📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 তাসাওউফ ও খেদমতে খালক্ব

📄 তাসাওউফ ও খেদমতে খালক্ব


আসলে এটা বড়ো স্পর্শকাতর বিষয় যে, যতোক্ষণ পর্যন্ত মাখলুকের সঙ্গে মহব্বত হবে না, ততোক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর সঙ্গে মহব্বতের দাবি সত্য হতে পারে না। তাই মাওলানা রূমী রহ. তাসাওউফ সম্পর্কে বলছেন,
ز تسبیح و سجاده و دلق نیست ، طریقت بجز خدمت خلق نیست 'তাসবীহ, জায়নামায আর তালি দেওয়া পোষাকের নাম তরীকত নয়। তরীকত খেদমতে খালক ছাড়া অন্য কিছু নয়।'
অর্থাৎ, হাতে তাসবীহ, জায়নামায বিছানো, আর তালি দেওয়া দরবেশী পোষাক পরাকে মানুষ তাসাওউফ নামে অভিহিত করেছে। আসলে এগুলোর নাম তাসাওউফ বা তরীকত নয়। তাসাওউফ বা তরীকত মাখলুকের খেদমত বৈ অন্য কিছু নয়। আল্লাহর নির্দেশ হলো, যদি আমার সঙ্গে তোমরা মহব্বতের দাবি করতে চাও তাহলে আমার মাখলুকের সঙ্গে মহব্বত তৈরী করো এবং তাদের খেদমত করো।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 আল্লাহ তা'আলা তার মাখলুককে মহব্বত করেন

📄 আল্লাহ তা'আলা তার মাখলুককে মহব্বত করেন


মাখলুকের সঙ্গে আল্লাহর অনেক গভীর মহব্বতের সম্পর্ক রয়েছে। আপনি মানুষের মধ্যে একটি বিষয় পরখ করে দেখুন, কেউ যদি কোনো বস্তু তৈরী করে, তা একটি পাথরও যদি হয়; তার সঙ্গে তার মহব্বত হয়ে যায়। কারণ সে তাতে অনেক সময় দিয়েছে, অনেক শ্রম দিয়েছে এবং সে মনে করে যে, এটা আমার সম্পদ। এমনিভাবে আল্লাহ পাকও অনেক আদর করে মাখলুক সৃষ্টি করেছেন। তাই তাদেরকে তিনি অনেক মহব্বত করেন। সুতরাং আল্লাহর সঙ্গে মহব্বতের দাবি করতে হলে তার মাখলুককেও মহব্বত করতে হবে।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হযরত নূহ আলাইহিস সালামের আশ্চর্য ঘটনা

📄 হযরত নূহ আলাইহিস সালামের আশ্চর্য ঘটনা


হযরত নূহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের উপর তুফান এসে সব ধ্বংস হয়ে গেলো। তারপর ওহীর মাধ্যমে নূহ আলাইহিস সালামকে আল্লাহ হুকুম দিলেন যে, এখন তোমার কাজ হলো মাটির পাত্র বানাতে থাকো। এই হুকুম পেয়ে হযরত নূহ আলাইহিস সালাম দিন-রাত মাটির পাত্র তৈরীতে লেগে গেলেন। কয়েক দিনে যখন পাত্রের স্তূপ হয়ে গেলো, তখন দ্বিতীয় নির্দেশ দিলেন যে, এখন একটা একটা করে সবগুলো পাত্র ভেঙ্গে ফেলো। এই হুকুমের পর হযরত নূহ আলাইহিস সালাম বললেন, হে আল্লাহ! আমি আপনারই নির্দেশে অনেক মেহনত করে এগুলো তৈরী করেছি। অথচ আপনি এখন এগুলো ভাঙ্গার নির্দেশ দিচ্ছেন! আল্লাহ বললেন, হ্যাঁ, এখন এটাই আমার নির্দেশ যে, এগুলো ভেঙ্গে ফেলো। এ পর্যায়ে হযরত নূহ আলাইহিস সালাম সবগুলো পাত্র ভাঙ্গলেন। কিন্তু মনে অনেক ব্যাথা পেলেন যে, এতো কষ্ট করে বানালাম, আর এখন তা ভেঙ্গে ফেলতে হলো। আল্লাহ বললেন, হে নূহ! যদিও তুমি এ পাত্রগুলো নিজের হাতে বানিয়েছো, কিন্তু তা আমার হুকুমে বানিয়েছো। তথাপিও এগুলোর সঙ্গে তোমার এমন মহব্বতের সম্পর্ক হয়ে গিয়েছে যে, তোমাকে যখন এগুলো ভাঙ্গার হুকুম দিলাম, তখন তুমি তা ভাঙ্গতে পারছিলে না। তোমার মন চাচ্ছিলো যে, পরিশ্রমের মাধ্যমে আমার হাতে যে পাত্রগুলো তৈরী হয়েছে কোনোভাবে যদি সেগুলো বেঁচে যেতো, কতোই না ভালো হতো। কারণ, পাত্রগুলোর সঙ্গে তোমার মহব্বত হয়ে গিয়েছিলো। নিজের বিষয়টি বুঝলে ঠিকই, কিন্তু আমার বিষয়টা বুঝলে না। আমি নিজের হাতে যে মাখলুকগুলো সৃষ্টি করেছি, সেগুলোর ব্যাপারে একদম বলে দিলে,
رَبِّ لَا تَذَرْ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْكُفِرِينَ دَيَّارًا
'হে আল্লাহ জমিনের সকল কাফের বাসিন্দাকে ধ্বংস করে দাও। একজন কাফেরও অবশিষ্ট রেখো না।"
তোমার এ কথায় আমি আমার মাখলুককে ধ্বংস করে দিয়েছি। তুমি যে মাটি দিয়ে পাত্র তৈরী করেছিলে, সে মাটিগুলো তোমার তৈরী করা ছিলো না। নিজে শখ করেও পাত্রগুলো বানাওনি, বরং আমার হুকুম পালনার্থে বানিয়েছিলে। তারপরও সেগুলোর সঙ্গে তোমার এমন মহব্বত হয়ে গিয়েছিলো। তাহলে কি আমার মাখলুকের প্রতি আমার মহব্বত থাকবে না। যদি আমার মাখলুকের প্রতি আমার মহব্বত থাকে তাহলে তোমাদেরকে। আমার মাখলুকের সঙ্গে মহব্বতের সম্পর্ক গড়তে হবে, যদি আমার সঙ্গে মহব্বতের দাবিদার হও।

টিকাঃ
৯. নূহঃ ২৬

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হযরত ডা. আব্দুল হাই আরেফী রহ.-এর একটি কথা

📄 হযরত ডা. আব্দুল হাই আরেফী রহ.-এর একটি কথা


আমাদের হযরত ডা. আব্দুল হাই আরেফী রহ. বলতেন, যখন আল্লাহ তা'আলার ইবাদত করি এবং তাঁর নিকট তাঁর মহব্বত প্রার্থনা করি-ে আল্লাহ! আমাদেরকে তোমার মহব্বত দান করুন- তখন আমার কেমন ফে মনে হয় যে, আল্লাহ বলছেন, তোমরা আমাকে মহব্বত করতে চাও? আমাকে তো তোমরা দেখোনি, কীভাবে আমার সঙ্গে মহব্বতের সম্পর্ক করবে? তাই দুনিয়াতে আমার মহব্বত প্রকাশের ক্ষেত্র হিসাবে আমার বান্দাদেরকে তৈরী করেছি। তাদের মহব্বত করো এবং তাদের প্রতি দয় করো। আমার সঙ্গে মহব্বতের সম্পর্ক করার এটাই পথ।
সুতরাং এমন মনে করা যে, আমি তো আল্লাহকে মহব্বত করি, বান্দাব মাখলুক আবার কি জিনিস? এ তো তুচ্ছ বস্তু। এই ভেবে তাদের প্রতি তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে তাকানো এবং তাদেরকে হীন মনে করা এ কথার পরিচায়ক যে, আল্লাহর সঙ্গে তোমার মহব্বতের যে দাবি আছে- তা মিথ্যা কারণ আল্লাহর সঙ্গে যার মহব্বত থাকবে, আল্লাহর মাখলুকের সঙ্গে তার অবশ্যই মহব্বত থাকবে। এ জন্যেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি তার অপর ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে নিয়োজিত থাকবে, স্বয়ং আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণে নিয়োজিত থাকবেন। যে ব্যক্তি কোনে মুসলমান ভাইয়ের পেরেশানী দূর করবে, আল্লাহ পাক কিয়ামত দিবসে তার পেরেশানী দূর করে দিবেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00