📘 ইসলামী খিলাফত ও নেতৃত্ব নির্বাচন 📄 নেতৃত্ব নির্বাচন

📄 নেতৃত্ব নির্বাচন


إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا، وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ إِنَّ اللهَ نِعِمَّا يَعِظُكُمْ بِهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعًا بَصِيرًا يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولى الْأَمْرِ مِنْكُمْ، فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً . أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَنْ يُتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَنْ يَكْفُرُوا بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُضِلَّهُمْ ضَلَالًا بَعِيدًا .
অনুবাদঃ 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন এ বিষয়ে যে, তোমরা আমানত সমূহ যথাযোগ্য স্থানে সমর্পণ কর। আর যখন তোমরা মানুষের মাঝে বিচার-ফায়ছালা করবে, তখন ন্যায় বিচার করবে। আল্লাহ তোমাদেরকে সুন্দরতম উপদেশ দান করে থাকেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা (নিসা ৫৮)। হে ঈমানদারগণ! তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ্র এবং আনুগত্য কর আমার রাসূলের ও তোমাদের নেতৃবৃন্দের। যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদ কর, তাহ'লে বিষয়টিকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও। যদি তোমরা আল্লাহ ও ক্বিয়ামত দিবসের উপরে বিশ্বাসী হও। আর এটাই (তোমাদের জন্য) কল্যাণকর ও পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম (৫৯)। আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা ধারণা করে যে, যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা আপনার পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছে, সবকিছুর উপরে তারা ঈমান এনেছে। অথচ তারা তাদের বিরোধীয় বিষয়কে শয়তানের কাছে নিয়ে যেতে চায়। যদিও তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা ওকে প্রত্যাখ্যান করে। আর শয়তান তাদেরকে দূরতম ভ্রষ্টতায় নিক্ষেপ করতে চায়' (নিসা ৬০)।
ব্যাখ্যাঃ সূরা নিসা-র উপরোক্ত তিনটি আয়াতে দায়িত্ব ও নেতৃত্ব যথাযোগ্য স্থানে অর্পণ, নেতৃত্ব নির্বাচন ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন এবং সকল বিরোধীয় বিষয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রদত্ত সিদ্ধান্তকে সর্বান্তঃকরণে গ্রহণ ও কোন অবস্থাতেই শয়তানের অনুসরণ না করার জন্য মুসলিম উম্মাহ্র প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম আয়াতে 'আমানাত' শব্দটিকে বহুবচন আনা হয়েছে। যার দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, শুধু বস্তুগত কোন আমানত নয় বরং জীবন ও সমাজ পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে যখনই যে দায়িত্ব ন্যস্ত হবে সবই আল্লাহ্ পবিত্র আমানত। নিয়োগ ও বরখাস্তের মালিক সকল নেতা ও কর্মকর্তা উক্ত আমানতের যিম্মাদার। কাজেই উক্ত আমানত যেমন কোন অযোগ্য ব্যক্তির নিকটে সমর্পণ করা যাবে না। তেমনি প্রতিটি পদের জন্য নিজের ক্ষমতা ও সাধ্যানুযায়ী যোগ্য ব্যক্তি তালাশ করা নেতার জন্য অবশ্য কর্তব্য। এক্ষণে প্রশ্ন হ'লঃ সমাজ পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্য নেতা বাছাই করার পন্থা কি?

📘 ইসলামী খিলাফত ও নেতৃত্ব নির্বাচন 📄 নেতৃত্ব নির্বাচনের পন্থাসমূহ

📄 নেতৃত্ব নির্বাচনের পন্থাসমূহ


নেতৃত্ব বাছাই বা নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য এযাবৎ চারটি পন্থা দেখা গেছে। যথা- অছিয়ত বা নামকরণ ভিত্তিক, পরামর্শভিত্তিক, রাজতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক।
প্রথমোক্ত পন্থায় পূর্বতন নেতা স্বীয় পসন্দমত পরবর্তী নেতার নাম বলে যান, যা ১. কলে মেনে নেন।
দ্বিতীয় পন্থায় পূর্বতন নেতা যোগ্য ব্যক্তিদের সাথে নিজে পরামর্শ করেন ও সে ভিত্তিতে একজনকে নেতা নির্বাচন করে দেন অথবা একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করে দেন, যারা সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করেন ও সে ভিত্তিতে উক্ত কমিটি পরবর্তীতে নেতা নির্বাচন করেন।
তৃতীয় পন্থায় রাজা স্বীয় সন্তানদের মধ্যে যাকে যোগ্য মনে করেন, তাকে পরবর্তী 'রাজা' হিসাবে ঘোষণা করেন, যা অন্যেরা মেনে নেন।
চতুর্থ পন্থায় পূর্বতন নেতার কোন ভূমিকা থাকে না। বরং প্রাপ্ত বয়স্ক প্রজাসাধারণের অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট মেয়াদ অন্তে একটি দল বা কখনো কখনো একজন নেতা নির্বাচিত হ'য়ে থাকেন। তবে বহুদলীয় গণতন্ত্রে সরাসরি নেতা নির্বাচিত হন না। বরং দলের মনোনীত বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ নির্বাচিত হন এবং তারাই দলনেতাকে দেশের নেতা নির্বাচিত করেন, যদি দলনেতা নিজে নির্বাচিত হ'তে পারেন। শেষোক্ত পন্থায় অনেকগুলি দল নেতৃত্ব পাওয়ার জন্য নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। অতঃপর পরাজিত দল সমূহের প্রাপ্ত সম্মিলিত সমর্থন যদি বিজয়ী দলের চাইতে বেশীও হয়, তথাপি অন্য দলসমূহের প্রাপ্ত পৃথক পৃথক সমর্থনের তুলনায় বিজয়ী সংখ্যালঘু দলটির নেতাই দেশের নেতা হ'য়ে থাকেন। বর্তমান পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে এই নিয়মে নেতৃত্ব নির্বাচন চলছে। শুধু দেশের নেতাই নন বরং স্থানীয় সংস্থা সমূহে এমনকি মসজিদ-মাদরাসার কমিটি গঠনেও এই নিয়ম চালু হয়েছে। শোষোক্ত পন্থায় নেতা নির্বাচনের মূল দায়িত্ব থাকে সাধারণ জনগণের হাতে। ফলে জনগণের আবেগ-অনুভূতিকে সুযোগ মত কাজে লাগানোই থাকে দলনেতাদের প্রধান কাজ।

📘 ইসলামী খিলাফত ও নেতৃত্ব নির্বাচন 📄 নেতৃত্বের গুরুত্ব

📄 নেতৃত্বের গুরুত্ব


সমাজ পরিচালনার জন্য নেতৃত্ব একটি অপরিহার্য বিষয়। মানুষের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত নে'মত সমূহের মধ্যে অন্যতম সেরা নে'মত হ'ল নেতৃত্বের যোগ্যতা। এই যোগ্যতা ও গুণ সীমিত সংখ্যক লোকের মধ্যেই আল্লাহ দিয়ে থাকেন। বাকীরা তাদের অনুসরণ করেন। তবে নবী ব্যতিত অন্য নেতাদেরকে আল্লাহ পাক সরাসরি নিয়োগ করেন না। বরং বান্দাদেরকেই নির্দেশ দিয়েছেন তাদের মধ্য থেকে যোগ্য নেতা বাছাইয়ের জন্য। যদিও নেতা আল্লাহ প্রদত্ত তার নিজস্ব গুণ ও যোগ্যতা বলেই অন্যদের থেকে স্পষ্ট হ'য়ে যান। তবুও নেতৃত্ব যেহেতু চেয়ে নেওয়ার বিষয় নয়, সেহেতু অন্যদেরকেই নেতৃত্ব বাছাই করে তাকে তা অর্পণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নেতা নির্বাচিত হওয়ার পরে তার পিছনে একটি জামা'আত কায়েম হবে। এই জামা'আত তার নেতার পিছনে আনুগত্যশীল ও ঐক্যবদ্ধ থাকবে। যে জামা'আত তার নেতার প্রতি যত বেশী শ্রদ্ধাশীল ও অনুগত, সে জামা'আত তত বেশী শক্তিশালী ও সংহত। ইসলামী জামা'আতের স্তম্ভ হ'ল তিনটিঃ আমীর, মা'মূর ও ইত্বা'আত অর্থাৎ আদেশদাতা, আদেশ মান্যকারী ও আনুগত্যশীলতা। এ তিনটি স্তম্ভের কোন একটি না থাকলে জামা'আত ধ্বংস হয় এবং সাথে সাথে জামা'আতী শক্তি ও মর্যাদা বিলুপ্ত হয়।
নেতৃত্বের গুরুত্ব গাড়ীর ড্রাইভারের মত বা বিমানের ক্যাপ্টেনের মত। যাকে একই সঙ্গে যেমন যোগ্য ও সদা-সতর্ক থাকতে হয়, তেমনি সর্বতোভাবে যিম্মাদার হ'তে হয়। যে সমাজে যত যোগ্য নেতার সমাবেশ ঘটবে, সে সমাজ তত দ্রুত অগ্রগতি লাভ করবে। নেতৃত্ব নির্বাচনের গুরুত্ব ইসলামে সবচাইতে বেশী। সেকারণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মৃত্যুর পরে মুসলমানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল খলীফা নির্বাচন। আবুবকর ছিদ্দীক্ব (রাঃ) মৃত্যুর সময় এটাকেই সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়েছিলেন। ওমর ফারুক (রাঃ) যখমে কাতর অবস্থায় এটাকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়টি কোন হেলা-খেলার বস্তু নয় যে, যার তার হাতে এ দায়িত্ব ন্যস্ত করা যায়।

📘 ইসলামী খিলাফত ও নেতৃত্ব নির্বাচন 📄 নেতৃত্ব নির্বাচন ফরয না সুন্নত?

📄 নেতৃত্ব নির্বাচন ফরয না সুন্নত?


ইসলামের দৃষ্টিতে নেতৃত্ব নির্বাচন 'ফরয'। তবে 'ফরযে আয়েন' নয়, বরং 'ফরযে কেফায়াহ'। উম্মতের দায়িত্বশীল কিছু গুণী ব্যক্তি যখন পূর্বতন নেতার পরে সৎ ও যোগ্য কাউকে নেতা হিসাবে গ্রহণ করে নেন, তখন সকলের পক্ষ থেকে উক্ত ফরয আদায় হ'য়ে যায় এবং সকলকে তা মেনে নেওয়া বাধ্যতামূলক হয়। এটা 'ফরযে আয়েন' নয় যে, উম্মতের প্রাপ্ত বয়ষ্ক নারী-পুরুষ সবাইকে এ ব্যাপারে মতামত ব্যক্ত করতেই হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px