📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ 📄 হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা.-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য

📄 হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা.-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য


হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন বিখ্যাত সাহাবী। তিনি ঐ সকল সাহাবীর একজন, যাঁরা অধিক ইবাদতগুজার হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। অনেক বড়ো আবেদ, যাহেদ ও বুযুর্গ ছিলেন। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক হাদীসও বর্ণনা করেছেন।
তাঁর একটি বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি তাওরাত, যাবুর ও ইঞ্জিল শরীফের জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। এ কিতাবগুলো আপন অবস্থায় বহাল ছিলো না, বরং ইহুদী-নাসারারা এগুলো বিকৃত করেছিলো। কিন্তু তথাপিও সেগুলোর বাস্তবতা ও বিকৃতি সম্পর্কে অবহিত হওয়া এবং ইহুদী-নাসারাদের মাঝে দাওয়াতের কাজ করার উদ্দেশ্য সেগুলো পড়ার অনুমতি রয়েছে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. তাওরাতের কিছু অংশ ইহুদীদের কাছে পড়েছিলেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ 📄 তাওরাতে এখনো কিতাবুল্লাহর আলো বিচ্ছুরিত হয়

📄 তাওরাতে এখনো কিতাবুল্লাহর আলো বিচ্ছুরিত হয়


তাওরাত যদিও এখন পরিপূর্ণ আগের মতো নেই। অনেকাংশই ইহুদীরা বিকৃত করে ফেলেছে। অনেক সংযোজন বিয়োজন করেছে। কিন্তু তথাপিও অনেক জায়গা থেকে এখনো কিতাবুল্লাহর আলো বিচ্ছুরিত হয়।
তাই এখনো তাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভাগমণের সুসংবাদ এবং তাঁর বৈশিষ্ট্যাবলীর কথা বিদ্যমান রয়েছে। যা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জামানায় আরো অনেক সুস্পষ্ট ছিলো। এ জন্যে কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে,
الَّذِينَ آتَيْنَهُمُ الْكِتَبَ يَعْرِفُوْنَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ
'ইহুদীরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমনভাবে চেনে, যেমন তারা নিজেদের সন্তানদেরকে চেনে।'
কারণ, তাওরাতে আখেরী নবীর বৈশিষ্ট্যগুলো বিস্তারিত উল্লিখিত ছিলো। তিনি কেমন গুণাবলীর অধিকারী হবেন, তাঁর অবয়ব কেমন হবে এবং তিনি কোন শহরে ও কোন গোত্রে জন্মগ্রহণ করবেন ইত্যাদি সব উল্লেখ ছিলো। ফলে যারা ঐ সব কিতাবের আলেম ছিলো, তারা স্বচক্ষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে আখেরী নবীর সকল নিদর্শন দেখেও একগুঁয়েমি, গোঁড়ামি ও হঠকারিতার কারণে তাঁকে মেনে নিতো না। হযরত আতা ইবনে ইয়াসার রাযি. বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রাযি.-এর সঙ্গে যখন আমার সাক্ষাত হলো, তখন তাকে বললাম, আপনি তো তাওরাত পড়েছেন। তাওরাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে বৈশিষ্ট্যগুলো আছে, তা আমাদেরকে বলুন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ 📄 বাইবেল বনাম কুরআন

📄 বাইবেল বনাম কুরআন


এ সব কিতাব এতো পরিবর্তন করা সত্ত্বেও সেগুলোর কোনো কোনো অংশ এমন মনে হয়, যেন হুবহু কুরআনের অনুবাদ। তাদের প্রসিদ্ধ কিতাব বাইবেল, যাকে 'কিতাবে মুকাদ্দাস'ও বলা হয়। ইহুদী ও খৃষ্টান উভয়েই এ কিতাব মানে। তাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের সুসংবাদ আজও বিদ্যমান আছে। এই মুহূর্তে তাওরাতের একটি বাক্য আমার মনে পড়লো। বাক্যটি হলো,
(অনুবাদ) 'যিনি 'ফারান' থেকে উদিত হবেন। 'সালাহে'র অধিবাসীরা গীত গাইবে। 'কায়দার'-এর জনপদগুলো প্রশংসা করবে।'
'ফারান' ঐ পাহাড়ের নাম, যাতে হেরা গুহা অবস্থিত। 'সালাহ' ঐ পাহাড়ের নাম, যার একাংশ 'সানিয়্যাতুল ওয়াদা'। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের সময় মদীনার শিশুরা যেখানে দাঁড়িয়ে এই গীত গেয়ে স্বাগত জানিয়েছিলো,
طَلَعَ الْبَدْرُ عَلَيْنَا مِنْ ثَنِيَّاتِ الْوَدَاعِ
'সানিয়্যাতুল ওয়াদা' থেকে আমাদের উপর পূর্ণিমার চাঁদ উদিত হয়েছে।
আর 'কায়দার' হলো, হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালামের ছেলের নাম। তাঁর বংশধারা আরবের বিভিন্ন জনপদ আবাদ করেছে। সে দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, ইসমাঈল আলাইহিস সালামের বংশে যখন শেষ নবীর আগমন ঘটবে, তখন কায়দারের জনপদগুলো তার প্রশংসা করবে।

টিকাঃ
৫. বাকারাহ: ১৪৬
৬. আররিয়াজুন নাদরাহ ফি মানাকিবিল আশারা, খন্ডঃ ১, পৃঃ ৫৬, দালায়েলুন নুবুওয়‍্যাহ, খন্ড। ২, পৃঃ ৩৬৩, হাদীস নং ৭৫৩, আসীরাতুন নাবাবিয়‍্যাহ, ইবনে কাসীরকৃত, খন্ডঃ ২, পৃঃ ২৬৯

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ 📄 তাওরাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলীর উল্লেখ

📄 তাওরাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলীর উল্লেখ


হযরত আতা ইবনে ইয়াসারের আবেদনের প্রেক্ষিতে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রাযি. বললেন,
وَاللَّهِ إِنَّهُ لَمَوْصُوفٌ فِي التَّوْرَاهِ بِبَعْضٍ صِفَتِهِ فِي الْقُرْآنِ 'আল্লাহর কসম! তাওরাতে তাঁর এমন কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লিখিত হয়েছে, যা কুরআনে উল্লিখিত হয়েছে।' এরপর তিনি কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতটি তিলায়াত করলেন,
يَأَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَكَ شَاهِدًا وَ مُبَشِّرًا وَ نَذِيرًا 'হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষ্যদানকারী, সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারী হিসাবে প্রেরণ করেছি।'
شَاهِدًا 'সাক্ষী'- অর্থাৎ, কিয়ামতের দিন আপনি এ কথার সাক্ষ্য দিবেন যে, এ উম্মতকে আল্লাহর তাওহীদের পয়গাম পৌঁছানো হয়ে ছিলো। তারপর অমুক লোকেরা তা মেনে নিয়েছে, আর অমুক লোকেরা তা মেনে নেয়নি।
مُبَشِّرًا 'সুসংবাদদাতা' - অর্থাৎ, তিনি ঈমানদারদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দিবেন।
نَذِيرًا 'ভীতিপ্রদর্শনকারী'- অর্থাৎ, গোনাহগার ও কাফেরদেরকে জাহান্নামের ভীতিপ্রদর্শন করবেন।
হযরত আব্দুল্লাহ রাযি. উক্ত আয়াত তেলাওয়াতের পর তাওরাতের বক্তব্য পড়ে শোনালেন,
وَحِرْزًا لِلْمُؤْمِنِينَ
অর্থাৎ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মী লোকদের মুক্তিদাতা হয়ে আগমন করবেন। 'উম্মী' শব্দটি বিশেষত আরবদের জন্যে উপাধি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কারণ, তাদের মধ্যে লেখা-পড়ার প্রচলন ছিলো না। এ বিষয়টিই তাওরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লিখিত হয়েছে।
এরপর তাওরাতে এসেছে,
أَنْتَ عَبْدِي وَرَسُولَى
আল্লাহ বলছেন, হে নবী মুহাম্মাদ! আপনি আমার বান্দা ও রাসূল।
سَمَّيْتُكَ الْمُتَوَكَّلُ
'আমি আপনার নাম রেখেছি মুতাওয়াক্কিল' অর্থাৎ, আল্লাহর উপর ভরসাকারী।
এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরো গুণ আলোচিত হয়েছে এভাবে,
لَيْسَ بِفَظٍ وَلَا غَلِيْظٍ 'তিনি শক্ত কথা বলেন না এবং রূঢ় স্বভাবের নন।'
وَلَا سَخَابِ فِي الْأَسْوَاقِ 'এবং তিনি বাজারে শোর-গোলকারীও নন।'
وَلَا يَدْفَعُ السَّيِّئَةَ بِالسَّيِّئَةِ 'তিনি মন্দের প্রতিদান মন্দ দ্বারা দিবেন না।'
وَلَكِنْ يَعْفُو وَ يَصْفَحُ 'বরং ক্ষমা করে দিবেন এবং ছাড় দিবেন।'
وَلَنْ يَقْبِضَهُ اللَّهُ تَعَالَى حَتَّى يُقِيمَ بِهِ الْمِلَّةَ الْعَوْجَاءَ بِأَنْ يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ

টিকাঃ
৭. আহযাব: ৪৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px