📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 আল্লাহর বান্দাদেরকে খুশি রাখো

📄 আল্লাহর বান্দাদেরকে খুশি রাখো


হযরত ডা. আব্দুল হাই আরেফী রহ. বলতেন, যখন কোনো বান্দা আল্লাহর দিকে ধাবিত হয় এবং আল্লাহর প্রতি মহব্বতের বহিঃপ্রকাশ করে, তখন যেন আল্লাহ তাকে বলেন, হে বান্দা! আমাকে যদি মহব্বত করতে চাও, তাহলে দুনিয়ায় তো কখনো তুমি আমার সাক্ষাত পাবে না যে, তোমার মহব্বতের প্রকাশ করতে পারবে, তবে দুনিয়ায় আমি আমার বান্দাদেরকে রেখেছি আমাকে মহব্বত করলে তাদেরকে মহব্বত করো এবং তাদের মহব্বতের মাধ্যমে আমার মহব্বতের বহিঃপ্রকাশ ঘটাও। আর আমার বান্দাদেরকে যদি মহব্বত করো তাহলে তাদেরকে খুশি করার এবং খুশি রাখার চেষ্টা করো।

টিকাঃ
১. আল মু'জামুল কাবীর, হাদীস নং ১৩৬৪৬

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 কোনো অন্তরকে খুশি করা হজ্জে আকবর সমতুল্য

📄 কোনো অন্তরকে খুশি করা হজ্জে আকবর সমতুল্য


এ বিষয়ে আমাদের সমাজের মানুষ প্রান্তিকতার শিকার। মধ্য অবলম্বনকারী লোকের বড়ো অভাব। কিছু লোক আছে, যারা অন্যকে করার বিষয়টিকে মোটেই গুরুত্ব দেয় না। এটা যে কতো বড়ো নেক ক এটা যেন তাদের জানাই নেই। কোনো মুসলমানকে বা কোনো মানুষকে করার জন্যে আল্লাহ যে কতো বড়ো প্রতিদান দিবেন, এ বিষয়ে আমাদের কোনো অনুভূতিই নেই। বুযুর্গগণ বলেছেন,
دل بدست آور که حج اکبر است 'কারো অন্তরকে খুশি করা হজ্বে আকবর বা বড়ো হজ্বতুল্য।'
তারা এমনিতেই এ কাজকে হজ্বে আকবরতুল্য বলেননি, বরং বাস্তবেই আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয় আমল।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 অন্যকে খুশি করার সওয়াব

📄 অন্যকে খুশি করার সওয়াব


একটু চিন্তা করে দেখুন যে, আমরা সকলে যদি উক্ত হাদীসের উৎ আমল শুরু করে দেই, সবাই এ চিন্তা করি যে, আমি অপরকে খুশি করনে তাহলে এই দুনিয়াই জান্নাতের নমুনা হয়ে যাবে। ঝগড়া-ফাসাদ ও হিংস বিদ্বেষ বলে দুনিয়ায় কিছুই থাকবে না। কোনো মানুষই অন্য কারো কারা কোনো কষ্ট পাবে না। সুতরাং বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিন। নিজে একটু ব করে এবং একটু ত্যাগ স্বীকার করে অন্যকে খুশি করার চেষ্টা করুন। আপনার একটু কষ্ট করার ফলে অন্য ব্যক্তি যদি একটু আরাম বোধ করে বা একটু খুশি হয়, তাহলে আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে আখেরাতে সওয়াব ও প্রতিদান দিবেন, তা কল্পনাতীত ব্যাপার।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাক্ষাত করাও সদকাতুল্য

📄 হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাক্ষাত করাও সদকাতুল্য


এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন প্রকারের সদকার বিবরণ দিয়েছেন। বলেছেন, এই আমল সদকা, ঐ আমল সদকা ইত্যাদি। অর্থাৎ, সদকা করলে যেই সওয়াব হয় এ আমলগুলোতেও সেই সওয়াব পাওয়া যায়। ঐ হাদীসের শেষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
وَأَنْ تَلْقَى أَخَاكَ بِوَجْهِ طَلْقٍ অর্থাৎ, তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাত করাও একটি সদকা।'
তুমি যখন কারো সঙ্গে সাক্ষাত করবে, তখন যেন তার অন্তরে খুশির অনুভূতি জাগে এবং তোমার সাক্ষাতে তার মন জুড়ায়। তাহলে তোমার এ সাক্ষাতটা সদকা বলে গণ্য হবে।
সুতরাং যারা অন্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় মুখ ভার করে রাখে এবং গাম্ভীর্য্যের নামে ভয়ঙ্কর মূর্তি ধারণ করে, তারা সুন্নাতের উপর আমল করে না। সাক্ষাতের সুন্নাত তরীকা হলো, হাস্যেজ্জ্বল চেহারায় সাক্ষাত করো এবং সাক্ষাতকারীকে খুশি করার চেষ্টা করো।

টিকাঃ
২. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৭৬০, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৮৯৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৪১৮২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00