📄 কঠিন স্বভাব মারাত্মক ক্ষতিকর
এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি কি তোমাদেরকে বলে দেবো, জাহান্নামী কে? জাহান্নামী হলো,
كُلُّ عُتُلٍ جَوَاطٍ مُسْتَكْبِرٍ ‘প্রত্যেক এমন ব্যক্তি, যে কঠিন স্বভাবের।’
عُتُلٌ অর্থ হলো, কঠিন স্বভাব ও অমসৃণ মানুষ। যে কথা বললেই আঘাত করে। নরম কথা বলে না। গরম হয়ে এবং রাগ দেখিয়ে কথা বলে। অন্যকে তুচ্ছ জ্ঞান করে কথা বলে।
দ্বিতীয় শব্দটি হলো جَواظٌ। অর্থ হলো নাক চড়া লোক। যার কপালে সর্বদা বিরক্তির ভাব থাকে। সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলতে চায় না। দুর্বল শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বলতে অপমান বোধ করে এবং সবসময় দাম্ভিকতার সঙ্গে চলে।
তৃতীয় শব্দ হলো مُسْتَكْبِرٌ। অর্থ অহংকারী। যে নিজেকে বড়ো মনে করে এবং অন্যকে ছোট জ্ঞান করে। এ জাতীয় লোকদের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এরা হলো জাহান্নামী।
📄 তাদের মর্যাদা অনেক
এ হাদীসে বলা হয়েছে, সমাজের সাধারণ, দুর্বল ও গরীব শ্রেণির মানুষদেরকে তুচ্ছ মনে করো না। কারণ, আল্লাহর কাছে তাদের মর্যাদা অনেক। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি যারা ঈমান এনেছিলেন, তাদের মধ্যে সব ধরনের লোক ছিলো। তাদের অধিকাংশ মানুষই সম্পদের দিক থেকে বড়ো ছিলেন না। গরীব-ধনী সকলেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে এক সঙ্গে বসতেন। যেখানে হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ, হযরত উসমান গণীর মতো ধনী সাহাবী বসতেন, সেখানে হযরত বেলাল হাবশী, হযরত সুহাইব রুমী ও হযরত সালমান ফারসীর মতো এমন সকল সাহাবীও বসতেন, যারা দিনের পর দিন না খেয়েও জীবন যাপন করেছেন।
📄 ক্ষুৎ-পিপাসাগ্রস্ত এ মহান ব্যক্তিগণ
একদিন মক্কার কাফেররা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললো, আমরা আপনার কথা শোনার জন্যে আপনার মজলিসে আসতে প্রস্তুত। কিন্তু সমস্যা হলো এই যে, সবসময় আপনার কাছে কিছু অনাহারী ফকির-ফুকারা বসে থাকে, তাদের সঙ্গে গিয়ে বসা তো আমাদের মানায় না। এতে আমাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়। আপনি তাদেরকে পৃথক করে দিয়ে আমাদের বিশেষ মজলিসের ব্যবস্থা করুন, তাহলে আমরা আপনার কথা শুনতে আসবো। তাদের এ প্রস্তাবে বাহ্যত কোনো সমস্যা ছিলো না। যদি তাদের জন্যে ভিন্ন মজলিসের ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে তারা দ্বীনের কথা শোনার সুযোগ পেতো এবং তাতে হয়তো তাদের সংশোধন হয়ে যেতো। আমরা হলে তাদের কথা মেনেও নিতাম। কিন্তু বিষয়টি ছিলো শরীয়তের মূলনীতি সংক্রান্ত। তাই তৎক্ষণাৎ কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হয়,
وَلَا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَدُوةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ 'তাদেরকে আপনি দূরে সরিয়ে দিবেন না, যারা সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্য তাঁর ইবাদত করে এবং তাঁকে ডাকে।”
এখানে আল্লাহ সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, যদি সত্যের অন্বেষা নিয়ে আসতে চাও তবে তাদের সঙ্গেই বসতে হবে। আর যদি তাদের সঙ্গে বসতে তোমাদের সম্মানে বাধে, তবে মনে রেখো, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। কোনো অবস্থাতেই তাঁর প্রিয় বান্দাদের বাদ দিয়ে তোমাদের জন্যে বিশেষ মজলিসের ব্যবস্থা করা যাবে না।
টিকাঃ
৯. আনআ'ম : ৫২
১০. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৪৩৪, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪১১৮
📄 আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের অনুসারীগণ গরীবই হয়ে থাকেন
অন্যান্য নবীগণের সঙ্গে একই ঘটনা ঘটেছে। ঐ সময়ের কাফেররাও তাদেরকে বলেছিলো,
مَا نَرَيكَ اتَّبَعَكَ إِلَّا الَّذِينَ هُمْ أَرَا ذِلْنَا بَادِيَ الرَّأْيِ 'আমরা তো দেখছি তোমার অনুসরণ করছে কেবল তারাই, যারা আমাদের মধ্যে বাহ্যত দৃষ্টিতেই অধম।'
উদ্দেশ্য হলো, আমরা কীভাবে তোমার সঙ্গে আসতে পারি? কারণ, আমরা তো হলাম অনেক বড়ো বুদ্ধিমান, অনেক মর্যাদার অধিকারী। আল্লাহ বলছেন, যে সব লোককে তোমরা অধম বলছো, দুর্বল ও ফকির-মিসকীন বলছো, আল্লাহর নিকট তারা অনেক মর্যাদার অধিকারী। তাই তাদেরকে তুচ্ছ ভেবো না। এটাই হলো ইসলামের নীতির কথা। এখানে এটা সম্ভব নয় যে, শুধু নেতৃত্ব ও প্রাচুর্যের কারণে তোমাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এটা এমন এক নীতি, যাতে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল কোনো মূল্যেই আপোস করেত সম্মত নন। কারণ, মুমিন বান্দাগণ তোমাদের দৃষ্টিমতে দুর্বল হলেও আল্লাহর নিকট তাদের মর্যাদা অনেক ঊর্ধ্বে।
টিকাঃ
১১. হুদঃ ২৭