📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 এটা আইন নয়, রহমত

📄 এটা আইন নয়, রহমত


তবে মনে রাখতে হবে যে, এটা রহমত ও দয়ার আচরণ ছিলো, আইনের নয়। তাই এরূপ চিন্তা করা যাবে না যে, ভালো একটা ব্যবস্থাপত্র পেয়ে গেলাম। এখন নামায-রোযা আদায় করা, যাকাত দেওয়া, অন্য কোনো ফরয কাজ করা এবং গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। আমিও আজ থেকে মানুষকে এভাবে ক্ষমা করতে থাকবো, তাহলেই কিয়ামতের দিন আমার নাজাতের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এটা ঠিক নয়। কারণ, এটা হলো আল্লাহর রহমতের আচরণ। আল্লাহর রহমত আইনের অধীন নয়, তিনি যাকে চান দয়া করে ক্ষমা করে দেন। আইন হলো, সমস্ত ফরয অবশ্যই আদায় করতে হবে এবং যাবতীয় গোনাহ থেকে অবশ্যই বেঁচে থাকতে হবে। যদি কেউ ফরযসমূহ আদায় না করে এবং গোনাহ থেকে বেঁচে না চলে, বরং কোনো এক আমলের উপর ভরসা করে বসে থাকে, তাহলে তা ঠিক হবে না। কারণ, এটা আল্লাহর আইন নয়। তাছাড়া একটি আমলের কারণে যাকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন, জানা নেই যে, তা সে কেমন আবেগ-উদ্দীপনা নিয়ে করেছিলো। যার ফলে আল্লাহর রহমতের দরিয়ায় ঢেউ উঠেছে, আর তিনি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এটা আমার-আপনার জন্যে কোনো আইনগত বিধান নয়।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 নবাবকে গালি দেওয়ার পুরস্কার

📄 নবাবকে গালি দেওয়ার পুরস্কার


হযরত থানভী রহ. এ জাতীয় ঘটনাসমূহের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরার জন্যে একটা ঘটনা বলেন যে, হায়দারাবাদ দাক্ষিণাত্যের নেজামের একজন নবাব ছিলেন। একসময় মন্ত্রী তাকে দাওয়াত করে। নবাব সাহেব যখন মন্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করেন তখন মন্ত্রীর শিশু সন্তান সেখানে খেলা করছিলো। নবাব সাহেব শিশুদের সঙ্গে রসিকতা করে তাদেরকে উত্তেজিত করতেন। তিনি শিশুটির কান ধরলেন। শিশুটি ছিলো খুবই দুরন্ত। কে নবাব, কে রাজা- এ খবর তার ছিলো না। সে নবাবকে গালি দিয়ে বসলো। মন্ত্রী এ ঘটনা দেখে অত্যন্ত পেরেশান হলেন এবং আশঙ্কা করলেন যে, এখন না জানি বাচ্চার কী পরিণতি হয়। কারণ, বাদশাহ নামদারের মুখ দিয়ে যা বের হয় তাই এখানকার আইন। তখন মন্ত্রী নবাবের আনুগত্য প্রকাশের জন্যে তরবারী বের করে বললেন, আমি এখনি তার কল্লা উড়িয়ে দেবো। কারণ, সে আপনার সঙ্গে বেয়াদবী করেছে। নবাব সাহেব মন্ত্রীকে বাধা দিয়ে বললেন, বাদ দাও, শিশু তো এমন করবেই। একে তো আমার কাছে মেধাবী মনে হচ্ছে। তার মধ্যে এ পরিমাণ আত্মমর্যাদা বোধ আছে যে, কেউ যদি তাকে কানমলা দেয় তাহলে সে তার সামনে আত্মসমর্পণ করবে না। নিজেই প্রতিশোধ গ্রহণ করবে। কারণ, সে নিজের উপর আস্থাশীল। তার জন্যে এখন থেকে একটা মাসিক ভাতা চালু করে দাও। তখন থেকে তার ভাতা চালু হয়ে গেলো। যে ভাতার নাম ছিলো 'ওযিফায়ে দোশনাম' বা 'গালি- ভাতা'।
হযরত হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. বলেন, এখন কি তুমি এ কথা চিন্তা করে বাদশাহকে গালি দিবে যে, গালি দিলে ভাতা পাওয়া যায়? এ কাজ কেউ করবে না। কারণ, এটা হলো বিশেষ একটা কারণে শিশুর প্রতি নবাবের মহানুভবতা যে, গালি দেওয়া সত্ত্বেও তিনি তাকে শাস্তি না দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন। এটা কোনো আইন নয় যে, কেউ বাদশাকে গালি দিলে ভাতা পাবে। বরং কেউ গালি দিলে তাকে প্রহার করা হবে বা বন্দী করা হবে। এমনকি তাকে হত্যাও করা হতে পারে। আল্লাহর কোনো বান্দাকে পুরস্কৃত করার রহস্যটাও এখানেই। কাউকে কোনো এক উসিলায় পুরস্কৃত করেন, তো অন্য কাউকে অন্য কোনো উসিলায় পুরস্কৃত করেন। কারো এক আমল কবুল করেন, তো আরেকজনের কবুল করেন অন্য আমল। তাঁর রহমত কোনো আইন-কানুনের অধীন নয়।
رَحْمَتِي كُلَّ شَيْءٍ وَسِعَتْ 'আমার রহমত তো সব কিছুতে বিস্তৃত।' তাই কখনো কারো প্রতি কোনো জুলুম আমার পক্ষ থেকে হয় না। বরং কোনো আমলের উপর বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হয়, যখন তা তাঁর নিকট বিশেষভাবে পছন্দ হয়।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 কোনো নেক কাজকে তুচ্ছ মনে করো না

📄 কোনো নেক কাজকে তুচ্ছ মনে করো না


উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, কোনো নেক কাজই ছোট বা তুচ্ছ নয়। কারণ, কে জানে আল্লাহ কোন নেক কাজটা কবুল করবেন, আর তা আমার নাজাতের উসিলা হয়ে যাবে? তাই কোনো নেক কাজকেই তুচ্ছ মনে করতে নেই। কিন্তু এখান থেকে এ কথা চিন্তা করার কোনো অবকাশ নেই যে, এ সব ঘটনাতে যেহেতু দেখা যাচ্ছে যে, আল্লাহ অমুককে অমুক কাজের উসিলায় ক্ষমা করে দিয়েছেন, সুতরাং নামায, রোযা ও অন্যান্য ফরযসমূহ আদায় করার কোনো প্রয়োজন নেই। আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা করে বসে থাকলেই চলবে। আপনারা শুনেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অক্ষম তো ঐ ব্যক্তি যে নফসকে খায়েশাতের পিছনে ছেড়ে দেয় এবং প্রবৃত্তির চাহিদা অনুপাতে কাজ করতে থাকে। হালাল-হারام ও জায়েয-না জায়েয দেখে না। শুধু আল্লাহর উপর আকাঙ্খা করে বসে থাকে যে, আল্লাহ ক্ষমাশীল। তিনি সব ক্ষমা করে দিবেন। এমনটি ভাবা কিছুতেই ঠিক নয়।

টিকাঃ
১২. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৩৮৩, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪২৫০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৬৫০১

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 মানুষের প্রতি বিনম্র আচরণের ফলে ক্ষমাপ্রাপ্তি

📄 মানুষের প্রতি বিনম্র আচরণের ফলে ক্ষমাপ্রাপ্তি


অন্য এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে এক লোক ছিলো, সে কোনো পণ্য বিক্রি করলে ক্রেতার সঙ্গে সদয় আচরণ করতো। দু'-চার টাকার জন্যে বাড়াবাড়ি করতো না। দাম চাওয়ার পর ক্রেতা কোনো দাম বললে চিন্তা করতো দু'-চার টাকার জন্যে বাড়াবাড়ি করে কি লাভ? ঠিক আছে, আমার লাভ একটু কম হলেও দিয়ে দেই। এমনিভাবে যখন কিছু ক্রয় করতো, তখনও বিক্রেতার সঙ্গে সদয় আচরণ করতো। বিক্রেতা দাম বলার পর সহজে দুই-এক কথায় দাম কমিয়ে দিলে তো ঠিক আছে, অন্যথায় দাম কমানোর জন্যে পীড়াপীড়ি বা জোর, জবরদস্তি না করে পণ্য কিনে নিতো।
এমনিভাবে কারো কাছে কোনো পাওনা থাকলে তা আদায় ক্ষেত্রেও সদয় আচরণ করতো। সময় মতো তা পরিশোধ করতে না পারলে বলতো- ঠিক আছে, পরে যখন সুযোগ হয় তখন আদায় করে দিও। এ ব্যক্তি পরকালে যখন আল্লাহর সম্মুখীন হলো, তখন আল্লাহ পাক বললেন, যেহেতু সে আমার বান্দাদের সঙ্গে সদয় আচরণ করতো, তাই আমিও আজ তার সঙ্গে সদয় আচরণ করবো। এরপর তাকে ক্ষমা করে দিলেন। খোলাসা কথা হলো, বান্দাদের সঙ্গে সদয় আচরণ করা এবং অভাবীকে সহজ করে দেওয়া আল্লাহর খুব পছন্দনীয় আমল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00