📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 উম্মাহাতুল মুমিনীনের স্বভাবের প্রতি লক্ষ রাখা

📄 উম্মাহাতুল মুমিনীনের স্বভাবের প্রতি লক্ষ রাখা


একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ করার ই করলেন। আম্মাজান হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. বললেন, ইয়া রাসূলার আমারও আপনার সঙ্গে ইতিকাফে বসতে ইচ্ছা হচ্ছে। এমনিতে নারীদের জন্যে মসজিদে ইতিকাফ করা ঠিক নয়। নারীরা ইতিকাফ করা চাইলে ঘরেই করবে। কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি.-এর অবস্থান এ দিক থে ভিন্ন ছিলো যে, তাঁর ঘরের দরজা মসজিদের ভিতরের দিকেই খোলা হয়ে সুতরাং ঘরের দরজার সামনেই যদি মসজিদে তাঁর ইতিকাফের জায়গা ক হয়, আর তার সাথেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইতিকাফে জায়গা করা হয় তাহলে এতে পর্দার কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। প্রয়োজনে ঘরে চলে যাবেন, আবার প্রয়োজন সেরে ইতিকাফের জায়গা ফিরে আসবেন। এ জন্যে তাঁর মসজিদে ইতিকাফ করাতে কোনো সমস ছিলো না। বিধায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে অনুমতি দা করেন।
কিন্তু রমাযানের ২০ তারিখে যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের বাইরে গেলেন, তখন ফিরে এসে দেখেন, মসজিদের বিভিন্ন জায়গায় অনেকগুলো তাঁবু টানিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি সাহাবায়ে কেরামকে জিজ্ঞাসা করলেন- এসব তাঁবু কাদের। লোকেরা বললো, এগুলো উম্মুল মুমিনীনদের তাঁবু। আয়েশা রাযি. যখন মসজিদে ইতিকাফ করার অনুমতি পেয়ে গেলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্য বিবিগণও চিন্তা করলেন যে, আমরাও এ সৌভাগ্য অর্জন করি। তাই তাঁরাও মসজিদে নিজ নিজ তাঁবু টানিয়ে নিলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাবলেন, আয়েশার বিষয়টি তো ছিলো ভিন্ন। তার ঘর মসজিদের সঙ্গে। তার জন্যে তো পর্দা রক্ষা করেও মসজিদে ইতিকাফ করা সম্ভব। কিন্তু অন্যদের ঘর দূরে। তারা মসজিদে ইতিকাফ করলে বার বার ঘরে যাতায়াতে পর্দার লঙ্ঘন হবে। এভাবে তো নারীদের ইতিকাফ করা ঠিক নয়। তাই তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
الْبِرُّ يُرِدْنَ؟
'তারা কি বস্তুত কোনো নেক কাজের ইচ্ছা করছে?' উদ্দেশ্য ছিলো নারীদের এভাবে মসজিদে ইতিকাফ করা কোনো নেক কাজ নয়।

টিকাঃ
৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৪০৩, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৪০৮, সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং ১০৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮১১৫

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 এ বছর আমিও ইতিকাফ করবো না

📄 এ বছর আমিও ইতিকাফ করবো না


কিন্তু সমস্যা ছিলো এই যে, তিনি যেহেতু আয়েশা রাযি.-কে ইতিকাফের অনুমতি দিয়েছিলেন- যদিও তাকে অনুমতি দেওয়াটা সঙ্গত কারণেই ছিলো, যা অন্যদের মধ্যে বিদ্যমান ছিলো না- তথাপিও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিন্তা করলেন, যদি আমি আয়েশার তাঁবু রেখে অন্যদেরকে নিষেধ করি, তাহলে এটা তাদের জন্যে কষ্টকর হতে পারে। এ জন্যে অন্যদের তাঁবু উঠানোর সঙ্গে সঙ্গে হযরত আয়েশা রাযি.-কেও বললেন, তোমার তাঁবুও উঠিয়ে নাও। কিন্তু যখন ভাবলেন আয়েশাকে তো সুস্পষ্ট অনুমতি দিয়েছিলাম, এখন তাঁবু উঠিয়ে দেওয়া তাঁর জন্যে কষ্টের কারণ হতে পারে, এ জন্যে তাঁর প্রতি খেয়াল করে ঘোষণা দিলেন যে, আমিও এ বছর ইতিকাফ করবো না। এ কারণে তিনি ঐ বছর আর ইতিকাফই করলেন না।

টিকাঃ
৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২০০৭, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৭০২, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২১০৮, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৭৬১

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ইতিকাফের ক্ষতিপূরণ

📄 ইতিকাফের ক্ষতিপূরণ


অবশেষে যখন অন্য উম্মুল মুমিনীনদের প্রতি খেয়াল করে হযরত আয়েশ রাযি.-এর তাঁবু উঠিয়ে দিলেন এবং আয়েশা রাযি.-এর প্রতি খেয়াল করে নিজেও ইতিকাফ করলেন না। যে ইতেকাফের আমল তিনি আজীক করেছেন, অন্যের মনে কষ্টের আশঙ্কায় সে ইতিকাফ এবার ছেড়ে দিলেন। ফলে এর ক্ষতিপূরণের জন্যে পরবর্তী বছরের রমাযানে দশ দিনের পরিবর্তে তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 এটিও সুন্নাত

📄 এটিও সুন্নাত


উপরের ঘটনা থেকে অনুমান করুন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে ছোটদের প্রতি খেয়াল রাখতেন। তিনি শরীয়তের একটি বিধানকে সুস্পষ্ট করার জন্যে এমন পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, যাতে তা অন্যের কষ্টের কারণ না হয়। শরীয়তের বিধানও জানিয়ে দিলেন, সেটার উপর আমলও করলেন, আবার অন্যের মনে ব্যথা দেওয়া থেকেও বেঁচে থাকলেন। সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরকে এ শিক্ষাও দিলেন যে, যে আমল ফরয ব ওয়াজিব নয়, বরং মুস্তাহাব, এমন আমলকে যদি কেউ কারো মন রক্ষার জন্যে বিলম্বিত করে, বা ছেড়ে দেয় তাহলে এটাও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00