📄 সাহাবায়ে কেরাম রাযি. এবং আমাদের মাঝে পার্থক্য
হাদীস আমরাও শুনি এবং তাঁরাও শুনতেন। কিন্তু তাঁদের অবস্থা ছিলো এই যে, যতো বড়ো ইচ্ছা এবং যতো বড়ো প্রকল্প ও সংকল্পই হোক না কেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি বাণী কানে পড়া মাত্র তা ধুলিস্যাৎ করে দিতেন। আমরা সকাল-সন্ধ্যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস শুনতে থাকি, পড়তে থাকি, কিন্তু আমাদের কোনো প্রেরণা জাগ্রত হয় না। এ কারণেই এ পড়া ও শোনার দ্বারা আমাদের জীবনে কোনো পরিবর্তন আসে না। এ জন্যেই সাহাবায়ে কেরামকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দুনিয়াতে অভাবনীয় সম্মান দান করেছেন এবং আখেরাতে দান করবেন অনেক উঁচু মর্যাদা। ইনশাআল্লাহ।
📄 আলোচ্য হাদীসের শেষাংশ
উক্ত হাদীসে আরেকটি কথা বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে বক্র জাতিকে সোজা না করা পর্যন্ত তাঁকে নিজের কাছে ডেকে নিবেন না। বক্র জাতি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আরবের মূর্তিপূজারী সম্প্রদায়। তাদের মধ্যে মূর্তিপূজার শির্ক তো ছিলোই, পাশাপাশি এই ভূতও মাথায় চড়ে বসেছিলো যে, আমরাই হলাম শ্রেষ্ঠ জাতি। এ ছাড়াও নিজেদের ব্যাপারে অনেক কিছু মনে করতো। তাদেরকে সংশোধন করার জন্যে আল্লাহ তা'আলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেন। তাঁর মাধ্যমে মাত্র তেইশ বছর সময়ে পুরো জাযীরাতুল আরবে লাইলাহা ইল্লাল্লাহু-র হুকুমত কায়েম করেন। হাদীসে এর পরে বলা হয়েছে,
فَيَفْتَحُ بِهَا أَعْيُنَا عُمْيًا وَإِذَانَا صُمَّا وَقُلُوبًا غُلْفًا অর্থাৎ, তাওহীদের কালেমার দ্বারা তাদের অন্ধ চোখগুলো ও বধির কানগুলো খুলে দিবেন এবং পর্দাবৃত অন্তর থেকে পর্দার আবরণ সরিয়ে দিবেন। এ বাক্যগুলো সব তাওরাতের, যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণ ও বৈশিষ্ট্যের বিবরণে এসেছে। আল্লাহ আমাদেরকেও এ সমস্ত গুণ ধারণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
وَاخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ