📄 হযরত ডা. আব্দুল হাই আরেফী রহ.-এর একটি কথা
আমাদের হযরত ডা. আব্দুল হাই আরেফী রহ. বলতেন, যখন আল্লাহ তা'আলার ইবাদত করি এবং তাঁর নিকট তাঁর মহব্বত প্রার্থনা করি-ে আল্লাহ! আমাদেরকে তোমার মহব্বত দান করুন- তখন আমার কেমন ফে মনে হয় যে, আল্লাহ বলছেন, তোমরা আমাকে মহব্বত করতে চাও? আমাকে তো তোমরা দেখোনি, কীভাবে আমার সঙ্গে মহব্বতের সম্পর্ক করবে? তাই দুনিয়াতে আমার মহব্বত প্রকাশের ক্ষেত্র হিসাবে আমার বান্দাদেরকে তৈরী করেছি। তাদের মহব্বত করো এবং তাদের প্রতি দয় করো। আমার সঙ্গে মহব্বতের সম্পর্ক করার এটাই পথ।
সুতরাং এমন মনে করা যে, আমি তো আল্লাহকে মহব্বত করি, বান্দাব মাখলুক আবার কি জিনিস? এ তো তুচ্ছ বস্তু। এই ভেবে তাদের প্রতি তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে তাকানো এবং তাদেরকে হীন মনে করা এ কথার পরিচায়ক যে, আল্লাহর সঙ্গে তোমার মহব্বতের যে দাবি আছে- তা মিথ্যা কারণ আল্লাহর সঙ্গে যার মহব্বত থাকবে, আল্লাহর মাখলুকের সঙ্গে তার অবশ্যই মহব্বত থাকবে। এ জন্যেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি তার অপর ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে নিয়োজিত থাকবে, স্বয়ং আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণে নিয়োজিত থাকবেন। যে ব্যক্তি কোনে মুসলমান ভাইয়ের পেরেশানী দূর করবে, আল্লাহ পাক কিয়ামত দিবসে তার পেরেশানী দূর করে দিবেন।
📄 আউলিয়ায়ে কেরামের অবস্থা
যতো আউলিয়ায়ে কেরام অতিবাহিত হয়েছেন, তাদের সকলের অবস্থাই এমন ছিলো যে, তারা যদি কোনো মাখলুকের দুরাবস্থা দেখতেন, অথবা কোনো অন্যায়-অনাচার ও পাপাচারে লিপ্ত দেখতেন, তাহলে অন্যায় ও পাপকে যেহেতু ঘৃণা করা ওয়াজিব, তাই তারা তার অন্যায় ও পাপ কাজকে তো ঘৃণা করতেন, কিন্তু ঐ মানুষটিকে ঘৃণা করতেন না বা তাকে তুম ভাবতেন না।
📄 হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহ.-এর ঘটনা
হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহ. দজলা নদীর তীরে পায়চারি করছিলেন। তাঁর কাছ দিয়ে একটি নৌকা যাচ্ছিলো। ঐ নৌকায় বখাটে ধরনের কিছু যুবক গান-বাজনা করছিলো। আর এ জাতীয় আড্ডার পাশ দিয়ে যখন কোনো মোল্লা মানুষ অতিক্রম করে তখন তাকে নিয়ে বিদ্রূপ করাও তাদের আড্ডা-আনন্দের একটা যুগসই অংশ হিসাবে গণ্য হয়। তাই তারাও হযরতকে দেখে কিছু বিদ্রূপাত্মক কথাবার্তা বললো। হযরতের সঙ্গে আরেকজন লোক ছিলেন। তিনি এ অবস্থা দেখে বললেন, হযরত আপনি ওদের উপর বদ দু'আ করুন। কারণ, এরা এতোই বেয়াদব যে, একে তো নিজেরা পাপাচারে লিপ্ত, অপরদিকে আল্লাহওয়ালাদেরকে বিদ্রূপ করে। হযরত সঙ্গে সঙ্গে হাত তুলে দু'আ করলেন- 'হে আল্লাহ আপনি যেভাবে এই যুবকদেরকে এ দুনিয়ায় আনন্দ দান করেছেন, তাদের আমলকে এমন করে দিন, যেন আখেরাতেও তাদের এমন আনন্দ নসীব হয়।' দেখুন! তিনি ঐ যুবকদেরকে ঘৃণা করেননি। তিনি ভেবেছেন, তারা তো আমার আল্লাহরই মাখলুক।
📄 উম্মতের প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মমতা
যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ 'রাহমাতুল্লিল আলামীন' তথা বিশ্ববাসির জন্যে রহমত বানিয়ে পাঠিয়েছেন, তাঁর উপর যখন কাফেরদের পক্ষ থেকে পাথরের বৃষ্টি বর্ষিত হচ্ছিলো, পা মোবারক রক্তে রঞ্জিত হয়ে গিয়েছিলো, ঠিক তখনো তাঁর যবানে উচ্চারিত হচ্ছিলো,
رَبِّ اغْفِرْ لِقَوْمِي فَإِنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
হে আল্লাহ! আমার এ জাতিকে ক্ষমা করুন, কারণ তারা জানে না, আমাকে তারা চিনে না, তারা অজ্ঞ। অজ্ঞতার বসে তারা এমন করছে। আল্লাহ তাদের তুমি হেদায়েত দান করো।
একথা তাঁর যবানে এজন্যেই উচ্চারিত হচ্ছিলো যে, কাফেরদের পাপ কাজের প্রতি তো তাঁর ঘৃণা ছিলো, কিন্তু তাদের সত্তার প্রতি কোনো ঘৃণা ছিলো না। কারণ, তারা আল্লাহর মাখলুক। আর যারা আমার আল্লাহর মাখলুক, তাদের তো আমি ভালোবাসি।
টিকাঃ
১০. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৪১৭, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৩৪৭, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪০১৫, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৩৪২৯