📄 হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাক্ষাত করাও সদকাতুল্য
এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন প্রকারের সদকার বিবরণ দিয়েছেন। বলেছেন, এই আমল সদকা, ঐ আমল সদকা ইত্যাদি। অর্থাৎ, সদকা করলে যেই সওয়াব হয় এ আমলগুলোতেও সেই সওয়াব পাওয়া যায়। ঐ হাদীসের শেষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
وَأَنْ تَلْقَى أَخَاكَ بِوَجْهِ طَلْقٍ অর্থাৎ, তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাত করাও একটি সদকা।'
তুমি যখন কারো সঙ্গে সাক্ষাত করবে, তখন যেন তার অন্তরে খুশির অনুভূতি জাগে এবং তোমার সাক্ষাতে তার মন জুড়ায়। তাহলে তোমার এ সাক্ষাতটা সদকা বলে গণ্য হবে।
সুতরাং যারা অন্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় মুখ ভার করে রাখে এবং গাম্ভীর্য্যের নামে ভয়ঙ্কর মূর্তি ধারণ করে, তারা সুন্নাতের উপর আমল করে না। সাক্ষাতের সুন্নাত তরীকা হলো, হাস্যেজ্জ্বল চেহারায় সাক্ষাত করো এবং সাক্ষাতকারীকে খুশি করার চেষ্টা করো।
টিকাঃ
২. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৭৬০, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৮৯৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৪১৮২
📄 গোনাহ করে কাউকে খুশি করবেন না
অপর দিকে কিছু মানুষ এমন সীমালঙ্ঘন করে যে, তারা বলে যেহেতু উপর একজনকে খুশি করা অনেক বড়ো ইবাদত, তাই আমরা এই ইবাদতের মাধ্যমে অন্যকে খুশি করি। যদিও তা কোনো নাজায়েয বা গোনাহের কাজ হোক না কেন। অথচ আল্লাহ এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অন্যকে খুশি করার উদ্দেশ্য হলো, জায়েয কাজের মাধ্যমে তাকে খুশি করতে হবে। কোনো নাজায়েয কাজ করে কাউকে খুশি করার অর্থ হলো, গোনাহ করে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে বান্দাকে সন্তুষ্ট করা। যা ইবাদত হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না, বরং তা নিশ্চিত গোমরাহী।
📄 কবি ফয়জির ঘটনা
বাদশাহ আকবরের যুগে ফয়জি ছিলেন অনেক বড়ো কবি ও সাহিত্যিক। একবার তিনি নাপিত দিয়ে দাড়ি মুণ্ডাচ্ছিলেন। জনৈক ব্যক্তি তার পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে এ অবস্থা দেখে বললো, জনাব আপনি দাড়ি মুণ্ডাচ্ছেন? কবি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ, দাড়ি মণ্ডাচ্ছি ঠিক, কিন্তু কারো মনে ব্যথা দিচ্ছি না। অর্থাৎ, আমার এ অন্যায় কর্ম তো আমার মধ্যেই সীমিত। আমি কা কষ্টের কারণ হচ্ছি না। কিন্তু তুমি আমার এ কাজের জন্যে যেভাবে বা তাতে তো তুমি আমার অন্তরে ব্যথা দিলে। প্রতি উত্তরে ঐ ব্যক্তি বলা আরে তুমি বলছো কারো মনে তুমি ব্যথা দাওনি, তুমি তো এ কাজ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মনে ব্যথা দিচ্ছো।
📄 অন্যকে খুশি করার সীমারেখা
অনেকের চিন্তায় ও কথায় দেখা যায় যে, তারা বলে থাকেন- আমি অন্যের অন্তরকে খুশি করছি। যদি অন্যকে খুশি করার জন্যে কোনো গে করতে হয় তাও তারা করতে দ্বিধা করে না।
কিন্তু ভাই! আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে তার নাফরমানী এবং তাঁর হুকুম পদদলিত করে অন্যকে খুশি করলেন, তাহলে গোনাহ করলেন। এটা ক ইবাদত হবে না। হাদীসের উদ্দেশ্য তো হলো, জায়েয এবং শরীয়তসম্ম কাজ করে অন্যকে খুশি করো।