📄 অভাবগ্রস্থ ব্যক্তিকে সুযোগ দেওয়ার ফযীলত
দ্বিতীয় বাক্যে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্থ ব্যক্তিকে সহজ করে দিলো, আল্লাহ তাকে দুনিয়া-আখেরাত উভয় জগতে সহজ করে দিবেন। যেমন কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধ করার ওয়াদা করে কোনো প্রয়োজনে ঋণ গ্রহণ করলো, কিন্তু যখন ঋণ পরিশোধের সময় হলো তখন দেখা গেলো তার সামর্থ নেই। অভাবের কারণে এখন সে ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না। এ অবস্থায় ঋণদাতার যদিও তার কাছে পাওনা তলব করার অধিকার আছে, কিন্তু সে যদি তলব না করে তাকে বলে যে, তোমার সুযোগ মতো ঋণ পরিশোধ করো; তাহলে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাত- উভয় জাহানে সহজ করে দিবেন। এ বিষয়ে কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে,
وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَى مَيْسَرَةٍ
অর্থাৎ, ঋণগ্রহীতা যদি অভাবগ্রস্থ হয়, তাহলে তার সচ্ছল হওয়া, অভাব দূর হওয়া এবং ঋণ পরিশোধের সামর্থ হওয়া পর্যন্ত তাকে অবকাশ দেওয়া একজন মুমিনের কর্তব্য।
টিকাঃ
২. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮১৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৭০৯৬, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৪৭৪, তিরমিযী শরীফে 'اعطيت جوامع الكلم' শব্দ এসেছে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৭৫৫, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৩০৩৭, বুখারী ও নাসায়ী শরীফে 'بعثت بجوامع الكلم এসেছে।
৩. বাকারাহঃ ২৮০
📄 আল্লাহ তা'আলা নম্রতা পছন্দ করেন
আল্লাহর বান্দাদের সঙ্গে নরম আচরণ করা আল্লাহর কাছে খুব প্রিয় আমল। যে ব্যক্তি কাউকে ঋণ দিলো, যে কোনো সময় ঋণ তলব করার আইনগত অধিকার তার রয়েছে। এমনকি তাকে বন্দীও করতে পারে। কিন্তু একজন মুসলমানের কাছে ইসলামের দাবি হলো, তোমার কতো পয়সা এলো আর কতো পয়সা গেলো, শুধু এ হিসাবই করো না, বরং তোমার হিসাব করা উচিত যে, একজন বান্দার সঙ্গে সদয় আচরণ করা আল্লাহর এতোই প্রিয় আমল যে, এর বিনিময়ে তিনি কিয়ামতের দিন তোমার সঙ্গে দয়ার আচরণ করবেন।
📄 কোনো মুসলমানের প্রয়োজন পূরণ করার ফযীলত
অন্য এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
مَنْ كَانَ فِي حَاجَةٍ أَخِيدِ كَانَ اللَّهُ فِي حَاجَتِهِ
কোনো ব্যক্তি যতোক্ষণ পর্যন্ত তার অপর ভাইয়ের কাজ করে দিবে বা তার কোনো প্রয়োজন পূরণ করতে থাকবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তার কাজ এবং তার প্রয়োজন পূরণ করতে থাকবেন।'
সুতরাং তুমি আমার বান্দার কাজে লেগে থাকো, আমি তোমার কাজে লেগে থাকবো।
کار ساز ما بساز کار ماه فکر ما در کار ما آزار ما 'আমাদের কর্মবিধায়ক আমাদের কর্ম সাধনে লেগে আছেন। আমাদের কর্মের বিষয়ে আমরা চিন্তা করতে আরম্ভ করলেই আমাদের যতো কষ্ট।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত হাদীসে একটি বাক্য এই ইরশাদ করেছেন,
مَنْ فَرَجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةٌ فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرُبَاتِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ 'যদি কেউ কোনো মুসলিমের একট বিপদ দূর করে দেয়, তাহলে আল্লাহ তার কিয়ামত দিবসের বিপদগুলোর একটি দূর করে দিবেন।"
টিকাঃ
৫. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২৬২, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৬৭৭, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৩৪৬
📄 আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়া করুন
বস্তুত অন্যের প্রয়োজন পূরণ করা বা অন্যের বিপদ দূর করা তখনই সম্ভব, যখন অন্তরে আল্লাহর মাখলুকের প্রতি দয়া ও ভালোবাসা থাকবে। যদি কেউ লোক দেখানোর জন্যে এ কাজগুলো করে তাহলে তার কোনোই মূল্য নেই। পক্ষান্তরে কেউ যদি চিন্তা করে যে, সে তো আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর সৃষ্টি, আমি তার সঙ্গে সদাচরণ করলে আল্লাহ আমাকে এর উত্তম বিনিময় দান করবেন, তাহলে তা অনেক মূল্যবান হয়ে যায়। আল্লাহর ভালোবাসার দাবি হলো তাঁর বান্দাকে ভালোবাসা। তাঁর বান্দার প্রতি ভালোবাসা না থাকার অর্থ হলো তাঁর প্রতিও ভালোবাসা না থাকা। এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ إِرْحَمُوا أَهْلَ الْأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ أَهْلُ السَّمَاءِ
‘যারা অন্যের উপর রহম করে, রহমান তাদের উপর রহম করেন। অতএব জমিনবাসীর উপর রহম করো, তাহলে আসমানবাসী তোমাদের উপর রহম করবেন।’
সুতরাং যতোক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর মাখলুকের প্রতি তোমাদের অন্তরে দয়া না হবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত তোমরা মুসলমান বলার উপযুক্ত নও। যতোক্ষণ আল্লাহর মাখলুকের প্রতি দয়া না করবে, ততোক্ষণ কি করে তাঁর দয়া পাওয়ার আশা করতে পারো? কারণ, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর সৃষ্টিকে ভালোবাসাও ঈমানের অন্যতম দাবি।