📄 আল্লাহর যিকিরের মহাসুসংবাদ
আল্লাহ তা'আলা কোনো বান্দাকে স্মরণ করবেন, এটা এতো বড় দৌলত এবং এতো বড়ো নেয়ামত, যার সামনে দুনিয়ার সকল দৌলত ও নেয়ামত খুবই নগণ্য। উক্ত হাদীসে এই মহান দৌলতের ব্যাপারেই বলা হয়েছে যে, কেউ যখন আল্লাহর দ্বীন শেখার জন্যে বা শিক্ষা দেওয়ার জন্যে কোথাও একত্রিত হয়, আল্লাহ ফেরেশতাদের মজলিসে তাদের সম্পর্কে আলোচনা করেন। এক হাদীসে কুদসীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন (হাদীসে কুদসী ঐ হাদীসকে বলা হয়, যাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কথা বর্ণনা করেন) আল্লাহ তা'আলা বলেন,
فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلَإٍ ذَكَرْتُهُ فِي مَلَإٍ خَيْرٍ مِنْهُمْ
'যে ব্যক্তি একাকী আমার স্মরণ করে আমিও তাকে একাকী স্মরণ করি আর যে ব্যক্তি আমাকে কোনো মজলিসে স্মরণ করে আমি তাকে তার চেয়ে উত্তম মজলিসে স্মরণ করি।
অর্থাৎ, সে যদি মানুষের মজলিসে আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমি ফেরেশতাদের মজলিসে তাকে স্মরণ করি।
এখানে আল্লাহর যিকিরের কতো বড়ো ফযীলতের কথা বলা হয়েছে! যারা দ্বীন পঠন-পাঠনের কাজ করে এবং দ্বীন বোঝা ও বোঝানোর জন্যে কোথাও একত্রিত হয়, তারা সবাই এ ফযীলতের অধিকারী। আল্লাহ আমাদের সকলকে এ সৌভাগ্য অর্জনের তাওফীক দান করুন। আমীন। আমরা যে সপ্তাহে একদিন এখানে একত্রিত হই এবং দ্বীনের আলোচনা করি, এ কোনো সাধারণ কথা নয়। আল্লাহর মেহেরবানীতে এটা বড়ো সওয়াব ও ফযীলতের বিষয়। তবে শর্ত হলো, অন্তরে ইখলাস থাকতে হবে এবং আল্লাহর দ্বীনের তলব থাকতে হবে।
টিকাঃ
২০. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৮৫৬, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৮৩২, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৩১০, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৮১২, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৭১১৫
📄 বংশধর হওয়া নাজাতের জন্য যথেষ্ট নয়
আলোচ্য হাদীসের শেষ বাক্য হলো,
وَمَنْ أَبْطَأَ بِهِ عَمَلُهُ لَمْ يُسْرِعْ بِهِ نَسَبُهُ
এ বাক্যটিও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপক অর্থবোধক বাণীসমূহের অন্তর্ভুক্ত। অর্থ হলো, যার আমল তাকে পিছিয়ে দিলো বা আমলের কারণে যে পিছিয়ে পড়লো, তার বংশ কখনো তাকে অগ্রসর করে দিতে পারবে না। অর্থাৎ, যখন অন্যান্য লোকেরা তাদের নেক আমলের উসিলায় আগে আগে জান্নাতে চলে যাবে, তখন কেউ যদি তার আমল খারাপ হওয়ার কারণে জান্নাত পর্যন্ত পৌছতে না পারে, পিছনে থেকে যায়, তাহলে সে শুধু অমুক বংশের লোক হওয়ার কারণে, অমুক বুযুর্গ বা আলেমের সন্তান হওয়ার কারণে জান্নাতে পৌছতে পারবে না। বলতে চান যে, শুধু এ ভরসা করে বসে থেকো না যে, আমি তো অমুক বংশের ছেলে বা অমুক আল্লাহওয়ালার ছেলে। বরং নিজের আমল ঠিক করার ফিকির করো। যদি বংশীয় মর্যাদা কাজে আসতো, তাহলে নূহ আলাইহিস সালামের ছেলে জাহান্নামে যেতো না। যেখানে নূহ আলাইহিস সালামের মতো বড়ো নবী ছেলের মুক্তির জন্যে দু'আ করছেন, আর তার উত্তরে আল্লাহ বলছেন,
إِنَّهُ عَمَلٌ غَيْرُ صَالِحٍ
সে তো নেক আমল করেনি।” সুতরাং তার ব্যাপারে আপনার দু'আ কবুল করা হবে না। তো আসল বিষয় হলো নিজের আমল। তবে আমল ঠিক হওয়ার পাশাপাশি কোনো বুযুর্গের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে তখন সেটাকেও আল্লাহ তা'আলা উপকারী করেন। কিন্তু নিজের আমল, চেষ্টা এবং নিজের সংশোধনের চিন্তা অবশ্যই থাকতে হবে। কারো যদি নিজের সংশোধন, আমল, ও চিন্তা-চেষ্টা না থাকে, বরং গাফলতের মধ্যে ডুবে থাকে, তাহলে শুধু বড়ো বংশ বা বুযুর্গের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সে কখনো জান্নাতের দিকে অগ্রগামী হতে পারবে না। আল্লাহ আমাদের সকলকে আমল ঠিক করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
টিকাঃ
২১. হুদঃ ৪৬
📄 সারকথা
আজকের আলোচনার সারকথা হলো, আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে মহব্বতের দাবির অত্যাবশ্যকীয় শর্ত তাঁর মাখলুকের সঙ্গে মহব্বত ও দয়া-মায়ার সম্পর্ক থাকা। যতোক্ষণ পর্যন্ত এটা অর্জন না হবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর সঙ্গে মহব্বতের দাবি মিথ্যা বলে বিবেচিত হবে। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলের অন্তরে তাঁর এবং তাঁর মাখলুকের মহব্বত দান করুন। আমীন।
وَاخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ