📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 পাকিস্তানের মুফতীয়ে আযম তো নয়, যেন একজন সাধারণ পথিক

📄 পাকিস্তানের মুফতীয়ে আযম তো নয়, যেন একজন সাধারণ পথিক


আমার শাইখ হযরত ডা. আব্দুল হাই আরেফী রহ. (আল্লাহ তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ করুন) বলেন, একবার আমি আমার চেম্বারে বসে আছি (হযরতের চেম্বার তখন প্রিন্স রোডে ছিলো এবং আমাদের বাসাও তখন প্রিন্স রোডের কাছেই ছিলো) এমন সময় দেখলাম, পাকিস্তানের মুফতীয়ে আযম হযরত মুফতী শফী রহ. একটি পাতিল নিয়ে খুব সাধারণ মানুষের মতো ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। আমি তো এ দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে গেলাম যে, সারাবিশ্ব যার তাকওয়া, পরহেযগারী ও গুণগরিমায় মুখরিত, তিনি এভাবে একজন সাধারণ মানুষের মতো পাতিল হাতে নিয়ে হাঁটছেন? তখন সাথীদেরকে বললাম, দেখুন তো! তাঁকে দেখে কারো পক্ষে বোঝার উপায় আছে কি, তিনি পাকিস্তানের মুফতীয়ে আযম?
এরপর হযরত ডা. আরেফী রহ. বললেন, আল্লাহ রব্বুল আলামীন যাকে তাঁর সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক নসিব করেন, তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষের মাঝে এমনভাবে মিশিয়ে রাখেন, যা দেখে কখনো বোঝা যায় না যে, তিনি কোন স্তরের মানুষ।
আর এটাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত। নিজের বিশেষ শান বজায় রাখার জন্যে সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা তাঁর সুন্নাতের পরিপন্থী।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 বিনয়ের সঙ্গে মসজিদে নববী থেকে মসজিদে কোবায় গমন

📄 বিনয়ের সঙ্গে মসজিদে নববী থেকে মসজিদে কোবায় গমন


একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বন্ধুসুলভ সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে মসজিদে নববী থেতে পায়ে হেঁটে হযরত ইতবান ইবনে মালেক রাযি.-এর বাড়িতে গেলেন। যার অবস্থান প্রায় তিন মাইল দূরে মসজিদে কোবার নিকটে। তাঁর ঘরে গিয়ে তিনবার আওয়াজ দিলেন। সম্ভবত তিনি এমন কোনো অবস্থায় ছিলেন যে, ডাকে সাড়া দিতে পারেননি। ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের নির্দেশ-وَ إِنْ قِيْلَ تَكُمُ ارْجِعُوا فَأَرْجِعُوا هُوَ أَزْلَى تَكُمْ ‘যদি তোমাদেরকে বলা হয় ফিরে যাও তাহলে তোমরা ফিরে যাও।’-এর উপর আমল করে মসজিদে নববীতে ফিরে গেলেন এবং বিন্দুমাত্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন না। নিজের পক্ষ থেকে বন্ধুত্বের হক আদায় করার জন্যে বন্ধুর বাড়িতে এসেছেন। সাক্ষাত হয়নি তো স্বাভাবিকভাবেই ফিরে গিয়েছেন। কিছুই মনে করেননি। পরে যখন হযরত ইতবান ইবনে মালেক তাঁর আগমন এবং তাকে না পেয়ে ফিরে যাওয়ার কথা জানতে পারলেন তিনি দৌড়ে এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাত করলেন এবং নিজেকে উৎসর্গ করে ক্ষমা চান।
হযরত ডা. আব্দুল হাই আরেফী রহ. বলতেন, আল্লাহকে তোমরা কীভাবে ভালোবাসবে? তাঁকে কখনো দেখোনি, বোঝোনি, এমনকি কখনো তাঁকে কল্পনাও করতে পারোনি।
আল্লাহ বলেন, আমার সঙ্গে যদি তোমার ভালোবাসা থাকে, তবে আমার মাখলুককে ভালোবাসো। আমার মাখলুকের সঙ্গে সদাচরণ করো। তাহলে তোমাদরে জীবনে আমার ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হবে। এটা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এ জন্যেই ইমাম বুখারী রহ. স্বতন্ত্র একটি অধ্যায় রচনা করেছেন, যার শিরোনাম হলো بَابُ الْإِنْبِسَاطِ إِلَى النَّاسِ। অর্থাৎ, মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে এমনভাবে মিলেমিশে থাকা যে, আমি তাদেরই একজন। নিজের অবস্থানগত কোনো বৈশিষ্ট্য তৈরী না করাই হলো এ অধ্যায়ের উদ্দেশ্য। এতে তিনি হযরত আতা ইবনে ইয়াসার রহ.-এর হাদীস উল্লেখ করেছেন, যাতে তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা.-এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের বিবরণ দিয়েছেন।

টিকাঃ
৪. নূর: ২৮

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা.-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য

📄 হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা.-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য


হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন বিখ্যাত সাহাবী। তিনি ঐ সকল সাহাবীর একজন, যাঁরা অধিক ইবাদতগুজার হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। অনেক বড়ো আবেদ, যাহেদ ও বুযুর্গ ছিলেন। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক হাদীসও বর্ণনা করেছেন।
তাঁর একটি বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি তাওরাত, যাবুর ও ইঞ্জিল শরীফের জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। এ কিতাবগুলো আপন অবস্থায় বহাল ছিলো না, বরং ইহুদী-নাসারারা এগুলো বিকৃত করেছিলো। কিন্তু তথাপিও সেগুলোর বাস্তবতা ও বিকৃতি সম্পর্কে অবহিত হওয়া এবং ইহুদী-নাসারাদের মাঝে দাওয়াতের কাজ করার উদ্দেশ্য সেগুলো পড়ার অনুমতি রয়েছে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. তাওরাতের কিছু অংশ ইহুদীদের কাছে পড়েছিলেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 তাওরাতে এখনো কিতাবুল্লাহর আলো বিচ্ছুরিত হয়

📄 তাওরাতে এখনো কিতাবুল্লাহর আলো বিচ্ছুরিত হয়


তাওরাত যদিও এখন পরিপূর্ণ আগের মতো নেই। অনেকাংশই ইহুদীরা বিকৃত করে ফেলেছে। অনেক সংযোজন বিয়োজন করেছে। কিন্তু তথাপিও অনেক জায়গা থেকে এখনো কিতাবুল্লাহর আলো বিচ্ছুরিত হয়।
তাই এখনো তাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভাগমণের সুসংবাদ এবং তাঁর বৈশিষ্ট্যাবলীর কথা বিদ্যমান রয়েছে। যা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জামানায় আরো অনেক সুস্পষ্ট ছিলো। এ জন্যে কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে,
الَّذِينَ آتَيْنَهُمُ الْكِتَبَ يَعْرِفُوْنَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ
'ইহুদীরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমনভাবে চেনে, যেমন তারা নিজেদের সন্তানদেরকে চেনে।'
কারণ, তাওরাতে আখেরী নবীর বৈশিষ্ট্যগুলো বিস্তারিত উল্লিখিত ছিলো। তিনি কেমন গুণাবলীর অধিকারী হবেন, তাঁর অবয়ব কেমন হবে এবং তিনি কোন শহরে ও কোন গোত্রে জন্মগ্রহণ করবেন ইত্যাদি সব উল্লেখ ছিলো। ফলে যারা ঐ সব কিতাবের আলেম ছিলো, তারা স্বচক্ষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে আখেরী নবীর সকল নিদর্শন দেখেও একগুঁয়েমি, গোঁড়ামি ও হঠকারিতার কারণে তাঁকে মেনে নিতো না। হযরত আতা ইবনে ইয়াসার রাযি. বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রাযি.-এর সঙ্গে যখন আমার সাক্ষাত হলো, তখন তাকে বললাম, আপনি তো তাওরাত পড়েছেন। তাওরাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে বৈশিষ্ট্যগুলো আছে, তা আমাদেরকে বলুন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00