📄 কাউকে গোনাহের কারণে লজ্জা দিও না
সারকথা হলো, অন্যের দোষ অন্বেষণ করো না এবং প্রচারও করো না। আজকাল এ বিষয়ে খুবই অবহেলা দেখা যায়। একজন যখন জেনে যায় যে, অমুক ব্যক্তি এই কাজ করছে, তখন আর তার পেটে এ কথা ধরে না। অন্যকে তা না বলা পর্যন্ত শান্তি পায় না। অথচ এভাবে অন্যের দোষ অন্বেষণ করা এবং তা প্রচার করা- উভয়টিই গোনাহ।
এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
مَنْ عَيَّرَ أَخَاهُ بِذَنْبٍ لَمْ يَمُتْ حَتَّى يَعْمَلَهُ
'যদি কেউ তার ভাইকে এমন গোনাহের উপর লজ্জা দেয়, যে গোনাহ থেকে সে তওবা করেছে, তাহলে ঐ ব্যক্তি ততোক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না, যতোক্ষণ পর্যন্ত সে নিজে ঐ গোনাহে লিপ্ত না হবে।'
যদি কারো থেকে কোনো গোনাহ হয়ে যায় এবং সে তা থেকে তওব করে নেয়, আর তুমি তাকে বার বার ঐ গোনাহের কারণে লজ্জা দিলে যে, তুমি তো সেই লোক, যে অমুক কাজ করেছিলে। আল্লাহর কাছে এমন কাজ খুবই অপছন্দনীয়। আল্লাহ বলেন, আমি তার ঐ গোনাহের উপর পর্দা দিয়ে দিয়েছি। তা ক্ষমা করে দিয়েছি। তার আমলনামা থেকে তা মুছে দিয়েছি। এখন তুমি কে যে, এই গোনাহের উপর প্রশ্ন তুলছো এবং তাকে এ বিষয়ে লজ্জা দিচ্ছো। তুমি যদি তাকে এ বিষয়ে লজ্জা দাও, মনে রেখো তোমাকেও আমি এই গোনাহে লিপ্ত করবো। এ জন্যে কোনো মুসলমানের দোষ অন্বেষণ করা, তা বর্ণনা করা বা প্রচার করা অনেক বড়ো কঠিন গোনাহ। আল্লাহ তোমাকে এই দুনিয়াতে দারোগা বানিয়ে পাঠাননি যে, তুমি অন্যের দোষ খুঁজে বেড়াবে। তোমাকে তো তিনি বান্দা বানিয়ে পাঠিয়েছেন তাঁর বন্দেগী করার জন্যে।
টিকাঃ
১৬. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৪২৯, সুনানে তিরমিযী বর্ণনায় قَدْ تَابَ مِنْ শব্দ নেই। তবে হাদীসের ব্যাখ্যায় এ শব্দটি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ.-এর বরাতে উলে-খ করা হয়েছে।
📄 নিজের চিন্তা করো
সুতরাং তুমি নিজের চিন্তা করো। নিজের দোষ-ত্রুটি দেখো। নিজের ছিদ্রান্বেষণ করো। আল্লাহ যাকে নিজের দোষ-ত্রুটি দেখার ফিকির দান করেন, অন্যের দোষ-ত্রুটি তার নজরে পড়েই না। অন্যের দোষ তার নজরেই পড়ে, যে নিজের দোষ-ত্রুটির বিষয়ে বেপরোয়া। আত্মসংশোধনের বিষয়ে গাফেল। যে ব্যক্তি নিজেই রোগী, তার অন্যের সর্দি-কাশির ব্যাপারে চিন্তা করার সুযোগ কোথায়? যদি কেউ এমন করে, তবে তো সে বোকা। অন্যের পিছনে পড়া, অন্যের দোষ-ত্রুটি খোঁজা, সেগুলো প্রচার করা কঠিন গোনাহ। যেমন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত হাদীসে বলেছেন। সুতরাং এসব কাজ করা কখনো কোনো মুসলমানের অভ্যাস হতে পারে না। একজন মুসলমানের জন্যে এগুলো থেকে বেঁচে থাকা জরুরী। অন্যথায় কেউ প্রকৃত মুসলমান হতে পারবে না।
📄 ইলমে দ্বীন শেখার ফযীলত ও সুসংবাদ
আলোচ্য হাদীসের চতুর্থ বাক্য হলো,
وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ
উক্ত বাক্যে আমাদের সকলের জন্যে অনেক বড়ো সুসংবাদ রয়েছে। আল্লাহ আমাদের সকলকে এই সুসংবাদের অধিকারী হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন। এতে বলা হয়েছে, কেউ যদি দ্বীনের কোনো বিষয় শিক্ষার উদ্দেশ্যে রাস্তায় বের হয় তাহলে এই বের হওয়ার উসিলায় আল্লাহ তার জান্নাতের রাস্তা সহজ করে দিবেন। যেমন কোনো একটা ঘটনা ঘটে গেলো। এখন আপনার এ বিষয়ের মাসআলা জানা নেই। তাই মুফতী ছাহেবের কাছে যাচ্ছেন এ কথা জানার জন্যে যে, এখন আমার করণীয় কি? এই পথ চলার দ্বারা আপনি উক্ত ফযীলতের ভাগী হয়ে যাবেন।
📄 আমাদের পূর্বসূরীগণ অনেক পরিশ্রম করে ইলম সংকলন করেছেন
ইলম অর্জনের জন্যে আমাদের পূর্বসূরীগণ যে মেহনত করেছেন, সে রকম মেহনত করার সামর্থ আমাদের কোথায়? আজ আমরা বসে শুধু কিতাব খুলে হাদীস পড়ছি এবং ওয়াজ করছি। আর আমাদের পূর্বসূরীগণ অনাহার- অর্ধাহারে থেকে, ছেঁড়া-ফাটা কাপড় পরে, অনেক ত্যগ স্বীকার করে আমাদের জন্যে এভাবে কিতাব সংকলন করে দিয়ে গিয়েছেন। তারা যদি এভাবে পরিশ্রম করে সংকলন করে দিয়ে না যেতেন, তাহলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীসমূহ আমাদের কাছে এভাবে সংরক্ষিত হয়ে পৌছতো না। তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একেকটি আচরণ-উচ্চারণ হেফাজত করে কিয়ামত পর্যন্ত আগত উম্মতের জন্যে কর্মধারা ও আলোর মিনার তৈরী করে গিয়েছেন।