📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 তোমরা আল্লাহর যিকির করো, আল্লাহ্ তোমাদেরকে স্মরণ করবেন

📄 তোমরা আল্লাহর যিকির করো, আল্লাহ্ তোমাদেরকে স্মরণ করবেন


আলোচ্য হাদীসের পরবর্তী বাক্যটি হলো-
وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِيمَنْ عِنْدَهُ
অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদের মজলিসে ঐ যিকিরকারীদের আলোচনা করেন যে, আমার বান্দারা নিজেদের সব কাজ ছেড়ে দিয়ে শুধু আমার জন্যে, আমার যিকির করার জন্যে, আমার দ্বীনের কথা শোনার জন্যে একত্রিত হয়েছে। ফেরেশতাদের সঙ্গে বান্দাদেরকে নিয়ে আল্লাহর এভাবে আলোচনা করা কোনো সাধারণ কথা নয়! অনেক বড়ো ব্যাপার! কবি বলেন,
ذکر میر امجھ سے بہتر ہے کہ اس محفل میں ہے
'আমার স্মরণ তো আমার চেয়েও উত্তম। কারণ, আমাকে তো সেই মাহফিলে (আল্লাহর মজলিসে) স্মরণ করা হচ্ছে।'
এটা যেমন তেমন কোনো বিষয় নয় যে, প্রকৃত প্রেমাস্পদ আমাকে স্মরণ করবেন! এটা তো আমাদের কাজ ছিলো যে, আমরা তাঁকে স্মরণ করবো। আমাদের প্রতি নির্দেশ হচ্ছে,
فَاذْكُرُونِي 'তোমরা আমাকে স্মরণ করো।' কিন্তু সৌভাগ্যের বিষয় হলো, সঙ্গে সঙ্গে তিনি প্রতিদানের কথাও বলে দিয়েছেন,
اذْكُرْكُمْ অর্থাৎ, তোমরা আমাকে স্মরণ করলে আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করবো। আমরা তাঁকে স্মরণ করলে বা না করলে তাঁর কি আসে যায়! আমাদের যিকিরের কী-ই বা মূল্য আছে? আমাদের যিকিরে তো তাঁর বড়োত্ব ও মহত্ত্ব এক কণা পরিমাণও বৃদ্ধি পায় না। আর যদি আমরা তাঁর যিকির ছেড়ে দেই- বরং পুরো দুনিয়াও তাঁর যিকির ছেড়ে দেয়- তাতেও তো তাঁর বড়োত্বে ও মহত্ত্বে যারা পরিমাণও ঘাটতি হবে না। আমাদের দৃষ্টান্ত তো হলো, সামান্য একটা খড়কুটার মতো। একটা খড়কুটা আল্লাহর যিকির করলে তাতে এমন কি হয়ে গেলো! কিন্তু আল্লাহ বান্দার স্মরণ বা আলোচনা করবেন এটা নিশ্চয়ই কোনো সাধারণ কথা নয়। পরম সৌভাগ্যের কথাই বটে।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হযরত উবাই ইবনে কা'ব রাযি.-কে কুরআন শোনানোর নির্দেশ

📄 হযরত উবাই ইবনে কা'ব রাযি.-কে কুরআন শোনানোর নির্দেশ


হযরত উবাই ইবনে কা'ব রাযি. একজন প্রসিদ্ধ সাহাবী। প্রত্যেক সাহাবীকে আল্লাহ বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। তাঁর বৈশিষ্ট্য ছিলো- তিনি খুব সুন্দর করে কুরআনে কারীম তিলাওয়াত করতেন। তাঁর সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
أَقْرَؤُهُمْ بِكِتَابِ اللهِ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ
'সাহাবাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর কুরআন তিলাওয়াতকারী হলেন উবাই ইবনে কা'ব রাযি.।'
একদিন তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে বসা ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সম্বোধন করে বললেন, আল্লাহ তা'আলা হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে এই সংবাদ পাঠিয়েছেন যে, তুমি উবাই ইবনে কা'বকে বলো সে যেন তোমাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনায়। উবাই ইবনে কা'ব রাযি. যখন এ কথা শুনলেন, তখন জিজ্ঞাসা করলেন যে, স্বয়ং আল্লাহ কি আমার নাম নিয়ে বলেছেন যে, উবাই ইবনে কা'বকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতে বলো? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহ তোমার নাম নিয়ে বলেছেন। সঙ্গে সঙ্গে হযরত উবাই ইবনে কা'ব রাযি.-এর মধ্যে এমন ভাব ও আবেগের সৃষ্টি হলো যে, তিনি ফুঁপিয়ে কাঁদতে আরম্ভ করলেন। আর বললেন, আল্লাহ আমাকে স্মরণ করবেন এবং আমার নাম নিবেন, আমি মোটেই এ সৌভাগ্যের যোগ্য নই।

টিকাঃ
১৮. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৭২৩, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৫১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১২৪৩৭
১৯. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৫২৫, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৫০৯, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৭২৫, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১১৮

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 আল্লাহর যিকিরের মহাসুসংবাদ

📄 আল্লাহর যিকিরের মহাসুসংবাদ


আল্লাহ তা'আলা কোনো বান্দাকে স্মরণ করবেন, এটা এতো বড় দৌলত এবং এতো বড়ো নেয়ামত, যার সামনে দুনিয়ার সকল দৌলত ও নেয়ামত খুবই নগণ্য। উক্ত হাদীসে এই মহান দৌলতের ব্যাপারেই বলা হয়েছে যে, কেউ যখন আল্লাহর দ্বীন শেখার জন্যে বা শিক্ষা দেওয়ার জন্যে কোথাও একত্রিত হয়, আল্লাহ ফেরেশতাদের মজলিসে তাদের সম্পর্কে আলোচনা করেন। এক হাদীসে কুদসীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন (হাদীসে কুদসী ঐ হাদীসকে বলা হয়, যাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কথা বর্ণনা করেন) আল্লাহ তা'আলা বলেন,
فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلَإٍ ذَكَرْتُهُ فِي مَلَإٍ خَيْرٍ مِنْهُمْ
'যে ব্যক্তি একাকী আমার স্মরণ করে আমিও তাকে একাকী স্মরণ করি আর যে ব্যক্তি আমাকে কোনো মজলিসে স্মরণ করে আমি তাকে তার চেয়ে উত্তম মজলিসে স্মরণ করি।
অর্থাৎ, সে যদি মানুষের মজলিসে আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমি ফেরেশতাদের মজলিসে তাকে স্মরণ করি।
এখানে আল্লাহর যিকিরের কতো বড়ো ফযীলতের কথা বলা হয়েছে! যারা দ্বীন পঠন-পাঠনের কাজ করে এবং দ্বীন বোঝা ও বোঝানোর জন্যে কোথাও একত্রিত হয়, তারা সবাই এ ফযীলতের অধিকারী। আল্লাহ আমাদের সকলকে এ সৌভাগ্য অর্জনের তাওফীক দান করুন। আমীন। আমরা যে সপ্তাহে একদিন এখানে একত্রিত হই এবং দ্বীনের আলোচনা করি, এ কোনো সাধারণ কথা নয়। আল্লাহর মেহেরবানীতে এটা বড়ো সওয়াব ও ফযীলতের বিষয়। তবে শর্ত হলো, অন্তরে ইখলাস থাকতে হবে এবং আল্লাহর দ্বীনের তলব থাকতে হবে।

টিকাঃ
২০. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৮৫৬, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৮৩২, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৩১০, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৮১২, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৭১১৫

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 বংশধর হওয়া নাজাতের জন্য যথেষ্ট নয়

📄 বংশধর হওয়া নাজাতের জন্য যথেষ্ট নয়


আলোচ্য হাদীসের শেষ বাক্য হলো,
وَمَنْ أَبْطَأَ بِهِ عَمَلُهُ لَمْ يُسْرِعْ بِهِ نَسَبُهُ
এ বাক্যটিও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপক অর্থবোধক বাণীসমূহের অন্তর্ভুক্ত। অর্থ হলো, যার আমল তাকে পিছিয়ে দিলো বা আমলের কারণে যে পিছিয়ে পড়লো, তার বংশ কখনো তাকে অগ্রসর করে দিতে পারবে না। অর্থাৎ, যখন অন্যান্য লোকেরা তাদের নেক আমলের উসিলায় আগে আগে জান্নাতে চলে যাবে, তখন কেউ যদি তার আমল খারাপ হওয়ার কারণে জান্নাত পর্যন্ত পৌছতে না পারে, পিছনে থেকে যায়, তাহলে সে শুধু অমুক বংশের লোক হওয়ার কারণে, অমুক বুযুর্গ বা আলেমের সন্তান হওয়ার কারণে জান্নাতে পৌছতে পারবে না। বলতে চান যে, শুধু এ ভরসা করে বসে থেকো না যে, আমি তো অমুক বংশের ছেলে বা অমুক আল্লাহওয়ালার ছেলে। বরং নিজের আমল ঠিক করার ফিকির করো। যদি বংশীয় মর্যাদা কাজে আসতো, তাহলে নূহ আলাইহিস সালামের ছেলে জাহান্নামে যেতো না। যেখানে নূহ আলাইহিস সালামের মতো বড়ো নবী ছেলের মুক্তির জন্যে দু'আ করছেন, আর তার উত্তরে আল্লাহ বলছেন,
إِنَّهُ عَمَلٌ غَيْرُ صَالِحٍ
সে তো নেক আমল করেনি।” সুতরাং তার ব্যাপারে আপনার দু'আ কবুল করা হবে না। তো আসল বিষয় হলো নিজের আমল। তবে আমল ঠিক হওয়ার পাশাপাশি কোনো বুযুর্গের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে তখন সেটাকেও আল্লাহ তা'আলা উপকারী করেন। কিন্তু নিজের আমল, চেষ্টা এবং নিজের সংশোধনের চিন্তা অবশ্যই থাকতে হবে। কারো যদি নিজের সংশোধন, আমল, ও চিন্তা-চেষ্টা না থাকে, বরং গাফলতের মধ্যে ডুবে থাকে, তাহলে শুধু বড়ো বংশ বা বুযুর্গের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সে কখনো জান্নাতের দিকে অগ্রগামী হতে পারবে না। আল্লাহ আমাদের সকলকে আমল ঠিক করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

টিকাঃ
২১. হুদঃ ৪৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00