📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ক্ষমা ও ধৈর্যের একটি আদর্শ ঘটনা

📄 ক্ষমা ও ধৈর্যের একটি আদর্শ ঘটনা


হযরত মুআবিয়া রাযি.-এর জামানায় দুই ব্যক্তির পরস্পরে ঝগড়া লাগলো। তাতে একজনের দাঁত ভেঙ্গে গেলো। যার দাঁত ভেঙ্গে গেলো, সে অপরজনকে হযরত মুআবিয়া রাযি.-এর কাছে ধরে নিয়ে এলো। এসে বললো, দাঁতের বিনিময়ে দাঁত চাই। আপনি আমার দাঁতের 'কিসাস' দিয়ে দিন।
হযরত মুআবিয়া রাযি. বললেন, ঠিক আছে, তোমার 'কিসাস' নেওয়ার অধিকার আছে, কিন্তু এতে তোমার কী লাভ হবে? তোমার দাঁত তো ভেঙ্গেই গিয়েছে। এখন তার দাঁত ভেঙ্গে তোমার কী লাভ হবে? তার চেয়ে বরং সমঝোতা করে তার কাছ থেকে দাঁতের 'দিয়্যাত' নিয়ে নাও। সে বললো, না আমি দাঁতের বদলে দাঁত চাই। হযরত মুআবিয়া রাযি. তাকে আবার বোঝালেন, কিন্তু সে তা মানলো না। অবশেষে তিনি বললেন, ঠিক আছে, চলো তার দাঁত ভেঙ্গে দিচ্ছি।
রাস্তায় হযরত আবুদ দারদা রাযি. বসা ছিলেন। তিনি ছিলেন অনেক বড়ো মাপের সাহাবী। তিনি বললেন, দেখো ভাই! 'কিসাস' তো নিতে যাচ্ছো, তবে একটি কথা শুনে যাও। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, কেউ যদি কাউকে কষ্ট দেয় এবং সে তাকে ক্ষমা করে দেয় তাহলে এই ক্ষমাকারীকে আল্লাহ তখন ক্ষমা করে দিবেন, যখন সে (পরকালে) ক্ষমার প্রতি সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী হবে। ইতিপূর্বে লোকটি দাঁতের বিনিময়ে পয়সা নিতেও সম্মত ছিলো না, কিন্তু সে এ কথা শুনে হযরত আবুদ দারদা রাযি.-কে জিজ্ঞাসা করলো,
أَأَنْتَ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
'আপনি কি নিজে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ কথা শুনেছেন?'
তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, আমি নিজে শুনেছি এবং আমার এই কানগুলো শুনেছে। তখন সে বললো, আচ্ছা ঠিক আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি এ কথা বলে থাকেন তাহলে আমি কোনো বিনিময় ছাড়াই তাকে ক্ষমা করে দিলাম。

টিকাঃ
১২. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৩১৩, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২৬৮৩

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 সাহাবায়ে কেরাম রাযি. এবং আমাদের মাঝে পার্থক্য

📄 সাহাবায়ে কেরাম রাযি. এবং আমাদের মাঝে পার্থক্য


হাদীস আমরাও শুনি এবং তাঁরাও শুনতেন। কিন্তু তাঁদের অবস্থা ছিলো এই যে, যতো বড়ো ইচ্ছা এবং যতো বড়ো প্রকল্প ও সংকল্পই হোক না কেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি বাণী কানে পড়া মাত্র তা ধুলিস্যাৎ করে দিতেন। আমরা সকাল-সন্ধ্যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস শুনতে থাকি, পড়তে থাকি, কিন্তু আমাদের কোনো প্রেরণা জাগ্রত হয় না। এ কারণেই এ পড়া ও শোনার দ্বারা আমাদের জীবনে কোনো পরিবর্তন আসে না। এ জন্যেই সাহাবায়ে কেরামকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দুনিয়াতে অভাবনীয় সম্মান দান করেছেন এবং আখেরাতে দান করবেন অনেক উঁচু মর্যাদা। ইনশাআল্লাহ।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 আলোচ্য হাদীসের শেষাংশ

📄 আলোচ্য হাদীসের শেষাংশ


উক্ত হাদীসে আরেকটি কথা বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে বক্র জাতিকে সোজা না করা পর্যন্ত তাঁকে নিজের কাছে ডেকে নিবেন না। বক্র জাতি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আরবের মূর্তিপূজারী সম্প্রদায়। তাদের মধ্যে মূর্তিপূজার শির্ক তো ছিলোই, পাশাপাশি এই ভূতও মাথায় চড়ে বসেছিলো যে, আমরাই হলাম শ্রেষ্ঠ জাতি। এ ছাড়াও নিজেদের ব্যাপারে অনেক কিছু মনে করতো। তাদেরকে সংশোধন করার জন্যে আল্লাহ তা'আলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেন। তাঁর মাধ্যমে মাত্র তেইশ বছর সময়ে পুরো জাযীরাতুল আরবে লাইলাহা ইল্লাল্লাহু-র হুকুমত কায়েম করেন। হাদীসে এর পরে বলা হয়েছে,
فَيَفْتَحُ بِهَا أَعْيُنَا عُمْيًا وَإِذَانَا صُمَّا وَقُلُوبًا غُلْفًا অর্থাৎ, তাওহীদের কালেমার দ্বারা তাদের অন্ধ চোখগুলো ও বধির কানগুলো খুলে দিবেন এবং পর্দাবৃত অন্তর থেকে পর্দার আবরণ সরিয়ে দিবেন। এ বাক্যগুলো সব তাওরাতের, যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণ ও বৈশিষ্ট্যের বিবরণে এসেছে। আল্লাহ আমাদেরকেও এ সমস্ত গুণ ধারণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
وَاخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00