📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 নিজে গোনাহে নিপতিত হয়ো না

📄 নিজে গোনাহে নিপতিত হয়ো না


হযরত থানভী রহ. উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলতেন, 'সূফিয়ায়ে কেরামর জন্যে এ কাজ তো স্বভাবজাত বিষয়ের মতো।'
অর্থাৎ, সূফিয়ায়ে কেরাম- যারা আল্লাহর প্রিয়তম ওলী- অন্যকে করার বিষয়টি তো তাদের কাছে জন্মগত স্বভাবের মতো হয়ে যায়। তা কাছে এসে সবাই খুশি হয়ে যায়। কেউ বিরক্ত হয় না। কারণ, আল্ল মেহেরবানীতে এই হাদীসের উপর তাদের আমল করার তাওফীক লাভ হয়।
এরপর হযরত বলেন, তবে এর জন্যে শর্ত হলো, অন্যকে খুশি করতে গিয়ে নিজে গোনাহে। হওয়া যাবে না।
অর্থাৎ, অন্যকে তো খুশি করবে, কিন্তু অন্যকে খুশি করার চিন্তায় নি কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে গোনাহে নিপতিত হবে না।
এরপর হযরত বলেন, যেমন কিছু লোক বলে, আমরা হলাম 'সুলহে কুলু' তথা সব বি আপোষকামী। সুতরাং আমাদের নীতি হলো, যে যাই করুক না কেন, অ কারোই কোনো ভুলের সংশোধনীতে যাবো না। কোনো মন্দকে মন্দ বলবো না। কোনো মন্দের প্রতিবাদ করবো না। কারণ, আমরা তো সব বিষয়ে আপোষকামী। এটা কোনো বিশুদ্ধ নীতি নয়।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ভালো কাজের আদেশ করা থেকে বিরত থেকো না

📄 ভালো কাজের আদেশ করা থেকে বিরত থেকো না


হযরত বলেন, 'কিছু লোক উপরোক্ত নীতির কারণেই সৎ কাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করে না।'
তারা চিন্তা করে- অমুককে যদি নামাযের কথা বলি, তাহলে সে মনে কষ্ট পাবে। অমুককে যদি তার গোনাহের কাজে বাধা দেই, তাহলে সে মনে ব্যথা পাবে। আমি কারো মনে কষ্ট দিতে চাই না। হযরত বলেন, এসব লোক কি কুরআনের'এ নির্দেশ দেখেনি-
وَلَا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِيْنِ اللَّهِ
'আল্লাহর দ্বীনের বিষয়ে যেন তাদের প্রতি তোমাদের দয়া না হয়।' অর্থাৎ, যে ব্যক্তি দ্বীনবিরোধী কাজ করছে, গোনাহের কাজ করছে, তার ব্যাপারে তোমাদের মনে যেন এই দয়া না হয় যে, আমি যদি তাকে এ কাজে বাধা দেই, তাহলে সে মনে কষ্ট পাবে।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 মন্দ কাজ থেকে নম্রভাবে বিরত রাখবে

📄 মন্দ কাজ থেকে নম্রভাবে বিরত রাখবে


তবে এটা অবশ্যই জরুরী যে, তাকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখার জন্যে যথা সম্ভব এমন পন্থা অবলম্বন করবে, যাতে সে কম ব্যথিত হয়। নম্রভাবে বলবে। বলার মধ্যে যেন সমবেদনা, সহমর্মিতা ও স্নেহ-ভালোবাসা থাকে। কল্যাণকামনা ও ইখলাস থাকে। তার প্রতিবাদ করে রাগ মিটানো যেন উদ্দেশ্য না হয়। কিন্তু এ চিন্তা কিছুতেই ঠিক নয় যে, আমি যতো নম্রভাবেই তাকে বলি না কেন, সে মনে কষ্ট পাবে, সুতরাং আমি তাকে কিছু বলবো না। কারণ, সকল মাখলুকের সন্তুষ্টির উপর আল্লাহর সন্তুষ্টির বিষয়টি অগ্রগণ্য। সুতরাং বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির এই প্রান্তিক দুই চিন্তাই ভুল। তাই সকল মুসলমানকেই খুশি রাখার চিন্তা করতে হবে। কিন্তু যখন আল্লাহর দেওয়া সীমারেখা এসে যাবে, তখন কেউ খুশি হলো কি কষ্ট পেলো, তা দেখার বিষয় নয়। সেখানে তো আল্লাহর হুকুমই মানতে হবে। আনুগত্য একমাত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরই করতে হবে। অন্য কারো পরোয়া করা যাবে না। অবশ্য যথাসম্ভব বিনয় ও নম্রপন্থা অবলম্বন করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
وَاخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

টিকাঃ
৩. নূরঃ ২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00