📄 পয়সা খরচকারীদের জন্য দু'আ
আর যারা পয়সা খরচ করে তাদের জন্যে ফেরেশতা এই বলে দু'আ করতে থাকে,
أَعْطِ مُنْفِقًا خَلَفًا
হে আল্লাহ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে, দান খয়রাত করে, টাকা পয়সার ব্যাপারে মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করে, কাউকে দান করছে, কাউকে ক্ষমা করে দিচ্ছে- এমন ব্যক্তিকে দুনিয়াতে এর প্রতিদান দিন।
যে ব্যক্তি মানুষের সঙ্গে এমন সদাচরণ করে, বাহ্যত যদিও মনে হয় যে, অন্যের তুলনায় তার টাকা-পয়সা বেশি খরচ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু বস্তুত তা খরচ হচ্ছে না, বরং তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আরো বরকত নিয়ে আসছে। আল্লাহ তার প্রতিদান দিয়ে দেন। আজ পর্যন্ত এমন কাউকে দেখা যায়নি, যে দান- সদকা বেশি করার কারণে গরীব হয়ে গিয়েছে। এমন কখনো হয়নি। এ জন্যেই হাদীসে এসেছে যে, আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানেই সহজ করে দিবেন।
📄 অন্যের দোষ গোপন করুন
আলোচ্য হাদীসের তৃতীয় বাক্যটি হলো,
وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
'যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন।'
যেমন কোনো মুসলমানের কোনো দোষ-ত্রুটি সামনে এলো যে, সে তো অমুক কাজটা ভুল ও নাজায়েয করছে। এখন যেখানে সেখানে কথায় কথায় তার এই দোষ চর্চা না করে তা গোপন রাখো। কারো সামনে প্রকাশ করো না। আর এ পন্থা ততোক্ষণ পর্যন্ত অবলম্বন করতে হবে, যতোক্ষণ তার এ আমলের কারণে অন্যের ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা না থাকবে। পক্ষান্তরে কারো থেকে যদি এমন কোনো অন্যায় কাজ প্রকাশ পায়, যার কারণে অন্যের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেমন কাউকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, তখন তার এ দোষের কথা গোপন রাখা জায়েয নেই। বরং তখন তা প্রকাশ করে দেওয়া জরুরী। কিন্তু অন্যের ক্ষতির আশঙ্কা না থাকলে নিয়ম হলো তার এ দোষ গোপন রাখো এবং তার জন্যে আল্লাহর কাছে দু'আ করো, হে আল্লাহ এই লোক অমুক গোনাহে লিপ্ত, আপনি দয়া করে তাকে এ গোনাহ থেকে মুক্ত করে দিন।
📄 কাউকে গোনাহের কারণে লজ্জা দিও না
সারকথা হলো, অন্যের দোষ অন্বেষণ করো না এবং প্রচারও করো না। আজকাল এ বিষয়ে খুবই অবহেলা দেখা যায়। একজন যখন জেনে যায় যে, অমুক ব্যক্তি এই কাজ করছে, তখন আর তার পেটে এ কথা ধরে না। অন্যকে তা না বলা পর্যন্ত শান্তি পায় না। অথচ এভাবে অন্যের দোষ অন্বেষণ করা এবং তা প্রচার করা- উভয়টিই গোনাহ।
এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
مَنْ عَيَّرَ أَخَاهُ بِذَنْبٍ لَمْ يَمُتْ حَتَّى يَعْمَلَهُ
'যদি কেউ তার ভাইকে এমন গোনাহের উপর লজ্জা দেয়, যে গোনাহ থেকে সে তওবা করেছে, তাহলে ঐ ব্যক্তি ততোক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না, যতোক্ষণ পর্যন্ত সে নিজে ঐ গোনাহে লিপ্ত না হবে।'
যদি কারো থেকে কোনো গোনাহ হয়ে যায় এবং সে তা থেকে তওব করে নেয়, আর তুমি তাকে বার বার ঐ গোনাহের কারণে লজ্জা দিলে যে, তুমি তো সেই লোক, যে অমুক কাজ করেছিলে। আল্লাহর কাছে এমন কাজ খুবই অপছন্দনীয়। আল্লাহ বলেন, আমি তার ঐ গোনাহের উপর পর্দা দিয়ে দিয়েছি। তা ক্ষমা করে দিয়েছি। তার আমলনামা থেকে তা মুছে দিয়েছি। এখন তুমি কে যে, এই গোনাহের উপর প্রশ্ন তুলছো এবং তাকে এ বিষয়ে লজ্জা দিচ্ছো। তুমি যদি তাকে এ বিষয়ে লজ্জা দাও, মনে রেখো তোমাকেও আমি এই গোনাহে লিপ্ত করবো। এ জন্যে কোনো মুসলমানের দোষ অন্বেষণ করা, তা বর্ণনা করা বা প্রচার করা অনেক বড়ো কঠিন গোনাহ। আল্লাহ তোমাকে এই দুনিয়াতে দারোগা বানিয়ে পাঠাননি যে, তুমি অন্যের দোষ খুঁজে বেড়াবে। তোমাকে তো তিনি বান্দা বানিয়ে পাঠিয়েছেন তাঁর বন্দেগী করার জন্যে।
টিকাঃ
১৬. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৪২৯, সুনানে তিরমিযী বর্ণনায় قَدْ تَابَ مِنْ শব্দ নেই। তবে হাদীসের ব্যাখ্যায় এ শব্দটি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ.-এর বরাতে উলে-খ করা হয়েছে।
📄 নিজের চিন্তা করো
সুতরাং তুমি নিজের চিন্তা করো। নিজের দোষ-ত্রুটি দেখো। নিজের ছিদ্রান্বেষণ করো। আল্লাহ যাকে নিজের দোষ-ত্রুটি দেখার ফিকির দান করেন, অন্যের দোষ-ত্রুটি তার নজরে পড়েই না। অন্যের দোষ তার নজরেই পড়ে, যে নিজের দোষ-ত্রুটির বিষয়ে বেপরোয়া। আত্মসংশোধনের বিষয়ে গাফেল। যে ব্যক্তি নিজেই রোগী, তার অন্যের সর্দি-কাশির ব্যাপারে চিন্তা করার সুযোগ কোথায়? যদি কেউ এমন করে, তবে তো সে বোকা। অন্যের পিছনে পড়া, অন্যের দোষ-ত্রুটি খোঁজা, সেগুলো প্রচার করা কঠিন গোনাহ। যেমন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত হাদীসে বলেছেন। সুতরাং এসব কাজ করা কখনো কোনো মুসলমানের অভ্যাস হতে পারে না। একজন মুসলমানের জন্যে এগুলো থেকে বেঁচে থাকা জরুরী। অন্যথায় কেউ প্রকৃত মুসলমান হতে পারবে না।