📄 এ বছর আমিও ইতিকাফ করবো না
কিন্তু সমস্যা ছিলো এই যে, তিনি যেহেতু আয়েশা রাযি.-কে ইতিকাফের অনুমতি দিয়েছিলেন- যদিও তাকে অনুমতি দেওয়াটা সঙ্গত কারণেই ছিলো, যা অন্যদের মধ্যে বিদ্যমান ছিলো না- তথাপিও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিন্তা করলেন, যদি আমি আয়েশার তাঁবু রেখে অন্যদেরকে নিষেধ করি, তাহলে এটা তাদের জন্যে কষ্টকর হতে পারে। এ জন্যে অন্যদের তাঁবু উঠানোর সঙ্গে সঙ্গে হযরত আয়েশা রাযি.-কেও বললেন, তোমার তাঁবুও উঠিয়ে নাও। কিন্তু যখন ভাবলেন আয়েশাকে তো সুস্পষ্ট অনুমতি দিয়েছিলাম, এখন তাঁবু উঠিয়ে দেওয়া তাঁর জন্যে কষ্টের কারণ হতে পারে, এ জন্যে তাঁর প্রতি খেয়াল করে ঘোষণা দিলেন যে, আমিও এ বছর ইতিকাফ করবো না। এ কারণে তিনি ঐ বছর আর ইতিকাফই করলেন না।
টিকাঃ
৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২০০৭, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৭০২, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২১০৮, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৭৬১
📄 ইতিকাফের ক্ষতিপূরণ
অবশেষে যখন অন্য উম্মুল মুমিনীনদের প্রতি খেয়াল করে হযরত আয়েশ রাযি.-এর তাঁবু উঠিয়ে দিলেন এবং আয়েশা রাযি.-এর প্রতি খেয়াল করে নিজেও ইতিকাফ করলেন না। যে ইতেকাফের আমল তিনি আজীক করেছেন, অন্যের মনে কষ্টের আশঙ্কায় সে ইতিকাফ এবার ছেড়ে দিলেন। ফলে এর ক্ষতিপূরণের জন্যে পরবর্তী বছরের রমাযানে দশ দিনের পরিবর্তে তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেন।
📄 এটিও সুন্নাত
উপরের ঘটনা থেকে অনুমান করুন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে ছোটদের প্রতি খেয়াল রাখতেন। তিনি শরীয়তের একটি বিধানকে সুস্পষ্ট করার জন্যে এমন পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, যাতে তা অন্যের কষ্টের কারণ না হয়। শরীয়তের বিধানও জানিয়ে দিলেন, সেটার উপর আমলও করলেন, আবার অন্যের মনে ব্যথা দেওয়া থেকেও বেঁচে থাকলেন। সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরকে এ শিক্ষাও দিলেন যে, যে আমল ফরয ব ওয়াজিব নয়, বরং মুস্তাহাব, এমন আমলকে যদি কেউ কারো মন রক্ষার জন্যে বিলম্বিত করে, বা ছেড়ে দেয় তাহলে এটাও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।
📄 হযরত ডা. আব্দুল হাই আরেফী রহ.-এর অভ্যাস
হযরত ডা. আব্দুল হাই রহ. প্রতি রমাযানে আসর পড়তে এসে মাগরিব পর্যন্ত ইতিকাফের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করতেন। তিলাওয়াত, যিকির-আযকার, তাসবীহ-তাহলীলে মশগুল থাকতেন এবং সবশেষে ইফতারের আগ পর্যন্ত লম্বা সময় নিয়ে দু'আ করতেন। হযরত তাঁর সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলকেও পরামর্শ দিতেন যে, তারাও যেন এই আমলের অভ্যাস গড়ে তোলে। কারণ, এতে সময়টা মসজিদে অতিবাহিত হওয়ার পাশাপাশি ইতিকাফের ফযীলতও অর্জিত হয় এবং ব্যক্তিগত আমলগুলো আদায় করায় এবং দু'আ করারও বিশেষ সুযোগ লাভ হয়। আর দু'আই তো হলো রমাযান মাসের বিশেষ অর্জন। কারণ, সারা দিনের রোজা শেষে ইফতারের একেবারে কাছাকাছি সময়ে মানুষের অবস্থা অনেকটা বিনম্র ও বিনয়ী হয়। এ অবস্থায় দু'আ করলে আল্লাহর কাছে খুব বেশি কবুল হয়। হযরত অনেক সময়ই এটাকে অভ্যাসে পরিণত করার পরামর্শ এবং তাগিদ দিতেন। ফলে এখনও হযরতের সঙ্গে সম্পৃক্ত লোকদের অনেকের মধ্যে এ আমল অবশিষ্ট আছে।