📄 নেতৃত্ব নির্বাচন ফরয না সুন্নত?
ইসলামের দৃষ্টিতে নেতৃত্ব নির্বাচন 'ফরয'। তবে 'ফরযে আয়েন' নয়, বরং 'ফরযে কেফায়াহ'। উম্মতের দায়িত্বশীল কিছু গুণী ব্যক্তি যখন পূর্বতন নেতার পরে সৎ ও যোগ্য কাউকে নেতা হিসাবে গ্রহণ করে নেন, তখন সকলের পক্ষ থেকে উক্ত ফরয আদায় হ'য়ে যায় এবং সকলকে তা মেনে নেওয়া বাধ্যতামূলক হয়। এটা 'ফরযে আয়েন' নয় যে, উম্মতের প্রাপ্ত বয়ষ্ক নারী-পুরুষ সবাইকে এ ব্যাপারে মতামত ব্যক্ত করতেই হবে।
📄 নির্বাচক কারা হবেন?
নেতৃত্ব নির্বাচনের মত ফরয হক আদায়ের কঠিন যিম্মাদারী ইসলাম গুণী-নির্গুণ, সৎ-অসৎ, যোগ্য-অযোগ্য নির্বিশেষে সকলের উপরে ন্যস্ত করেনি। বরং এই দায়িত্বের প্রধান হকদার ও যিম্মাদার হ'লেন পূর্বতন নেতা। যিনি এযাবত নেতৃত্বের বোঝা বহন করে আসছেন। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে উম্মতের কল্যাণ চিন্তা করে তিনি যাকে মনস্থ করবেন, তিনিই নেতা হবেন। যেমন হযরত আবুবকর (রাঃ) ওমর (রাঃ)-কে করে গিয়েছিলেন এবং রাসূলে করীম (ছাঃ) হযরত আবুবকর (রাঃ)-এর ব্যাপারে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছিলেন ও পরবর্তীতে ওমর ফারুক (রাঃ)-এর বায়'আতের মাধ্যমে যা কার্যকর হয়।
অমনিভাবে হযরত আব্বাস (রাঃ) হযরত আলী (রাঃ)-এর হাতে বায়'আত করে নিলে বাকী সকলে তাঁর প্রতি আনুগত্যের বায়'আত নেন।
যদি পূর্বতন নেতা কোন একক ব্যক্তিকে সর্বতোভাবে যোগ্য মনে না করেন, তবে তিনি সকলের মধ্যে যোগ্যতর একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিবেন। যারা অনধিক তিনদিনের মধ্যে বা যথাসম্ভব দ্রুত সময়ে একজনকে আবশ্যিকভাবে নেতা হিসাবে গ্রহণ করবেন ও পরে জনগণের সমর্থন নিবেন। এ পদ্ধতি হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) গ্রহণ করেছিলেন।
যদি উম্মতের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের কোন একজন বা একাধিক ব্যক্তি পূর্বতন নেতার সৎ ও যোগ্য পুত্রকে নেতা হিসাবে গ্রহণ করেন, তবে সেটাও গ্রহণযোগ্য হবে। যেমন হযরত আলী (রাঃ)-এর শাহাদতের পরে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র হযরত হাসান (রাঃ) মাত্র একজন ব্যক্তি হযরত কায়েস বিন সা'দ (রাঃ)-এর বায়'আতের মাধ্যমে খলীফা নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং সকলে তা মেনে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি হযরত মু'আবিয়া (রাঃ)-এর অনুকূলে স্বেচ্ছায় খেলাফত ত্যাগ করলে মু'আবিয়া (রাঃ) খলীফা নিযুক্ত হন।
এক্ষণে যদি পূর্বতন নেতা কাউকে অছিয়ত বা মনোনয়ন না দিয়ে যান। কিংবা কোন প্যানেল না দিয়ে যান, সে অবস্থায় তার সময়ের মজলিসে শূরার সদস্যগণ একত্রে পরামর্শের মাধ্যম পরবর্তী খলীফা বা আমীর নির্বাচন করবেন। শূরা সদস্যগণকে জাতির পক্ষ থেকে যেকোন মূল্যে এ গুরুদায়িত্ব পালন করতেই হবে। কারণ তাঁরাই হ'লেন মূল নির্বাচক। ঝামেলার অজুহাতে অন্যের হাতে ছেড়ে দিলে ফিৎনা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। যা আল্লাহ্র কাম্য নয়।
টিকাঃ
১. ওমর (রাঃ) সহ ঐ সময় সেখানে মাত্র পাঁচজন ছাহাবী উপস্থিত ছিলেন। ওমর (রাঃ)-এর পরপরই বাকী চারজন বায়'আত করেন। অতঃপর মদীনাবাসীগণ বায়'আত করেন। উক্ত চারজন হ'লেন, আবু ওবায়দাহ ইবনুল জাররাহ, উসায়েদ বিন হুযায়ের, বিশ্ব বিন সা'দ ও আবু হুযায়ফার গোলাম সালেম। আল-আহকাম, পৃঃ ৭।
📄 নির্বাচকের যোগ্যতা ও গুণাবলী
জনগণের মধ্যে সর্বদা দু'টি দল পরিলক্ষিত হয়। একদল নেতৃত্বের যোগ্যতা সম্পন্ন (أَهْلُ الإِمَامَة) এবং একদল অনুসারী ও নেতৃত্ব বাছাইকারী (أَهْلُ الْإِخْتِيَارِ)। নেতৃত্ব বাছাইয়ের জন্য নিরপেক্ষ, সৎ ও দূরদর্শী নির্বাচক মণ্ডলী অবশ্য প্রয়োজন। কেননা স্বার্থপর, অসৎ ও অদূরদর্শী ব্যক্তি কখনোই সৎ ও যোগ্য নেতা বাছাইয়ের গুরু দায়িত্ব পালন করতে পারে না। রাষ্ট্রনীতি বিশারদ পণ্ডিত আবুল হাসান আল-মাওয়ার্দী (মৃঃ ৪৫০ হিঃ) নির্বাচকের জন্য প্রধান তিনটি গুণ বর্ণনা করেছেনঃ (১) ন্যায়নিষ্ঠা (الْعَدَالَة) যেখানে কোনরূপ অন্যায় ও সংকীর্ণতা স্থান পাবেনা (২) জ্ঞান (العِلْمُ) অর্থাৎ সম্ভাব্য নেতা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা এই মর্মে যে, তাঁর মধ্যে নেতৃত্বের শর্তাবলী পূর্ণভাবে মওজুদ রয়েছে (৩) দূরদর্শিতা ও রায় দানের ক্ষমতা (الرَّأَى وَالْحِكْمَةُ) এই মর্মে যে, কে নেতৃত্বের জন্য সর্বাধিক অগ্রগণ্য ও দক্ষতা সম্পন্ন।
নেতৃত্বের জন্য উপরোক্ত তিনটি গুণের সাথে তিনি আরও চারটি গুণ তিনি যোগ করেছেনঃ (১) কান, চোখ ও জিহ্বা ঠিক থাকার মাধ্যমে দৈহিক অনুভূতি পূর্ণ মাত্রায় বহাল থাকা (২) দেহের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিক থাকা (৩) বীরত্ব ও সাহসিকতা। যাতে বিরোধী পক্ষের সাথে জিহাদ ও মোকাবিলায় তিনি যোগ্য প্রমাণিত হন (৪) কুরায়শী হওয়া। যদিও এটি সর্বাবস্থায় প্রযোজ্য নয়। তবে কুরআনের মৌলিক নির্দেশ অনুযায়ী শূরা সদস্যদের প্রত্যেককে তাক্বওয়াশীল হওয়া অপরিহার্য (হুজুরাত ১৩)। কোন অবস্থাতেই তাঁরা দ্বীন ও তাক্বওয়া হাত ছাড়া করতে পারবেন না।
নেতৃত্ব দান ও নেতৃত্ব বাছাই দু'টিই বড় কঠিন বিষয়। ইসলাম এ দু'টিকে সুশৃংখলভাবে সমাজ পরিচালনার স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। আর এজন্যেই মুসলমানদের তিনজন একস্থানে থাকলেও তাদের মধ্যে একজনকে 'আমীর' নিয়োগ করতে বলা হয়েছে। এমনকি একটি রাত ও একটি সকালও আমীর বিহীন জীবনযাপন করতে নিষেধ করা হয়েছে।
টিকাঃ
২. আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ বাছরী আল-মাওয়ার্দী, আল-আহকামুস সুলত্বা-নিইয়াহ (বৈরুতঃ দারুল কুতুবিল ইলমিইয়াহ, তাবি) পৃঃ ৬।
৩. আহমাদ হা/৬৬৪৭, ১০/১৩৪ পৃঃ; হাকেম ১/৪৪৩, আবুদাউদ, মিশকাত হা/৩৯১১; ছাহীহাহ হা/১৩২২।
৪. ইবনু আসাকির, ফাতাওয়া ওলামায়ে কেরাম (করাচী) পৃঃ ১০, ৪৩।
📄 আনুগত্যের গুরুত্ব
নেতৃত্বের সাথে ওৎপ্রোতভাবে আনুগত্যের বিষয়টি গুরুত্ব জড়িত। নেতা ফেরেশতা নন। অনেক সময় নেতার অনেক সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হবে কিংবা অপসন্দনীয় হবে। এমনকি কর্মীর চাইতে নেতা নিম্নমানের হবেন।
(১) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, مَنْ رَأَى مِنْ أَمِيرِهِ شَيْئًا يَكْرَهُهُ فَلْيَصْبِرْ ، فَإِنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ يُفَارِقُ الْجَمَاعَةَ شِبْرًا فَيَمُوتُ إِلَّا مَاتَ مِيْتَةً جَاهِلِيَّةً
'যখন কেউ তার আমীরের কাছ থেকে অপসন্দনীয় কোন আচরণ দেখবে, তখন সে যেন ছবর করে। কেননা যে ব্যক্তি জামা'আত হ'তে এক বিঘত পরিমাণ পৃথক হয়ে মারা গেল, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল'।
(২) অন্য হাদীছে এসেছে, তোমরা নেতার আদেশ শোন এবং তা পালন কর, যদিও নেতা হাবশী গোলাম হন বা নাক-কান কাটা হন। কিন্তু আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী নির্দেশ দেন'।
(৩) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন,
مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ عَصَى اللَّهَ، وَمَنْ يُطِعِ الأَمِيرَ فَقَدْ أَطَاعَنِي وَمَنْ يَعْصِ الأَمِيرَ فَقَدْ عَصَانِي، وَإِنَّمَا الإِمَامُ جُنَّةً يُقَاتَلُ مِنْ وَرَاءِهِ وَيُتَّقَى بِهِ، فَإِنْ أَمَرَ بِتَقْوَى اللَّهِ وَعَدَلَ فَإِنَّ لَهُ بِذَلِكَ أَجْرًا، وَإِنْ قَالَ بِغَيْرِهِ فَإِنَّ عَلَيْهِ مِنْهُ (متفق عليه)-
'যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহ্র আনুগত্য করল এবং যে ব্যক্তি আমার অবাধ্যতা করল, সে আল্লাহর অবাধ্যতা করল। যে ব্যক্তি আমীরের আনুগত্য করল, সে আমার আনুগত্য করল এবং যে ব্যক্তি আমীরের অবাধ্যতা করল, আমার অবাধ্যতা করল। আমীর হ'লেন ঢাল স্বরূপ। যাঁর পিছনে থেকে লড়াই করা হয় ও যাঁর মাধ্যমে নিজেকে বাঁচানো হয়। যদি আমীর আল্লাহ ভীতির নির্দেশ দেন ও ন্যায় বিচার করেন, তাহ'লে এর বিনিময়ে তিনি পুরষ্কারপ্রাপ্ত হবেন। আর যদি বিপরীত কিছু বলেন, তাহ'লে তার গোনাহ তার উপরেই বর্তাবে'।
(৪) আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) বলেন,
سَمِعْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ خَلَعَ يَدًا مِّنْ طَاعَةٍ لَقِيَ اللَّهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ حُجَّةَ لَهُ، وَمَنْ مَاتَ وَلَيْسَ فِي عُنُقِهِ بَيْعَةٌ مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةٌ (رواه مسلم)-
'আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আমীরের প্রতি আনুগত্যের হাত ছিনিয়ে নিল, সে ব্যক্তি ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে এমন অবস্থায় যে, তার জন্য (ওযর স্বরূপ) কোন দলীল থাকবে না। যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল এমন অবস্থায় যে, তার গর্দানে আমীরের প্রতি আনুগত্যের বায়'আত নেই, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল'।
(৫) আবু উমামাহ (রাঃ) বলেন, বিদায় হজ্জের শেষ ভাষণে আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, اتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ وَصَلُّوا خَمْسَكُمْ وَصُومُوا شَهْرَكُمْ وَأَدُّوا زَكَاةَ أَمْوَالِكُمْ وَأَطِيعُوا ذَا أَمْرِكُمْ تَدْخُلُوا جَنَّةَ رَبِّكُمْ
(১) 'তোমাদের প্রভু আল্লাহকে ভয় কর (২) পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় কর (৩) রামাযানের ছিয়াম পালন কর (৪) যাকাত আদায় কর (৫) আমীরের আনুগত্য কর, তোমাদের প্রভুর জান্নাতে প্রবেশ কর'। অত্র হাদীছে আমীরের আনুগত্যকে ছালাত, যাকাত, ছিয়াম ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের সাথে যুক্ত করা হয়েছে এবং একে জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম প্রধান কারণ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এতেই আমীরের আনুগত্যের গুরুত্ব অনুধাবন করা যেতে পারে।
উক্ত 'ইমারত' শারঈ ইমারত হ'তে পারে বা রাষ্ট্রীয় ইমারত হ'তে পারে। কিংবা দু'টিই একত্রে হ'তে পারে। সকল পর্যায়ের আমীরের প্রতি বায়'আত ও আনুগত্য করা যরূরী। শারঈ বা সাংগঠনিক আমীর 'হদ' জারি করবেন না বা জিহাদ ঘোষণা করবেন না। কেননা এ দায়িত্ব কেবলমাত্র রাষ্ট্রীয় আমীরের জন্য নির্দিষ্ট। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মাক্কী জীবনে শারঈ আমীর ছিলেন। তখন তাঁর প্রতি 'হদ' জারি করার নির্দেশ আসেনি। অতঃপর মাদানী জীবনে রাষ্ট্রীয় আমীর হন। তখন তাঁর উপরে 'হদ' জারি করার ও 'জিহাদ' ঘোষণা করার নির্দেশ অবতীর্ণ হয়। কিন্তু উভয় অবস্থায় তাঁর বায়'আত ও আনুগত্য উম্মতের উপরে ফরয ছিল। অতএব সর্বাবস্থায় একজন শারঈ আমীরের অধীনে ঐক্যবদ্ধভাবে ইসলামী অনুশাসন মোতাবেক জামা'আতী যিন্দেগী যাপন করা মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। ইসলামী রাষ্ট্র থাক বা না থাক, সেটা কোন শর্ত নয়।
আমীর 'কুরায়শী' হওয়াও শর্ত নয়। সেকারণ ইমাম মাওয়ার্দী বলেন, 'উত্তম ব্যক্তি পাওয়া সত্ত্বেও অনুত্তম ব্যক্তিকে আমীর নিয়োগ করা যাবে, যদি তাঁর মধ্যে নেতৃত্বের শর্তাবলী পাওয়া যায়'। কেননা নির্বাচকদের জন্য উত্তম গুণাবলীর অধিক প্রয়োজন এবং নেতা হওয়ার জন্য অধিক প্রয়োজন হ'ল যোগ্যতার। যদি কোন স্থানে একজনের মধ্যেই গুণাবলী ও যোগ্যতার উভয় শর্ত পাওয়া যায়, তাহ'লে তাঁর নিকটেই নেতৃত্ব রেখে দিতে হবে। অন্যত্র দেওয়া যাবে না। যেমন যোগ্যতা ও গুণাবলী অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত একজন বিচারপতিকে তাঁর বিচারাসন থেকে সরানো যায় না, অনুরূপভাবে সৎ ও যোগ্য নেতাকেও তাঁর নেতৃত্ব থেকে সরানো জায়েয নয়' (ঐ)। ফলে মেয়াদ ভিত্তিক নেতা নির্বাচনের বিষয়টি ইসলামে আবশ্যিক নয়। নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য লটারী করাও জায়েয নয়।
বরং এর জন্য প্রয়োজন ঠান্ডা মাথায় নিরপেক্ষ ও দূরদর্শী চিন্তাধারার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। সেকারণ নেতা আবশ্যক বিবেচনা করলে নির্ধারিত সংখ্যক নির্বাচক মণ্ডলী নিয়োগ করবেন। যেমন হযরত ওমর (রাঃ) মুসলিম উম্মাহ্র নেতা নির্বাচনের জন্য মৃত্যুর পূর্বে আশারায়ে মুবাশশারাহ্ ছয়জনকে বাছাই করে দায়িত্ব দিয়েছিলেন তাঁদের মধ্য থেকে একজনকে পরবর্তী খলীফা নির্বাচনের জন্য। এ দায়িত্ব তিনি সাধারণ জনগণকে দেননি। কারণ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যা যেকোন ব্যক্তির হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না।
টিকাঃ
৫. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৬৮ 'ইমারত' অধ্যায়।
৬. বুখারী, মিশকাত হা/৩৬৬৩।
৭. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৬১; ঐ, বঙ্গানুবাদ ৭/২২৫-২৬ পৃঃ 'নেতৃত্ব ও পদমর্যাদা' অধ্যায়।
৮. মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৭৪; ঐ, বঙ্গানুবাদ ৭/২৩৪ পৃঃ।
৯. ছহীহ তিরমিযী, হা/৫০২ 'ছালাত' অধ্যায়ের সর্বশেষ হাদীছ।
১০. আল-আহকাম পৃঃ ৯।