📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ইতিকাফের ক্ষতিপূরণ

📄 ইতিকাফের ক্ষতিপূরণ


অবশেষে যখন অন্য উম্মুল মুমিনীনদের প্রতি খেয়াল করে হযরত আয়েশ রাযি.-এর তাঁবু উঠিয়ে দিলেন এবং আয়েশা রাযি.-এর প্রতি খেয়াল করে নিজেও ইতিকাফ করলেন না। যে ইতেকাফের আমল তিনি আজীক করেছেন, অন্যের মনে কষ্টের আশঙ্কায় সে ইতিকাফ এবার ছেড়ে দিলেন। ফলে এর ক্ষতিপূরণের জন্যে পরবর্তী বছরের রমাযানে দশ দিনের পরিবর্তে তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 এটিও সুন্নাত

📄 এটিও সুন্নাত


উপরের ঘটনা থেকে অনুমান করুন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে ছোটদের প্রতি খেয়াল রাখতেন। তিনি শরীয়তের একটি বিধানকে সুস্পষ্ট করার জন্যে এমন পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, যাতে তা অন্যের কষ্টের কারণ না হয়। শরীয়তের বিধানও জানিয়ে দিলেন, সেটার উপর আমলও করলেন, আবার অন্যের মনে ব্যথা দেওয়া থেকেও বেঁচে থাকলেন। সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরকে এ শিক্ষাও দিলেন যে, যে আমল ফরয ব ওয়াজিব নয়, বরং মুস্তাহাব, এমন আমলকে যদি কেউ কারো মন রক্ষার জন্যে বিলম্বিত করে, বা ছেড়ে দেয় তাহলে এটাও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হযরত ডা. আব্দুল হাই আরেফী রহ.-এর অভ্যাস

📄 হযরত ডা. আব্দুল হাই আরেফী রহ.-এর অভ্যাস


হযরত ডা. আব্দুল হাই রহ. প্রতি রমাযানে আসর পড়তে এসে মাগরিব পর্যন্ত ইতিকাফের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করতেন। তিলাওয়াত, যিকির-আযকার, তাসবীহ-তাহলীলে মশগুল থাকতেন এবং সবশেষে ইফতারের আগ পর্যন্ত লম্বা সময় নিয়ে দু'আ করতেন। হযরত তাঁর সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলকেও পরামর্শ দিতেন যে, তারাও যেন এই আমলের অভ্যাস গড়ে তোলে। কারণ, এতে সময়টা মসজিদে অতিবাহিত হওয়ার পাশাপাশি ইতিকাফের ফযীলতও অর্জিত হয় এবং ব্যক্তিগত আমলগুলো আদায় করায় এবং দু'আ করারও বিশেষ সুযোগ লাভ হয়। আর দু'আই তো হলো রমাযান মাসের বিশেষ অর্জন। কারণ, সারা দিনের রোজা শেষে ইফতারের একেবারে কাছাকাছি সময়ে মানুষের অবস্থা অনেকটা বিনম্র ও বিনয়ী হয়। এ অবস্থায় দু'আ করলে আল্লাহর কাছে খুব বেশি কবুল হয়। হযরত অনেক সময়ই এটাকে অভ্যাসে পরিণত করার পরামর্শ এবং তাগিদ দিতেন। ফলে এখনও হযরতের সঙ্গে সম্পৃক্ত লোকদের অনেকের মধ্যে এ আমল অবশিষ্ট আছে।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 এতে আপনি পূর্ণ সওয়াব পাবেন

📄 এতে আপনি পূর্ণ সওয়াব পাবেন


একবার তাদের একজন হযরতকে বললেন, হযরত! আপনার কথা অনুযায়ী আমি অভ্যাস করে নিয়েছিলাম যে, আসরের পরের সময়টা মসজিদে বসে ই'তিকাফ, যিকির-আযকার ও দু'আয় অতিবাহিত করতাম। কিন্তু আমার স্ত্রী একদিন বললেন, আপনি সারা দিন বাইরে থাকেন, আসরের পরে যদি একসঙ্গে বসে কিছু কথাবার্তা বলতাম, একসঙ্গে ইফতার করতাম, তাহলে একটু ভালো লাগতো। কিন্তু এখন আপনি এ সময়টাও মসজিদে বসে থাকেন। এখন আমি বড়ো দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছি যে, আমার এই আমল বহাল রাখবো, না স্ত্রীর কথা অনুযায়ী আসরের পরের সময় বাসায় অতিবাহিত করবো? হযরত এ কথা শোনামাত্র বললেন, আপনার স্ত্রী ঠিক বলেছেন। এখন থেকে আপনি আসরের পরের সময় ঘরেই থাকবেন। সেখানে স্ত্রীকে সঙ্গ দিয়ে যতোটুকু পারেন তিলাওয়াত, যিকির-আযকার করবেন। তারপর একসঙ্গে ইফতার করবেন।
- এরপর হযরত বললেন, আমি যে অভ্যাস বানিয়েছি, এটা বেশির চেয়ে বেশি একটা মুস্তাহাব আমল। আর আপনার স্ত্রী যে আমলের কথা বলেছেন, তা তার অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, শরীয়তের সীমানায় থেকে স্ত্রীর মনোরঞ্জন করা স্ত্রীর অধিকার। অনেক সময় তার এই মনোরঞ্জন ওয়াজিব হয়ে যায়। সুতরাং আপনি স্ত্রীকে খুশি করার জন্যে এ আমল ছেড়ে দিলেও আশা করি আল্লাহ আপনাকে এর বরকত থেকে বঞ্চিত করবেন না। স্ত্রীর হক আদায়ের জন্যে এ আমল ছেড়ে দিলেও এর পূর্ণ সওয়াব আপনি পেয়ে যাবেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00