📄 জান্নাত ও জাহান্নামের বিতর্ক
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যে পরস্পরে এ বিষয়ে বির্তক হয় যে, কে উত্তম। জাহান্নام বলে, আমার মর্যাদা বেশি। কারণ, আমার মধ্যে এসে বড়ো বড়ো অহংকারী ও দাম্ভিক বসতি গড়বে। অর্থাৎ, যতো লোক অহংকারী, বড়ো বড়ো পদের অধিকারী, অনেক সম্পদশালী, নিজেকে অনেক বড়ো বলে এবং বড়ো মনে করে তারা সবাই আমার কাছে আসবে, সুতরাং আমি উত্তম। অপরদিকে জান্নাত বলে, আমার মধ্যে অসহায়, গরীব শ্রেণির লোক আসবে, অতএব আমি উত্তম। এরপর আল্লাহ উভয়ের মাঝে ফায়সালা করে জান্নাতকে সম্বোধন করে বলেন, তুমি হলে জান্নাত, আমার রহমত। তোমার মাধ্যমে আমার যাকে ইচ্ছা তাকে রহমত দান করবো। জাহান্নামকে সম্বোধন করে বললেন, তুমি হলে জাহান্নام, আমার আযাব। তোমার মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা তাকে আমি শাস্তি দেবো। তোমাদের উভয়ের সঙ্গে আমি ওয়াদা করছি। তোমাদেরকে পূর্ণ করে দেবো। জান্নাতকে এমন লোকদের দ্বারা পূর্ণ করে দেবো, যাদের উপর আমার রহমত নাযিল হবে। আর জাহান্নামকে এমন লোকদের দ্বারা পূর্ণ করে দেবো, যাদের উপর আমার আযাব নাযিল হবে।
টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫০৮২, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৪৮৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৭৩৯৩
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যে পরস্পরে এ বিষয়ে বির্তক হয় যে, কে উত্তম। জাহান্নাম বলে, আমার মর্যাদা বেশি। কারণ, আমার মধ্যে এসে বড়ো বড়ো অহংকারী ও দাম্ভিক বসতি গড়বে। অর্থাৎ, যতো লোক অহংকারী, বড়ো বড়ো পদের অধিকারী, অনেক সম্পদশালী, নিজেকে অনেক বড়ো বলে এবং বড়ো মনে করে তারা সবাই আমার কাছে আসবে, সুতরাং আমি উত্তম। অপরদিকে জান্নাত বলে, আমার মধ্যে অসহায়, গরীব শ্রেণির লোক আসবে, অতএব আমি উত্তম। এরপর আল্লাহ উভয়ের মাঝে ফায়সালা করে জান্নাতকে সম্বোধন করে বলেন, তুমি হলে জান্নাত, আমার রহমত। তোমার মাধ্যমে আমার যাকে ইচ্ছা তাকে রহমত দান করবো। জাহান্নামকে সম্বোধন করে বললেন, তুমি হলে জাহান্নাম, আমার আযাব। তোমার মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা তাকে আমি শাস্তি দেবো। তোমাদের উভয়ের সঙ্গে আমি ওয়াদা করছি। তোমাদেরকে পূর্ণ করে দেবো। জান্নাতকে এমন লোকদের দ্বারা পূর্ণ করে দেবো, যাদের উপর আমার রহমত নাযিল হবে। আর জাহান্নামকে এমন লোকদের দ্বারা পূর্ণ করে দেবো, যাদের উপর আমার আযাব নাযিল হবে।
টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫০৮২, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৪৮৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৭৩৯৩
📄 জান্নাত-জাহান্নাম কীভাবে কথা বলবে?
উক্ত হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাত জাহান্নামের মধ্যে বির্তকের কথা বলেছেন। সম্ভাবনা আছে যে, প্রকৃত অর্থেই তাদের মাঝে কথোপকথন ও বির্তক হয়েছে। কারণ জান্নাত জাহান্নام আল্লাহর মাখলুক। আর ইচ্ছা করলেই আল্লাহ তাদেরকে কথোপকথনের শক্তি এব বিতর্কের যোগ্যতা দিতে পারেন। আল্লাহর কুদরতের কাছে এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। এসব বিষয়ে আশ্চর্য হওয়া যে, এরা কীভাবে কথা বলবে এদের তো কোনো জিব নেই। জান্নাত তো একটা এলাকার নাম, কিস বাগানের নাম। জাহান্নامও একটা জায়গার নাম, আগুনের নাম। এরা কী করে কথা বলবে? যারা এই ভেবে আশ্চর্য হন, তাদেরকে বলবো, একটু চিন্তা করে দেখুন তো, মানুষ কীভাবে কথা বলে? তার মধ্যে কীভাবে কথা বলার শক্তি এলো? তার মধ্যে তো এ শক্তি তখনই এসেছে, যখন আল্লাহ তাকে শক্তি দিয়েছেন। আল্লাহ তাকে শক্তি দান না করলে তো সে বলতে পারতে না। তিনি দিয়েছেন বলেই তো সে কথা বলতে পারে। সুতরাং আল্লাহ যদি এ শক্তি পাথরকে দান করেন, তাহলে পাথরও নিশ্চয়ই কথা বলতে পারবে কোনো গাছকে দান করলে সে গাছও কথা বলতে পারবে। আল্লাহ কোনে জমিনকে বাকশক্তি দান করলে সে জমিনও কথা বলতে পারবে। এতে আশ্চর্য হওয়ার কোনো কারণ নেই।
উক্ত হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাত জাহান্নামের মধ্যে বির্তকের কথা বলেছেন। সম্ভাবনা আছে যে, প্রকৃত অর্থেই তাদের মাঝে কথোপকথন ও বির্তক হয়েছে। কারণ জান্নাত জাহান্নাম আল্লাহর মাখলুক। আর ইচ্ছা করলেই আল্লাহ তাদেরকে কথোপকথনের শক্তি এব বিতর্কের যোগ্যতা দিতে পারেন। আল্লাহর কুদরতের কাছে এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। এসব বিষয়ে আশ্চর্য হওয়া যে, এরা কীভাবে কথা বলবে এদের তো কোনো জিব নেই। জান্নাত তো একটা এলাকার নাম, কিস বাগানের নাম। জাহান্নামও একটা জায়গার নাম, আগুনের নাম। এরা কী করে কথা বলবে? যারা এই ভেবে আশ্চর্য হন, তাদেরকে বলবো, একটু চিন্তা করে দেখুন তো, মানুষ কীভাবে কথা বলে? তার মধ্যে কীভাবে কথা বলার শক্তি এলো? তার মধ্যে তো এ শক্তি তখনই এসেছে, যখন আল্লাহ তাকে শক্তি দিয়েছেন। আল্লাহ তাকে শক্তি দান না করলে তো সে বলতে পারতে না। তিনি দিয়েছেন বলেই তো সে কথা বলতে পারে। সুতরাং আল্লাহ যদি এ শক্তি পাথরকে দান করেন, তাহলে পাথরও নিশ্চয়ই কথা বলতে পারবে কোনো গাছকে দান করলে সে গাছও কথা বলতে পারবে। আল্লাহ কোনে জমিনকে বাকশক্তি দান করলে সে জমিনও কথা বলতে পারবে। এতে আশ্চর্য হওয়ার কোনো কারণ নেই।
যাই হোক, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বলেছেন, জান্নাত জাহান্নাম পরস্পরে বির্তক করেছে। এটা প্রকৃত অর্থেও হতে পারে। আল্লাহ তাদেরকে বাকশক্তি দিয়েছেন, ফলে তারা কথা বলেছে। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। আবার এও হতে পারে যে, জান্নাত জাহান্নামের অবস্থা বোঝাবার জন্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা একটা উপমা দিয়েছেন।
📄 কিয়ামতের দিন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কীভাবে কথা বলবে?
হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. একবার কোথাও সফরে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় আধুনিক শিক্ষার অতি ভক্ত জনৈক ব্যক্তি সঙ্গে সাক্ষাত। তিনি কুরআনের একটি আয়াতের উপর এই সংশয় পেশ করলেন যে, হযরত কুরআনে এসেছে, কিয়ামতের দিন মানুষের অঙ্গপ্রতঙ্গ কথা বলবে। হাত সাক্ষ্য দিবে, আমার মাধ্যমে সে এই গোনাহ করেছে। পা সাক্ষ্য দিবে, আমার দ্বারা সে এই গোনাহ করেছে। তো হযরত হাত-পা কথা বলবে এটা তো একটা অদ্ভুত কথা হলো। এটা কী করে সম্ভব? হযরত বললেন, এটা আল্লাহর কুদরত, তিনি যাকে বাকশক্তি দান করবেন, সে কথা বলবে। সে বললো, হযরত এমন ঘটনা কখনো ঘটেছে কি? হযরত বললেন, তুমি কি দলিল জানতে চাচ্ছো, না কোনো দৃষ্টান্ত দেখতে চাচ্ছো? দলিল তো এতোটুকুই যথেষ্ট যে, আল্লাহ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। অতএব তিনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। আর সম্ভব হওয়ার জন্যে সব কিছুর দৃষ্টান্ত থাকতে হয় না। তখন ঐ লোক বললো, হযরত মনের প্রশান্তির জন্যে একটা দৃষ্টান্ত দেখান না। হযরত বললেন, আচ্ছা বলো তো, জিব কীভাবে কথা বলে? সে যেহেতু বলেছিলো জিব ছাড়া হাত কীভাবে কথা বলবে, এজন্যে হযরত বললেন, জিবের তো কোনো জিব নেই। তাহলে জিব কীভাবে কথা বলে? এটাও তো একটা গোশতের টুকরা। এখানে বাকশক্তি এলো কোথেকে? এটা তো আল্লাহই দান করেছেন। সুতরাং যে আল্লাহ জিবকে বাকশক্তি দান করেছেন, তিনি 'তো হাতকেও বাকশক্তি দান করতে পারেন। এতে আশ্চর্যের কী আছে?
যাই হোক, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বলেছেন, জান্নাত জাহান্নام পরস্পরে বির্তক করেছে। এটা প্রকৃত অর্থেও হতে পারে। আল্লাহ তাদেরকে বাকশক্তি দিয়েছেন, ফলে তারা কথা বলেছে। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। আবার এও হতে পারে যে, জান্নাত জাহান্নামের অবস্থা বোঝাবার জন্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা একটা উপমা দিয়েছেন।
হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. একবার কোথাও সফরে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় আধুনিক শিক্ষার অতি ভক্ত জনৈক ব্যক্তি সঙ্গে সাক্ষাত। তিনি কুরআনের একটি আয়াতের উপর এই সংশয় পেশ করলেন যে, হযরত কুরআনে এসেছে, কিয়ামতের দিন মানুষের অঙ্গপ্রতঙ্গ কথা বলবে। হাত সাক্ষ্য দিবে, আমার মাধ্যমে সে এই গোনাহ করেছে। পা সাক্ষ্য দিবে, আমার দ্বারা সে এই গোনাহ করেছে। তো হযরত হাত-পা কথা বলবে এটা তো একটা অদ্ভুত কথা হলো। এটা কী করে সম্ভব? হযরত বললেন, এটা আল্লাহর কুদরত, তিনি যাকে বাকশক্তি দান করবেন, সে কথা বলবে। সে বললো, হযরত এমন ঘটনা কখনো ঘটেছে কি? হযরত বললেন, তুমি কি দলিল জানতে চাচ্ছো, না কোনো দৃষ্টান্ত দেখতে চাচ্ছো? দলিল তো এতোটুকুই যথেষ্ট যে, আল্লাহ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। অতএব তিনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। আর সম্ভব হওয়ার জন্যে সব কিছুর দৃষ্টান্ত থাকতে হয় না। তখন ঐ লোক বললো, হযরত মনের প্রশান্তির জন্যে একটা দৃষ্টান্ত দেখান না। হযরত বললেন, আচ্ছা বলো তো, জিব কীভাবে কথা বলে? সে যেহেতু বলেছিলো জিব ছাড়া হাত কীভাবে কথা বলবে, এজন্যে হযরত বললেন, জিবের তো কোনো জিব নেই। তাহলে জিব কীভাবে কথা বলে? এটাও তো একটা গোশতের টুকরা। এখানে বাকশক্তি এলো কোথেকে? এটা তো আল্লাহই দান করেছেন। সুতরাং যে আল্লাহ জিবকে বাকশক্তি দান করেছেন, তিনি 'তো হাতকেও বাকশক্তি দান করতে পারেন। এতে আশ্চর্যের কী আছে?
📄 অহংকারী জাহান্নামে যাবে আর দুর্বল গরীব যাবে জান্নাতে
খোলাসা কথা হলো, জাহান্নام অহংকারী ও দাম্ভিক লোকদের দিয়ে পূর্ণ করা হবে, যারা নিজের বড়ত্ব প্রকাশ করে এবং অন্যের সঙ্গে অহংকারের আচরণ করে এবং অন্যকে তুচ্ছ দৃষ্টিতে দেখে।
পক্ষান্তরে জান্নাত পূর্ণ করা হবে দুর্বল ও গরীব প্রকৃতির লোক দ্বারা, যারা বাহ্যত দেখতে দুর্বল মনে হয়। যারা বিনয়ী এবং নিজেকে ছোট মনে করে। বিনয়ী ও বিনম্র আচরণ করে।
খোলাসা কথা হলো, জাহান্নাম অহংকারী ও দাম্ভিক লোকদের দিয়ে পূর্ণ করা হবে, যারা নিজের বড়ত্ব প্রকাশ করে এবং অন্যের সঙ্গে অহংকারের আচরণ করে এবং অন্যকে তুচ্ছ দৃষ্টিতে দেখে।
পক্ষান্তরে জান্নাত পূর্ণ করা হবে দুর্বল ও গরীব প্রকৃতির লোক দ্বারা, যারা বাহ্যত দেখতে দুর্বল মনে হয়। যারা বিনয়ী এবং নিজেকে ছোট মনে করে। বিনয়ী ও বিনম্র আচরণ করে।