📄 কোনো মুসলমানের প্রয়োজন পূরণ করার ফযীলত
অন্য এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
مَنْ كَانَ فِي حَاجَةٍ أَخِيدِ كَانَ اللَّهُ فِي حَاجَتِهِ
কোনো ব্যক্তি যতোক্ষণ পর্যন্ত তার অপর ভাইয়ের কাজ করে দিবে বা তার কোনো প্রয়োজন পূরণ করতে থাকবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তার কাজ এবং তার প্রয়োজন পূরণ করতে থাকবেন।'
সুতরাং তুমি আমার বান্দার কাজে লেগে থাকো, আমি তোমার কাজে লেগে থাকবো।
کار ساز ما بساز کار ماه فکر ما در کار ما آزار ما 'আমাদের কর্মবিধায়ক আমাদের কর্ম সাধনে লেগে আছেন। আমাদের কর্মের বিষয়ে আমরা চিন্তা করতে আরম্ভ করলেই আমাদের যতো কষ্ট।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত হাদীসে একটি বাক্য এই ইরশাদ করেছেন,
مَنْ فَرَجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةٌ فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرُبَاتِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ 'যদি কেউ কোনো মুসলিমের একট বিপদ দূর করে দেয়, তাহলে আল্লাহ তার কিয়ামত দিবসের বিপদগুলোর একটি দূর করে দিবেন।"
টিকাঃ
৫. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২৬২, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৬৭৭, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৩৪৬
📄 আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়া করুন
বস্তুত অন্যের প্রয়োজন পূরণ করা বা অন্যের বিপদ দূর করা তখনই সম্ভব, যখন অন্তরে আল্লাহর মাখলুকের প্রতি দয়া ও ভালোবাসা থাকবে। যদি কেউ লোক দেখানোর জন্যে এ কাজগুলো করে তাহলে তার কোনোই মূল্য নেই। পক্ষান্তরে কেউ যদি চিন্তা করে যে, সে তো আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর সৃষ্টি, আমি তার সঙ্গে সদাচরণ করলে আল্লাহ আমাকে এর উত্তম বিনিময় দান করবেন, তাহলে তা অনেক মূল্যবান হয়ে যায়। আল্লাহর ভালোবাসার দাবি হলো তাঁর বান্দাকে ভালোবাসা। তাঁর বান্দার প্রতি ভালোবাসা না থাকার অর্থ হলো তাঁর প্রতিও ভালোবাসা না থাকা। এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ إِرْحَمُوا أَهْلَ الْأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ أَهْلُ السَّمَاءِ
‘যারা অন্যের উপর রহম করে, রহমান তাদের উপর রহম করেন। অতএব জমিনবাসীর উপর রহম করো, তাহলে আসমানবাসী তোমাদের উপর রহম করবেন।’
সুতরাং যতোক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর মাখলুকের প্রতি তোমাদের অন্তরে দয়া না হবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত তোমরা মুসলমান বলার উপযুক্ত নও। যতোক্ষণ আল্লাহর মাখলুকের প্রতি দয়া না করবে, ততোক্ষণ কি করে তাঁর দয়া পাওয়ার আশা করতে পারো? কারণ, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর সৃষ্টিকে ভালোবাসাও ঈমানের অন্যতম দাবি।
📄 লাইলির ঘর-বাড়ির সঙ্গে মজনুর ভালোবাসা
যখন কারো সঙ্গে ভালোবাসা হয়, তখন তার সবকিছুর সঙ্গে ভালোবাসা হয়। তাই লাইলির প্রেমে মজনু বলেছে,
أَمْرُ عَلَى الدِّيَارِ دِيَارِ لَيْلَى اقَبِلُ ذَا الْجِدَارَ وَ ذَا الْجِدَارًا
‘আমি যখন লাইলির বাড়ি অতিক্রম করি, তখন তার এই দেয়ালে ঐ দেয়ালে চুমু খাই।’
কারণ হলো,
وَمَا حُبُّ الدِّيَارِ شَغَفْنَ قَلْبِي وَلَكِنْ حُبُّ مَنْ سَكَنَ الدِّيَارًا
‘ঐ দেয়ালগুলোর সঙ্গে তো আমার প্রেম-ভালোবাসার কোনো সম্পর্ক নেই, সেগুলোকে আমি কেন ভালোবাসবো! কিন্তু দেয়ালগুলো যেহেতু আমার প্রেমাস্পদের বাসস্থানের, তাই সেগুলোকেও আমি ভালোবাসি এবং ওখান দিয়ে অতিক্রমকালে সেগুলোকে চুমু খেতে থাকি।’
মজনু যদি লাইলির প্রেমের কারণে তার বাড়ির ইট-পাথরের দেয়ালের প্রেমে আসক্ত হতে পারে, তাহলে আল্লাহর প্রেমিকের অন্তরে তাঁর প্রেম থাকবে অথচ তাঁর মাখলুক ও বান্দার প্রতি ভালোবাসা থাকবে না, তাদের প্রতি দয়া হবে না- এটা কী করে সম্ভব!
টিকাঃ
৬. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৮৪৭, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪২৯০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৬২০৬
৭. রওযাতুল মুহিব্বীন ও নুযহাতুল মুশতাকীন, পৃঃ ২৬৪
📄 আল্লাহর মহব্বত কি তাহলে লাইলির মহব্বত অপেক্ষা কম?
মছনবী শরীফে আল্লামা রূমী রহ. লিখেছেন- মজনু তো লাইলির কারণে তার শহরের কুকুরকেও ভালোবাসতো। কারণ, তা প্রেমাস্পদের শহরের কুকুর। মাওলানা রূমী রহ. বলেন,
عشق مولیٰ کے کم از لیلیٰ بوده گوئے گشتن بہر او اولیٰ بود
আরে! মাওলার প্রেম তো দেখি লাইলির প্রেম থেকেও কমে গিয়েছে। যখন এক নশ্বর বস্তুর সঙ্গে এমন মহব্বত হতে পারে, যার ফলে তার কুকুরের সঙ্গেও মহব্বত হয়ে যায়, তাহলে আল্লাহ তা'আলা- যিনি 'মালিকুল মুলক' সকল প্রিয়ের প্রিয়- তাঁর মহব্বতের দাবি তো হলো, তাঁর সকল মাখলুকের সঙ্গেও মহব্বত হবে, তা পশুই হোক না কেন। কারণ, তা আল্লাহর মাখলুক। এ জন্যেই শরীয়ত পশুরও অধিকার নিশ্চিত করেছে। তোমরা তাদের সঙ্গে সদয় আচরণ করবে। তাদের সঙ্গে যেন কোনো প্রকার সীমালঙ্ঘন করবে না।