📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 কোনো নেক কাজকে তুচ্ছ মনে করো না

📄 কোনো নেক কাজকে তুচ্ছ মনে করো না


উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, কোনো নেক কাজই ছোট বা তুচ্ছ নয়। কারণ, কে জানে আল্লাহ কোন নেক কাজটা কবুল করবেন, আর তা আমার নাজাতের উসিলা হয়ে যাবে? তাই কোনো নেক কাজকেই তুচ্ছ মনে করতে নেই। কিন্তু এখান থেকে এ কথা চিন্তা করার কোনো অবকাশ নেই যে, এ সব ঘটনাতে যেহেতু দেখা যাচ্ছে যে, আল্লাহ অমুককে অমুক কাজের উসিলায় ক্ষমা করে দিয়েছেন, সুতরাং নামায, রোযা ও অন্যান্য ফরযসমূহ আদায় করার কোনো প্রয়োজন নেই। আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা করে বসে থাকলেই চলবে। আপনারা শুনেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অক্ষম তো ঐ ব্যক্তি যে নফসকে খায়েশাতের পিছনে ছেড়ে দেয় এবং প্রবৃত্তির চাহিদা অনুপাতে কাজ করতে থাকে। হালাল-হারام ও জায়েয-না জায়েয দেখে না। শুধু আল্লাহর উপর আকাঙ্খা করে বসে থাকে যে, আল্লাহ ক্ষমাশীল। তিনি সব ক্ষমা করে দিবেন। এমনটি ভাবা কিছুতেই ঠিক নয়।

টিকাঃ
১২. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৩৮৩, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪২৫০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৬৫০১

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 মানুষের প্রতি বিনম্র আচরণের ফলে ক্ষমাপ্রাপ্তি

📄 মানুষের প্রতি বিনম্র আচরণের ফলে ক্ষমাপ্রাপ্তি


অন্য এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে এক লোক ছিলো, সে কোনো পণ্য বিক্রি করলে ক্রেতার সঙ্গে সদয় আচরণ করতো। দু'-চার টাকার জন্যে বাড়াবাড়ি করতো না। দাম চাওয়ার পর ক্রেতা কোনো দাম বললে চিন্তা করতো দু'-চার টাকার জন্যে বাড়াবাড়ি করে কি লাভ? ঠিক আছে, আমার লাভ একটু কম হলেও দিয়ে দেই। এমনিভাবে যখন কিছু ক্রয় করতো, তখনও বিক্রেতার সঙ্গে সদয় আচরণ করতো। বিক্রেতা দাম বলার পর সহজে দুই-এক কথায় দাম কমিয়ে দিলে তো ঠিক আছে, অন্যথায় দাম কমানোর জন্যে পীড়াপীড়ি বা জোর, জবরদস্তি না করে পণ্য কিনে নিতো।
এমনিভাবে কারো কাছে কোনো পাওনা থাকলে তা আদায় ক্ষেত্রেও সদয় আচরণ করতো। সময় মতো তা পরিশোধ করতে না পারলে বলতো- ঠিক আছে, পরে যখন সুযোগ হয় তখন আদায় করে দিও। এ ব্যক্তি পরকালে যখন আল্লাহর সম্মুখীন হলো, তখন আল্লাহ পাক বললেন, যেহেতু সে আমার বান্দাদের সঙ্গে সদয় আচরণ করতো, তাই আমিও আজ তার সঙ্গে সদয় আচরণ করবো। এরপর তাকে ক্ষমা করে দিলেন। খোলাসা কথা হলো, বান্দাদের সঙ্গে সদয় আচরণ করা এবং অভাবীকে সহজ করে দেওয়া আল্লাহর খুব পছন্দনীয় আমল।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভ্যাস

📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভ্যাস


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আজীবনের অভ্যাস ছিলো, কারে সঙ্গে বেচাকেনা করলেই তিনি চুক্তির চেয়ে কিছু বাড়িয়ে দিতেন। ঐ যুগে সোনা-চাঁদির মুদ্রা চালু ছিলো। তা বিভিন্ন মূল্যমানের হতো। তাই সেগুলোর সংখ্যা না ধরে ওজন হিসাব করে মূল্য পরিশোধ করা হতো। এক বর্ণনায় এসেছে- একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি পণ্য বাজার থেকে দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করেন। মূল্য পরিশোধ করার সময় ওজনদাতাকে বললেন,
زِنْ وَأَرْجِعُ 'পাল্লাটা একটু ঝুঁকিয়ে ওজন করো।
অর্থাৎ, যে মূল্য পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার উপর এসেছে তার চেয়ে কিছু বেশি দিয়ে দাও। অন্য বর্ণনায় এসেছে-
إِنَّ خِيَارَكُمْ أَحْسَنُكُمْ قَضَاءً

টিকাঃ
১৩. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১২২৬, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৪৫১৫, সুনানে আর দাউদ, হাদীস নং ২৮৯৮, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২২১১

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ইমাম আবু হানীফা রহ.-এর অসিয়ত

📄 ইমাম আবু হানীফা রহ.-এর অসিয়ত


'তোমাদের মধ্যে উত্তম ঐ ব্যক্তি, যে অন্যের হক সুন্দরভাবে আদায় করে। '
অর্থাৎ, কম না করে বরং একটু বাড়িয়ে আদায় করে। যেমন ধরুন আপনার দায়িত্বে একশ টাকা ঋণ আছে। আপনি তা আদায় করার সময় একশ দশ টাকা পরিশোধ করলেন এবং পাওনাদারকে দিবো দিচ্ছি করে কষ্ট দিলেন না, বরং যথাসময়ে যেভাবে আদায় করলে সে খুশি হয় সেভাবে আদায় করলেন। এ সব বিষয়ই উত্তমভাবে আদায় করার অন্তর্ভুক্ত।
হযরত ইমাম আবু হানীফা রহ.- আমরা যাঁর ফিকহের অনুসারী- তিনি তাঁর শাগরিদগণের নামে লেখা এক ওসিয়তনামায় লিখেছেন- যখন কারো সঙ্গে বেচাকেনা করবে তখন তার হক থেকে একটু বাড়িয়ে দিবে। কখনো কম দিবে না।
এটাও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত। আমরা তো এগুলো ছেড়ে সামান্য কিছু সুন্নাত মুখস্থ করে নিয়েছি। শুধু সেগুলোর উপর আমল করি। অথচ এগুলোও তাঁর সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। এগুলোর উপরও আমল করা জরুরী। আল্লাহ আমাদের সকলকে সুন্নাতের এ অংশের উপরও আমল করার তাওফীক দান করুন, আমীন। মূল আলোচ্য হাদীসে এই সুন্নাতের ব্যাপারে বলা হয়েছে,
وَمَنْ يَسَّرَ عَلَى مُعْسِرِ يَسَّرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
'যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্থকে সহজ করে দিবে আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে সহজ করে দিবেন।' প্রকৃত সহজতা তো হলো আখেরাতের সহজতা। কিন্তু অভিজ্ঞতা হলো, এমন ব্যক্তি দুনিয়াতেও পেরেশানির সম্মুখীন হয় না।

টিকাঃ
১৪. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১৪০, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৪৫৩৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮৭৪৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00