📘 ইসলামী খিলাফত ও নেতৃত্ব নির্বাচন 📄 উপসংহার

📄 উপসংহার


শুরুতে বর্ণিত তিনটি আয়াতের মধ্যে প্রথম আয়াতের নির্দেশ হ'লঃ আমানতকে যথাযোগ্য স্থানে সমর্পণ কর। যোগ্য নেতার নিকটে দায়িত্ব অর্পণের নিয়ম পদ্ধতি আমরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও খুলাফায়ে রাশেদীনের জীবন চরিত থেকে পেশ করেছি। দ্বিতীয় আয়াতে আমীরের আনুগত্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামী রাষ্ট্র ও সংগঠনে 'আমীর' (হুকুমদাতা) ও 'মামূর' (আদেশ পালনকারী)। এ দু'টি স্তর ব্যতীত মধ্যবর্তী কোন স্তর নেই। আমীরের অধীনে সকল মামূরের অধিকার সমান। সমাজের সর্বত্র এইরূপ আনুগত্যের আবহ সৃষ্টি হ'লে সেখানে পারষ্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পারষ্পরিক হিংসা, অহংকার ও হানাহানি থেকে সমাজ মুক্ত থাকে। এতে সামাজিক ঐক্য ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়। আনুগত্যহীন সংগঠন বা আনুগত্যহীন 'ইমারত' আল্লাহ্র কাম্য নয়। এ কারণে হাদীছে বলা হয়েছে, 'যে ব্যক্তি আমীরের আনুগত্য করল, সে আমার আনুগত্য করল এবং যে ব্যক্তি আমীরের অবাধ্যতা করল, সে আমার অবাধ্যতা করল'।
তাই আমীরের আনুগত্যে অনেক সময় দুনিয়া হারালেও আখেরাত লাভ অবশ্যম্ভাবী। ইসলামী সংগঠন ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আনুগত্যের এই নিঃস্বার্থ ও পরকালীন প্রেরণার বাস্তব প্রতিফলন রয়েছে। যা অন্য কোন সংগঠনে পাওয়া মুশকিল।
তৃতীয় আয়াতে বিবাদীয় বিষয় সমূহকে ত্বাগুতের কাছে নিয়ে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। অর্থাৎ ধর্মীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক তথা মুমিন জীবনের সকল দিক ও বিভাগে কেবল আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর বিধানের বাস্তবায়ন থাকবে, শয়তানের প্রবেশাধিকার থাকবে না। আয়াতের শেষাংশে 'শয়তান' বলতে মানবরূপী শয়তানকে বুঝানো হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরে এরা বিশিষ্ট স্থান দখল করে থাকে। এদের ভিতর ও বাহির এক নয়। দ্বীনদার মুমিনদেরকে এদের থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। যদিও দুনিয়াদারেরা সর্বদা এদের দিকেই যেতে চাইবে।
সরল-সিধা সাধারণ মানুষকে প্রতারণায় ভুলিয়ে এই ধরনের লোকেরাই আজকের সমাজে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ফলে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিগণ নেতৃত্ব থেকে দূরে থাকেন। কেউ ভোটাভুটিতে গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরাজিত হন। এছাড়াও অফিস-আদালতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও প্রশাসনে অধিকাংশ স্বার্থপর শয়তানী নেতৃত্বের হাতে এঁরা চোখ বুজে মার খান। তাই বর্তমান কালের এই নোংরা নির্বাচন ব্যবস্থার অভিশাপে বিপর্যস্ত সমাজকে বাঁচাতে হ'লে অবিলম্বে ইসলামী নেতৃত্ব ব্যবস্থা কায়েম করা আশু যরূরী।

টিকাঃ
৩০. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৬১ 'নেতৃত্ব ও পদমর্যাদা' অধ্যায়।

📘 ইসলামী খিলাফত ও নেতৃত্ব নির্বাচন 📄 ইসলামে নেতৃত্ব নির্বাচনঃ এক নজরে

📄 ইসলামে নেতৃত্ব নির্বাচনঃ এক নজরে


রাষ্ট্রের একজন নির্বাচিত 'আমীর' বা প্রেসিডেন্ট থাকবেন। তাঁর একটি মনোনীত 'মজলিসে শূরা' বা জাতীয় সংসদ থাকবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রের অন্যান্য গুণী ব্যক্তিদের নিকট থেকেও তিনি পরামর্শ গ্রহণ করবেন। এম,পি নির্বাচনের প্রচলিত প্রথা থাকবে না। দল ও প্রার্থীভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা থাকবে না। সরকারী ও বিরোধী দল বলে কিছুই থাকবে না। প্রয়োজনবোধে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে মেধা, যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রতিনিধি মনোনয়ন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে। নেতৃত্ব সৃষ্টির জন্য এবং প্রতিভা বিকাশের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সমাজকল্যাণ সংগঠন সমূহ থাকবে। জনকল্যাণমূলক বিভিন্নমুখী তৎপরতার মাধ্যমে সৃষ্টির সেবা করা, প্রশাসনকে দিক নির্দেশনা দান এবং সর্বোপরি আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভ হবে সকল সংগঠনের মূল লক্ষ্য।
মনে রাখতে হবে যে, প্রকৃত সত্য ও কল্যাণ ইসলামেই নিহিত রয়েছে। তাছাড়া পরিবেশ ও প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন হ'লেও মানব চরিত্রের কোন পরিবর্তন নেই। অতএব মানবরচিত বিভিন্ন মতবাদ যা কুরআন ও সুন্নাহ্ ঐশী বিধানের সাথে সংঘর্ষশীল, তা যতই আপাতমধুর হৌক না কেন, আখেরাতে বিশ্বাসী কোন মুমিন তা কখনোই মেনে নিতে পারে না। আল্লাহ আমাদের তাওফীক্ব দিন- আমীন!
আমরা চাই এমন একটি ইসলামী সমাজ, যেখানে থাকবেনা প্রগতির নামে কোন বিজাতীয় মতবাদ; থাকবেনা ইসলামের নামে কোনরূপ মাযহাবী সংকীর্ণতাবাদ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px