📄 কবি ফয়জির ঘটনা
বাদশাহ আকবরের যুগে ফয়জি ছিলেন অনেক বড়ো কবি ও সাহিত্যিক। একবার তিনি নাপিত দিয়ে দাড়ি মুণ্ডাচ্ছিলেন। জনৈক ব্যক্তি তার পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে এ অবস্থা দেখে বললো, জনাব আপনি দাড়ি মুণ্ডাচ্ছেন? কবি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ, দাড়ি মণ্ডাচ্ছি ঠিক, কিন্তু কারো মনে ব্যথা দিচ্ছি না। অর্থাৎ, আমার এ অন্যায় কর্ম তো আমার মধ্যেই সীমিত। আমি কা কষ্টের কারণ হচ্ছি না। কিন্তু তুমি আমার এ কাজের জন্যে যেভাবে বা তাতে তো তুমি আমার অন্তরে ব্যথা দিলে। প্রতি উত্তরে ঐ ব্যক্তি বলা আরে তুমি বলছো কারো মনে তুমি ব্যথা দাওনি, তুমি তো এ কাজ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মনে ব্যথা দিচ্ছো।
📄 অন্যকে খুশি করার সীমারেখা
অনেকের চিন্তায় ও কথায় দেখা যায় যে, তারা বলে থাকেন- আমি অন্যের অন্তরকে খুশি করছি। যদি অন্যকে খুশি করার জন্যে কোনো গে করতে হয় তাও তারা করতে দ্বিধা করে না।
কিন্তু ভাই! আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে তার নাফরমানী এবং তাঁর হুকুম পদদলিত করে অন্যকে খুশি করলেন, তাহলে গোনাহ করলেন। এটা ক ইবাদত হবে না। হাদীসের উদ্দেশ্য তো হলো, জায়েয এবং শরীয়তসম্ম কাজ করে অন্যকে খুশি করো।
📄 নিজে গোনাহে নিপতিত হয়ো না
হযরত থানভী রহ. উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলতেন, 'সূফিয়ায়ে কেরামর জন্যে এ কাজ তো স্বভাবজাত বিষয়ের মতো।'
অর্থাৎ, সূফিয়ায়ে কেরাম- যারা আল্লাহর প্রিয়তম ওলী- অন্যকে করার বিষয়টি তো তাদের কাছে জন্মগত স্বভাবের মতো হয়ে যায়। তা কাছে এসে সবাই খুশি হয়ে যায়। কেউ বিরক্ত হয় না। কারণ, আল্ল মেহেরবানীতে এই হাদীসের উপর তাদের আমল করার তাওফীক লাভ হয়।
এরপর হযরত বলেন, তবে এর জন্যে শর্ত হলো, অন্যকে খুশি করতে গিয়ে নিজে গোনাহে। হওয়া যাবে না।
অর্থাৎ, অন্যকে তো খুশি করবে, কিন্তু অন্যকে খুশি করার চিন্তায় নি কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে গোনাহে নিপতিত হবে না।
এরপর হযরত বলেন, যেমন কিছু লোক বলে, আমরা হলাম 'সুলহে কুলু' তথা সব বি আপোষকামী। সুতরাং আমাদের নীতি হলো, যে যাই করুক না কেন, অ কারোই কোনো ভুলের সংশোধনীতে যাবো না। কোনো মন্দকে মন্দ বলবো না। কোনো মন্দের প্রতিবাদ করবো না। কারণ, আমরা তো সব বিষয়ে আপোষকামী। এটা কোনো বিশুদ্ধ নীতি নয়।
📄 ভালো কাজের আদেশ করা থেকে বিরত থেকো না
হযরত বলেন, 'কিছু লোক উপরোক্ত নীতির কারণেই সৎ কাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করে না।'
তারা চিন্তা করে- অমুককে যদি নামাযের কথা বলি, তাহলে সে মনে কষ্ট পাবে। অমুককে যদি তার গোনাহের কাজে বাধা দেই, তাহলে সে মনে ব্যথা পাবে। আমি কারো মনে কষ্ট দিতে চাই না। হযরত বলেন, এসব লোক কি কুরআনের'এ নির্দেশ দেখেনি-
وَلَا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِيْنِ اللَّهِ
'আল্লাহর দ্বীনের বিষয়ে যেন তাদের প্রতি তোমাদের দয়া না হয়।' অর্থাৎ, যে ব্যক্তি দ্বীনবিরোধী কাজ করছে, গোনাহের কাজ করছে, তার ব্যাপারে তোমাদের মনে যেন এই দয়া না হয় যে, আমি যদি তাকে এ কাজে বাধা দেই, তাহলে সে মনে কষ্ট পাবে।