📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ইলমে দ্বীন শেখার ফযীলত ও সুসংবাদ

📄 ইলমে দ্বীন শেখার ফযীলত ও সুসংবাদ


আলোচ্য হাদীসের চতুর্থ বাক্য হলো,
وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ
উক্ত বাক্যে আমাদের সকলের জন্যে অনেক বড়ো সুসংবাদ রয়েছে। আল্লাহ আমাদের সকলকে এই সুসংবাদের অধিকারী হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন। এতে বলা হয়েছে, কেউ যদি দ্বীনের কোনো বিষয় শিক্ষার উদ্দেশ্যে রাস্তায় বের হয় তাহলে এই বের হওয়ার উসিলায় আল্লাহ তার জান্নাতের রাস্তা সহজ করে দিবেন। যেমন কোনো একটা ঘটনা ঘটে গেলো। এখন আপনার এ বিষয়ের মাসআলা জানা নেই। তাই মুফতী ছাহেবের কাছে যাচ্ছেন এ কথা জানার জন্যে যে, এখন আমার করণীয় কি? এই পথ চলার দ্বারা আপনি উক্ত ফযীলতের ভাগী হয়ে যাবেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 আমাদের পূর্বসূরীগণ অনেক পরিশ্রম করে ইলম সংকলন করেছেন

📄 আমাদের পূর্বসূরীগণ অনেক পরিশ্রম করে ইলম সংকলন করেছেন


ইলম অর্জনের জন্যে আমাদের পূর্বসূরীগণ যে মেহনত করেছেন, সে রকম মেহনত করার সামর্থ আমাদের কোথায়? আজ আমরা বসে শুধু কিতাব খুলে হাদীস পড়ছি এবং ওয়াজ করছি। আর আমাদের পূর্বসূরীগণ অনাহার- অর্ধাহারে থেকে, ছেঁড়া-ফাটা কাপড় পরে, অনেক ত্যগ স্বীকার করে আমাদের জন্যে এভাবে কিতাব সংকলন করে দিয়ে গিয়েছেন। তারা যদি এভাবে পরিশ্রম করে সংকলন করে দিয়ে না যেতেন, তাহলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীসমূহ আমাদের কাছে এভাবে সংরক্ষিত হয়ে পৌছতো না। তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একেকটি আচরণ-উচ্চারণ হেফাজত করে কিয়ামত পর্যন্ত আগত উম্মতের জন্যে কর্মধারা ও আলোর মিনার তৈরী করে গিয়েছেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 একটি হাদীসের জন্য দেড় হাজার কিলোমিটার সফর

📄 একটি হাদীসের জন্য দেড় হাজার কিলোমিটার সফর


বুখারী শরীফে একটি বর্ণনা এসেছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুব নিকটতম আনসারী সাহাবী হযরত জাবের রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের পর একদিন বসা ছিলেন। এমন সময় তিনি জানতে পারলেন যে, তাহাজ্জুদ নামায সম্পর্কে এমন একটি হাদীস আছে, যা আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি শুনিনি। অন্য এক সাহাবী তা সরাসরি শুনেছেন। যিনি এখন শামের দামেস্ক শহরে অবস্থান করছেন। তিনি ভাবলেন, এ হাদীসটি আমি ঐ সাহাবী থেকে সরাসরি না শুনে কেন বসে থাকবো? হাদীসটি তো সরাসরি ঐ সাহাবী থেকে শোনা দরকার, যিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নিয়ে শুনেছেন। মানুষকে জিজ্ঞাসা করলেন, ভাই অমুক সাহাবী এখন কোথায় আছেন? তারা বললেন, শামের দামেস্ক শহরে আছেন। জাবের রাযি. তয় মদীনার বাসিন্দা। সেখান থেকে দামেস্কের দূরত্ব প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার। আমি নিজেও সে রাস্তা সফর করেছি। যা সম্পূর্ণ তরু-লতাহীন মরু প্রান্তর। টিলা, গাছপালা বা পানির কোনো চিহ্ন সেখানে নেই। হযরত জাবের রাযি. তৎক্ষণাৎ উট তলব করে রওয়ানা হয়ে গেলেন এবং দো হাজার কিলো মিটার পথ অতিক্রম করে দামেস্কে পৌছলেন। সেই সাহাবী বাড়ি খুঁজে বের করলেন এবং দরজায় পৌছে করাঘাত করলেন। দরজা খুলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন- কী উদ্দেশ্যে আগমন হয়েছে?
হযরত জাবের রাযি. বললেন, আমি শুনেছি, তাহাজ্জুদের ফযীলত সম্পর্কে আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি একটি হাদীস শুনেছেন। সেই হাদীসটি আমি আপনার জবানে শোনার জন্যে এখানে এসেছি।
তিনি প্রশ্ন করলেন, আপনি মদীনা মুনাওয়ারা থেকে শুধু এর জন্যেই এসেছেন?
তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, শুধু এ উদ্দেশ্যেই আমি এসেছি।
সাহাবী বললেন, ঐ হাদীস আমি পরে শোনাবো। প্রথমে অন্য একটি হাদীস শুনুন, যা আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। তারপর তিনি এই আলোচ্য হাদীসটি শোনালেন, যে ব্যক্তি দ্বীনের ইলম শেখার জন্যে কোনো পথ অতিক্রম করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। এই হাদীস শোনানোর পর তাহাজ্জুদের ফযীলত বিষয়ক হাদীসটি শোনালেন। হাদীস শোনানোর পর তিনি বললেন, আপনি এক সময় ভিতরে বসুন এবং খাবার খেয়ে নিন।
জাবের রাযি. বললেন, না আমি খাবার খাবো না। কারণ, আমি চাচ্ছি আমার এ সফরটি কেবল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস সংগ্রহের জন্যেই হোক। তাতে অণু পরিমাণও যেন অন্য কিছুর অনুপ্রবেশ না ঘটে। তাই আমি আর কোনো কাজই করতে চাচ্ছি না। হাদীস পেয়ে গেছি, আমার সফরের লক্ষ্য অর্জন হয়ে গিয়েছে। আমি মদীনা মনুওয়ারায় ফিরে যাচ্ছি। আসসালামু 'আলাইকুম।

টিকাঃ
১৭. মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৫৪৬৪, ইমাম বুখারী রহ. উক্ত ঘটনাটি অধ্যায়-শিরোনামে উল্লেখ করেছেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 দ্বীনি মজলিসে যেতে ইলম শেখার নিয়ত করবে

📄 দ্বীনি মজলিসে যেতে ইলম শেখার নিয়ত করবে


দেখুন! একটি হাদীসের জন্যে কতো দীর্ঘ সফর করেছেন। এটি একটি উদাহরণ মাত্র। সাহাবায়ে কেরام, তাবেঈন, তাবয়ে তাবেঈনের জীবনী খুলে দেখুন তাঁদের একেক জন দ্বীনি ইলম শেখার জন্যে এবং হাদীস সংগ্রহ করার জন্যে কতো দীর্ঘ পথ সফর করেছেন। আজ হাদীসের এই সংগ্রহ আমাদের সামনে ভাজা রুটির মতো প্রস্তুত হয়ে পরিবেশিত আছে। অথচ এর পিছনে আল্লাহর ঐ সকল বান্দা কতো জান-মাল কোরবানী করে, কতো শ্রম দিয়ে আমাদের পর্যন্ত তা পৌছানোর ব্যবস্থা করেছেন। এ কাজ যদি আমাদের মতো লোকদের দায়িত্বে পড়তো, তাহলে দ্বীনের ইলম বিলুপ্ত হয়ে যেতো। আল্লাহর বড়ো মেহেরবানী যে, এ কাজের জন্যে তিনি তাঁদের মতো এক জামাআত তৈরী করেছেন, যারা ভবিষ্যত-প্রজন্মের জন্যে দ্বীনকে হেফাজত করেছেন। তাঁর বড়ো মেহেরবানী যে, এই দ্বীন সংরক্ষিত আছে। কিতাবাকারে মুদ্রিত হয়েছে। সবযুগে দ্বীনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবজায়গায় বিদ্যমান রয়েছে। এখন আপনাদের কাজ হলো, শুধু তাদের কাছে গিয়ে প্রস্তুত বিষয়গুলো শিখে নেওয়া এবং মাসালাসমূহ জেনে নেওয়া। শেষ কথা হলো, উক্ত হাদীসে ইলম অন্বেষণকারীর জন্যে অনেক বড়ো সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা যারা এখানে একত্রিত হই, আমাদের উদ্দেশ্যও এই দ্বীন শেখা এবং দ্বীনের ইলম অন্বেষণ করা। সুতরাং ঘর থেকে বের হওয়ার সময়ই আমরা যেন এ হাদীসটি স্মরণ করি এবং ইলম অন্বেষণ করার নিয়ত করে বের হই। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে এ হাদীসের সুসংবাদ লাভের সৌভাগ্য দান করুন। আমীন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00