📄 কোনো অন্তরকে খুশি করা হজ্জে আকবর সমতুল্য
এ বিষয়ে আমাদের সমাজের মানুষ প্রান্তিকতার শিকার। মধ্য অবলম্বনকারী লোকের বড়ো অভাব। কিছু লোক আছে, যারা অন্যকে করার বিষয়টিকে মোটেই গুরুত্ব দেয় না। এটা যে কতো বড়ো নেক ক এটা যেন তাদের জানাই নেই। কোনো মুসলমানকে বা কোনো মানুষকে করার জন্যে আল্লাহ যে কতো বড়ো প্রতিদান দিবেন, এ বিষয়ে আমাদের কোনো অনুভূতিই নেই। বুযুর্গগণ বলেছেন,
دل بدست آور که حج اکبر است 'কারো অন্তরকে খুশি করা হজ্বে আকবর বা বড়ো হজ্বতুল্য।'
তারা এমনিতেই এ কাজকে হজ্বে আকবরতুল্য বলেননি, বরং বাস্তবেই আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয় আমল।
📄 অন্যকে খুশি করার সওয়াব
একটু চিন্তা করে দেখুন যে, আমরা সকলে যদি উক্ত হাদীসের উৎ আমল শুরু করে দেই, সবাই এ চিন্তা করি যে, আমি অপরকে খুশি করনে তাহলে এই দুনিয়াই জান্নাতের নমুনা হয়ে যাবে। ঝগড়া-ফাসাদ ও হিংস বিদ্বেষ বলে দুনিয়ায় কিছুই থাকবে না। কোনো মানুষই অন্য কারো কারা কোনো কষ্ট পাবে না। সুতরাং বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিন। নিজে একটু ব করে এবং একটু ত্যাগ স্বীকার করে অন্যকে খুশি করার চেষ্টা করুন। আপনার একটু কষ্ট করার ফলে অন্য ব্যক্তি যদি একটু আরাম বোধ করে বা একটু খুশি হয়, তাহলে আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে আখেরাতে সওয়াব ও প্রতিদান দিবেন, তা কল্পনাতীত ব্যাপার।
📄 হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাক্ষাত করাও সদকাতুল্য
এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন প্রকারের সদকার বিবরণ দিয়েছেন। বলেছেন, এই আমল সদকা, ঐ আমল সদকা ইত্যাদি। অর্থাৎ, সদকা করলে যেই সওয়াব হয় এ আমলগুলোতেও সেই সওয়াব পাওয়া যায়। ঐ হাদীসের শেষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
وَأَنْ تَلْقَى أَخَاكَ بِوَجْهِ طَلْقٍ অর্থাৎ, তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাত করাও একটি সদকা।'
তুমি যখন কারো সঙ্গে সাক্ষাত করবে, তখন যেন তার অন্তরে খুশির অনুভূতি জাগে এবং তোমার সাক্ষাতে তার মন জুড়ায়। তাহলে তোমার এ সাক্ষাতটা সদকা বলে গণ্য হবে।
সুতরাং যারা অন্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় মুখ ভার করে রাখে এবং গাম্ভীর্য্যের নামে ভয়ঙ্কর মূর্তি ধারণ করে, তারা সুন্নাতের উপর আমল করে না। সাক্ষাতের সুন্নাত তরীকা হলো, হাস্যেজ্জ্বল চেহারায় সাক্ষাত করো এবং সাক্ষাতকারীকে খুশি করার চেষ্টা করো।
টিকাঃ
২. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৭৬০, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৮৯৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৪১৮২
📄 গোনাহ করে কাউকে খুশি করবেন না
অপর দিকে কিছু মানুষ এমন সীমালঙ্ঘন করে যে, তারা বলে যেহেতু উপর একজনকে খুশি করা অনেক বড়ো ইবাদত, তাই আমরা এই ইবাদতের মাধ্যমে অন্যকে খুশি করি। যদিও তা কোনো নাজায়েয বা গোনাহের কাজ হোক না কেন। অথচ আল্লাহ এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অন্যকে খুশি করার উদ্দেশ্য হলো, জায়েয কাজের মাধ্যমে তাকে খুশি করতে হবে। কোনো নাজায়েয কাজ করে কাউকে খুশি করার অর্থ হলো, গোনাহ করে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে বান্দাকে সন্তুষ্ট করা। যা ইবাদত হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না, বরং তা নিশ্চিত গোমরাহী।