📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 রোগীর সেবা শুশ্রূষাও নেক কাজ

📄 রোগীর সেবা শুশ্রূষাও নেক কাজ


একবার হযরত বললেন, জনৈক ব্যক্তি তার প্রতিদিনের নিয়মিত আমলের জন্যে একটি সময় নির্ধারণ করে রেখেছে। তখন সে একাকী বসে আল্লাহর যিকির-আযকার, দু'আ, তিলাওয়াত ইত্যাদিতে মশগুল থাকে। এ অবস্থায় হঠাৎ ঘরে পিতা-মাতা বা স্ত্রী-সন্তানের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লো। ফলে সে তাদের সেবা-যত্নে ব্যস্ত। এখন তার যিকির-আযকার ও দুআ তিলাওয়াতের সুযোগ হচ্ছে না। এ জন্যে তার মনে কষ্ট হচ্ছে যে, এখন আমি ঐ ইবাদতগুলো করতে পারছি না।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 সময়ের দাবি পূরণ করা

📄 সময়ের দাবি পূরণ করা


হযরত বলেন, বস্তুত এখানে আফসোস বা কষ্ট পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কেননা এখানে রোগীর সেবাই তার জন্যে ইবাদত হবে। বরং এতোদিন যে যিকির-আযকার করতো, তার চেয়েও উত্তম হবে।
হযরত বলেন, দ্বীন মূলত সময়ের দাবি অনুযায়ী আমল করার নাম। দেখতে হবে এ মুহূর্তে তোমার কাছে দ্বীনের দাবি কি? এ মুহূর্তের দাবি হল যিকির-আযকার আপাতত বন্ধ রেখে রোগীর সেবা করা। এমন মনে করা না যে, এ সময় আমি যে যিকির-আযকার করতাম, এখন তো তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আল্লাহ তোমাকে বঞ্চিত করবেন না। কারণ, তুমি দ্বীনের অন্য একটি দাবি পূরণের জন্যেই মূলত এ কাজ ছেড়ে দিয়েছো।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 রমাযানের সমূহ বরকত অর্জনের উপায়

📄 রমাযানের সমূহ বরকত অর্জনের উপায়


একবার হযরত বলেন, কেউ যদি রমাযান মাসে অসুস্থ হয় কিংবা সফর বের হয় এবং এ কারণে রোযা রাখতে না পারে। তাহলে তার ব্যাপার শরীয়তের বিধান হলো, সে এ রোযাগুলো পরে কাযা করে নিবে এবং যেহেতু শরীয়তসম্মত ওযরের কারণে রোযা ভেঙ্গেছে, এ জন্যে পরবর্তীতে দিনগুলোতে সে ঐ রোযা কাযা করবে, তাতেই তার রমাযান মাস ফিরে আসবে। অর্থাৎ, রমাযান মাসে যেমন বরকত-রহমত ছিলো, এখন ঐ দিনগুলোই তার জন্যে সে রকম রহমত ও বরকতপূর্ণ হয়ে যাবে। কারণ, শরীয়তসম্মত ওযরবশত রমাযানের রোযা ভাঙ্গার কারণে সে রমাযানের বরকত থেকে মাহরুম থাকবে, এটা আল্লাহর রহমতের সঙ্গে কিছুতেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
সুতরাং কেউ শরীয়তসম্মত ওযরের কারণে তার কোনো নফল আমল ছেড়ে দিলে বা বিলম্বিত করলে সেখানেও ইনশাআল্লাহ ঐ আমলের সব নূর ও বরকতের অধিকারী হবে। কারণ, সময়ের দাবি পূরণ করাই দ্বীন। আপনি এরূপ বলবেন না যে, এখন আমার যিকিরের সময় বা তিলাওয়াতের সময়, অতএব কেউ অসুস্থ হোক বা মারা যাক তাতে আমার কি? এমন মনোভাব পোষণ করা কখনো দ্বীন হতে পারে না।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 যেখানে সেখানে পীড়াপীড়ি করবেন না

📄 যেখানে সেখানে পীড়াপীড়ি করবেন না


সুতরাং কারো সঙ্গে তার স্বভাব, রুচি ও তার সার্বিক অবস্থার প্রতি বিবেচনা করে আচরণ করবেন। কারো সঙ্গে কোনো কাজ করতে আগে দেখবেন, আমার এ কাজ তার জন্যে কষ্টের কারণ হবে না তো। এ দিকে লক্ষ করে তার সঙ্গে আচরণ করবেন। এটা ইসলাহে মু'আশারা তথা সমাজ-সংস্কারের অনেক বড়ো একটা মৌলিক শিক্ষা। আজকাল মানুষ এর প্রতি লক্ষ করে না। একজনের জন্যে যে কাজটা অনেক বড়ো কষ্টের, এখন যদি আপনি সে কাজের জন্যে বার বার পীড়াপীড়ি করতে থাকেন, তাহলে হয়তো দেখা যাবে, সে পীড়াপীড়ির কারণে বাধ্য হয়ে আপনার কথা মেনে নিলো। কিন্তু এতে আপনি তার উপর যে বোঝাটা চাপিয়ে দিলেন এবং তাকে যে কষ্ট দিলেন, এ কারণে (আল্লাহ মাফ করুন) হয়তো বা আপনি গোনাহগার হয়ে যেতে পারেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00