📄 এতে আপনি পূর্ণ সওয়াব পাবেন
একবার তাদের একজন হযরতকে বললেন, হযরত! আপনার কথা অনুযায়ী আমি অভ্যাস করে নিয়েছিলাম যে, আসরের পরের সময়টা মসজিদে বসে ই'তিকাফ, যিকির-আযকার ও দু'আয় অতিবাহিত করতাম। কিন্তু আমার স্ত্রী একদিন বললেন, আপনি সারা দিন বাইরে থাকেন, আসরের পরে যদি একসঙ্গে বসে কিছু কথাবার্তা বলতাম, একসঙ্গে ইফতার করতাম, তাহলে একটু ভালো লাগতো। কিন্তু এখন আপনি এ সময়টাও মসজিদে বসে থাকেন। এখন আমি বড়ো দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছি যে, আমার এই আমল বহাল রাখবো, না স্ত্রীর কথা অনুযায়ী আসরের পরের সময় বাসায় অতিবাহিত করবো? হযরত এ কথা শোনামাত্র বললেন, আপনার স্ত্রী ঠিক বলেছেন। এখন থেকে আপনি আসরের পরের সময় ঘরেই থাকবেন। সেখানে স্ত্রীকে সঙ্গ দিয়ে যতোটুকু পারেন তিলাওয়াত, যিকির-আযকার করবেন। তারপর একসঙ্গে ইফতার করবেন।
- এরপর হযরত বললেন, আমি যে অভ্যাস বানিয়েছি, এটা বেশির চেয়ে বেশি একটা মুস্তাহাব আমল। আর আপনার স্ত্রী যে আমলের কথা বলেছেন, তা তার অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, শরীয়তের সীমানায় থেকে স্ত্রীর মনোরঞ্জন করা স্ত্রীর অধিকার। অনেক সময় তার এই মনোরঞ্জন ওয়াজিব হয়ে যায়। সুতরাং আপনি স্ত্রীকে খুশি করার জন্যে এ আমল ছেড়ে দিলেও আশা করি আল্লাহ আপনাকে এর বরকত থেকে বঞ্চিত করবেন না। স্ত্রীর হক আদায়ের জন্যে এ আমল ছেড়ে দিলেও এর পূর্ণ সওয়াব আপনি পেয়ে যাবেন।
📄 রোগীর সেবা শুশ্রূষাও নেক কাজ
একবার হযরত বললেন, জনৈক ব্যক্তি তার প্রতিদিনের নিয়মিত আমলের জন্যে একটি সময় নির্ধারণ করে রেখেছে। তখন সে একাকী বসে আল্লাহর যিকির-আযকার, দু'আ, তিলাওয়াত ইত্যাদিতে মশগুল থাকে। এ অবস্থায় হঠাৎ ঘরে পিতা-মাতা বা স্ত্রী-সন্তানের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লো। ফলে সে তাদের সেবা-যত্নে ব্যস্ত। এখন তার যিকির-আযকার ও দুআ তিলাওয়াতের সুযোগ হচ্ছে না। এ জন্যে তার মনে কষ্ট হচ্ছে যে, এখন আমি ঐ ইবাদতগুলো করতে পারছি না।
📄 সময়ের দাবি পূরণ করা
হযরত বলেন, বস্তুত এখানে আফসোস বা কষ্ট পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কেননা এখানে রোগীর সেবাই তার জন্যে ইবাদত হবে। বরং এতোদিন যে যিকির-আযকার করতো, তার চেয়েও উত্তম হবে।
হযরত বলেন, দ্বীন মূলত সময়ের দাবি অনুযায়ী আমল করার নাম। দেখতে হবে এ মুহূর্তে তোমার কাছে দ্বীনের দাবি কি? এ মুহূর্তের দাবি হল যিকির-আযকার আপাতত বন্ধ রেখে রোগীর সেবা করা। এমন মনে করা না যে, এ সময় আমি যে যিকির-আযকার করতাম, এখন তো তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আল্লাহ তোমাকে বঞ্চিত করবেন না। কারণ, তুমি দ্বীনের অন্য একটি দাবি পূরণের জন্যেই মূলত এ কাজ ছেড়ে দিয়েছো।
📄 রমাযানের সমূহ বরকত অর্জনের উপায়
একবার হযরত বলেন, কেউ যদি রমাযান মাসে অসুস্থ হয় কিংবা সফর বের হয় এবং এ কারণে রোযা রাখতে না পারে। তাহলে তার ব্যাপার শরীয়তের বিধান হলো, সে এ রোযাগুলো পরে কাযা করে নিবে এবং যেহেতু শরীয়তসম্মত ওযরের কারণে রোযা ভেঙ্গেছে, এ জন্যে পরবর্তীতে দিনগুলোতে সে ঐ রোযা কাযা করবে, তাতেই তার রমাযান মাস ফিরে আসবে। অর্থাৎ, রমাযান মাসে যেমন বরকত-রহমত ছিলো, এখন ঐ দিনগুলোই তার জন্যে সে রকম রহমত ও বরকতপূর্ণ হয়ে যাবে। কারণ, শরীয়তসম্মত ওযরবশত রমাযানের রোযা ভাঙ্গার কারণে সে রমাযানের বরকত থেকে মাহরুম থাকবে, এটা আল্লাহর রহমতের সঙ্গে কিছুতেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
সুতরাং কেউ শরীয়তসম্মত ওযরের কারণে তার কোনো নফল আমল ছেড়ে দিলে বা বিলম্বিত করলে সেখানেও ইনশাআল্লাহ ঐ আমলের সব নূর ও বরকতের অধিকারী হবে। কারণ, সময়ের দাবি পূরণ করাই দ্বীন। আপনি এরূপ বলবেন না যে, এখন আমার যিকিরের সময় বা তিলাওয়াতের সময়, অতএব কেউ অসুস্থ হোক বা মারা যাক তাতে আমার কি? এমন মনোভাব পোষণ করা কখনো দ্বীন হতে পারে না।