, সে কথা বলবে। সে বললো, হযরত এমন ঘটনা কখনো ঘটেছে কি? হযরত বললেন, তুমি কি দলিল জানতে চাচ্ছো, না কোনো দৃষ্টান্ত দেখতে চাচ্ছো? দলিল তো এতোটুকুই যথেষ্ট যে, আল্লাহ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। অতএব তিনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। আর সম্ভব হওয়ার জন্যে সব কিছুর দৃষ্টান্ত থাকতে হয় না। তখন ঐ লোক বললো, হযরত মনের প্রশান্তির জন্যে একটা দৃষ্টান্ত দেখান না। হযরত বললেন, আচ্ছা বলো তো, জিব কীভাবে কথা বলে? সে যেহেতু বলেছিলো জিব ছাড়া হাত কীভাবে কথা বলবে, এজন্যে হযরত বললেন, জিবের তো কোনো জিব নেই। তাহলে জিব কীভাবে কথা বলে? এটাও তো একটা গোশতের টুকরা। এখানে বাকশক্তি এলো কোথেকে? এটা তো আল্লাহই দান করেছেন। সুতরাং যে আল্লাহ জিবকে বাকশক্তি দান করেছেন, তিনি 'তো হাতকেও বাকশক্তি দান করতে পারেন। এতে আশ্চর্যের কী আছে?
📄 অহংকারী জাহান্নামে যাবে আর দুর্বল গরীব যাবে জান্নাতে
খোলাসা কথা হলো, জাহান্নام অহংকারী ও দাম্ভিক লোকদের দিয়ে পূর্ণ করা হবে, যারা নিজের বড়ত্ব প্রকাশ করে এবং অন্যের সঙ্গে অহংকারের আচরণ করে এবং অন্যকে তুচ্ছ দৃষ্টিতে দেখে।
পক্ষান্তরে জান্নাত পূর্ণ করা হবে দুর্বল ও গরীব প্রকৃতির লোক দ্বারা, যারা বাহ্যত দেখতে দুর্বল মনে হয়। যারা বিনয়ী এবং নিজেকে ছোট মনে করে। বিনয়ী ও বিনম্র আচরণ করে।
খোলাসা কথা হলো, জাহান্নাম অহংকারী ও দাম্ভিক লোকদের দিয়ে পূর্ণ করা হবে, যারা নিজের বড়ত্ব প্রকাশ করে এবং অন্যের সঙ্গে অহংকারের আচরণ করে এবং অন্যকে তুচ্ছ দৃষ্টিতে দেখে।
পক্ষান্তরে জান্নাত পূর্ণ করা হবে দুর্বল ও গরীব প্রকৃতির লোক দ্বারা, যারা বাহ্যত দেখতে দুর্বল মনে হয়। যারা বিনয়ী এবং নিজেকে ছোট মনে করে। বিনয়ী ও বিনম্র আচরণ করে।
📄 অহংকার আল্লাহর পছন্দ নয়
জাহান্নامকে আল্লাহ তা'আলা অহংকারীদের দিয়ে পূর্ণ করবেন। কারণ, অহংকারী হলো এমন ব্যক্তি, যে অন্যের উপর নিজের বড়োত্ব প্রকাশ করে। নিজেকে বড়ো মনে করে এবং অন্যকে ছোট মনে করে। নিজেকে মহান ভাবে, আর অন্যকে ভাবে তুচ্ছ। অহংকার আল্লাহর নিকট মুহূর্তের জন্যেও পছন্দ নয়। এক হাদীসে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহর রাব্বুল আলামীন বলেন,
الْكِبْرِيَاءُ رِدَائِي وَالْعِزَّةُ إِزَارِي فَمَنْ نَازَعَنِي وَاحِدًا مِنْهُمَا أُلْقِيهِ فِي النَّارِ
বস্তুত অহংকার ও বড়োত্ব হলো আমার চাদর। আমার বৈশিষ্ট্য। আল্লাহই হলেন প্রকৃত বড়ো। সুতরাং আমার চাদর নিয়ে যে ঝগড়া করবে, আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো।' অহংকার হলো, জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়ার আমল। আল্লাহ মেহেরবানী করে এই নাফরমানী থেকে আমাদেরকে হেফাজত করুন। এটা এমন এক গোনাহ, যাকে আত্মিক ব্যাধিকূলের জননী বলা হয়। অর্থাৎ, সকল গোনাহের মূল। এই এক গোনাহের কারণে কতো গোনাহ যে জন্ম নেয়, তার ইয়ত্তা নেই। একবার যদি অন্তরে অহংকার এবং নিজের বড়োত্বের কথা চলে আসে, তাহলে তা বিভিন্ন প্রকারের গোনাহে লিপ্ত করে দেয়。
টিকাঃ
২. সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৫৬৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৭০৭৮
জাহান্নামকে আল্লাহ তা'আলা অহংকারীদের দিয়ে পূর্ণ করবেন। কারণ, অহংকারী হলো এমন ব্যক্তি, যে অন্যের উপর নিজের বড়োত্ব প্রকাশ করে। নিজেকে বড়ো মনে করে এবং অন্যকে ছোট মনে করে। নিজেকে মহান ভাবে, আর অন্যকে ভাবে তুচ্ছ। অহংকার আল্লাহর নিকট মুহূর্তের জন্যেও পছন্দ নয়। এক হাদীসে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহর রাব্বুল আলামীন বলেন,
الْكِبْرِيَاءُ رِدَائِي وَالْعِزَّةُ إِزَارِي فَمَنْ نَازَعَنِي وَاحِدًا مِنْهُمَا أُلْقِيهِ فِي النَّارِ
বস্তুত অহংকার ও বড়োত্ব হলো আমার চাদর। আমার বৈশিষ্ট্য। আল্লাহই হলেন প্রকৃত বড়ো। সুতরাং আমার চাদর নিয়ে যে ঝগড়া করবে, আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো।' অহংকার হলো, জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়ার আমল। আল্লাহ মেহেরবানী করে এই নাফরমানী থেকে আমাদেরকে হেফাজত করুন। এটা এমন এক গোনাহ, যাকে আত্মিক ব্যাধিকূলের জননী বলা হয়। অর্থাৎ, সকল গোনাহের মূল। এই এক গোনাহের কারণে কতো গোনাহ যে জন্ম নেয়, তার ইয়ত্তা নেই। একবার যদি অন্তরে অহংকার এবং নিজের বড়োত্বের কথা চলে আসে, তাহলে তা বিভিন্ন প্রকারের গোনাহে লিপ্ত করে দেয়。
টিকাঃ
২. সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৫৬৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৭০৭৮
📄 অহংকারীর দৃষ্টান্ত
আরবী ভাষায় বড়ো সুন্দর প্রজ্ঞাপূর্ণ একটি দৃষ্টান্ত আছে। যার অনুবাদ এরকম- অহংকারীর দৃষ্টান্ত হলো ঐ লোকের মতো, যে পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। উপরে যাওয়ার কারণে সে যেমন অন্যদেরকে ছোট মনে করে এবং নিচে থেকে অন্য সকল মানুষ তাকে মনে করে ছোট, তদ্রূপ অহংকারী ব্যক্তি যখন অন্যের দিকে দৃষ্টি দেয়, তখন তাদেরকে ছোট ও তুচ্ছ মনে করে। অথচ শুধু মুমিন নয় একজন কাফেরের দিকেও তুচ্ছ দৃষ্টিতে দেখা কবীরা গোনাহ। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমীন। এভাবে অহংকারী লোক যতো অন্যদেরকে তুচ্ছ দৃষ্টিতে দেখতে থাকে, তার আমলনামায় ততো কবীরা গোনাহের পরিমাণ বাড়তে থাকে।
এমন অহংকারী যখন অন্যের সঙ্গে কথা বলে, তখন এমন রুক্ষভাবে কথা বলে যে, অন্যের অন্তরে আঘাত লাগে। আর কোনো মুসলমানের মনে কষ্ট দেওয়াও গোনাহ।
আরবী ভাষায় বড়ো সুন্দর প্রজ্ঞাপূর্ণ একটি দৃষ্টান্ত আছে। যার অনুবাদ এরকম- অহংকারীর দৃষ্টান্ত হলো ঐ লোকের মতো, যে পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। উপরে যাওয়ার কারণে সে যেমন অন্যদেরকে ছোট মনে করে এবং নিচে থেকে অন্য সকল মানুষ তাকে মনে করে ছোট, তদ্রূপ অহংকারী ব্যক্তি যখন অন্যের দিকে দৃষ্টি দেয়, তখন তাদেরকে ছোট ও তুচ্ছ মনে করে। অথচ শুধু মুমিন নয় একজন কাফেরের দিকেও তুচ্ছ দৃষ্টিতে দেখা কবীরা গোনাহ। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমীন। এভাবে অহংকারী লোক যতো অন্যদেরকে তুচ্ছ দৃষ্টিতে দেখতে থাকে, তার আমলনামায় ততো কবীরা গোনাহের পরিমাণ বাড়তে থাকে।
এমন অহংকারী যখন অন্যের সঙ্গে কথা বলে, তখন এমন রুক্ষভাবে কথা বলে যে, অন্যের অন্তরে আঘাত লাগে। আর কোনো মুসলমানের মনে কষ্ট দেওয়াও গোনাহ।